ঢাকা ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্যাডার দিয়ে তুলে নিয়ে ছাত্রী ধর্ষণ: সাতজন রিমান্ডে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ায় ছাত্রী ধর্ষণ ও পরে মাসহ তার মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া এজাহারভুক্ত আরও ছয় আসামিসহ সাতজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর মধ্যে বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া আক্তারকে ৪ দিনের ও অন্যদের ২ দিন করে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে।এ ঘটনায় করা নির্যাতনের মামলায় আজ সোমবার বগুড়ার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম শ্যামসুন্দর রায় এ আদেশ দেন।

রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া অন্য আসামিরা হলেন ঘটনার মূল হোতা তুফান সরকারের শাশুড়ি ও মার্জিয়া আক্তারের মা রুমি বেগম, বাবা জামিলুর রহমান, তুফান সরকারের স্ত্রী আশা সরকার, দুই সহযোগী জিতু ও মুন্না এবং ক্ষৌরকার জীবন রবী দাস।বগুড়ার ওই ঘটনায় দুটি আলাদা মামলা হয়। অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা এবং ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে মা-মেয়েকে নির্যাতন করার ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়। দুটি মামলায় এজাহারে মোট ১০ জন আসামির নাম উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ বেলা সাড়ে তিনটায় পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যম এ ঘটনা জানার আগেই পুলিশ তৎপর ছিল। মামলা হওয়ার আগেই অভিযোগ পেয়েই পুলিশ মূল হোতাসহ চারজনকে আটক করে।

গতকাল রোববার ঢাকার সাভার ও পাবনা শহর থেকে তুফানের স্ত্রী আশা সরকার, কাউন্সিলর মার্জিয়া আক্তার ওরফে রুমকি, তাঁর মা রুমি বেগম, তুফানের দুই সহযোগী জিতু ও মুন্নাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ছাড়া গতকাল রাত আটটার দিকে বগুড়া শহরের বাদুরতলায় নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কাউন্সিলর মার্জিয়া আক্তারের বাবা জামিলুর রহমানকে। তাঁকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। আর আজ বেলা আড়াইটার দিকে বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকা থেকে ক্ষৌরকার জীবন রবী দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকেও সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি গাবতলী উপজেলার সোনারায় গ্রামে।

১৭ জুলাই বাড়ি থেকে ক্যাডার দিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে এক ছাত্রীকে বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকার ধর্ষণ করেন। ঘটনা ধামাচাপা দিতে দলীয় ক্যাডার এবং এক নারী কাউন্সিলরকে ধর্ষণের শিকার মেয়েটির পেছনে লেলিয়ে দেন। শুক্রবার বিকেলে তাঁরা ওই ছাত্রী ও তার মাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে চার ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালান। এরপর দুজনেরই মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়।

গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনার তুফান ও তাঁর তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে তুফান ও শহরের চকসূত্রাপুর কসাইপট্টির আলী আজম ওরফে ডিপু এবং কালীতলা এলাকার রূপমকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। আর আতিকুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় তাঁকে রিমান্ডে চাওয়া হয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পোস্টাল ভোটে অনিয়ম করলে প্রবাসীদের দেশে ফেরত আনার হুঁশিয়ারি ইসির

ক্যাডার দিয়ে তুলে নিয়ে ছাত্রী ধর্ষণ: সাতজন রিমান্ডে

আপডেট সময় ১২:০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ায় ছাত্রী ধর্ষণ ও পরে মাসহ তার মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া এজাহারভুক্ত আরও ছয় আসামিসহ সাতজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর মধ্যে বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া আক্তারকে ৪ দিনের ও অন্যদের ২ দিন করে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে।এ ঘটনায় করা নির্যাতনের মামলায় আজ সোমবার বগুড়ার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম শ্যামসুন্দর রায় এ আদেশ দেন।

রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া অন্য আসামিরা হলেন ঘটনার মূল হোতা তুফান সরকারের শাশুড়ি ও মার্জিয়া আক্তারের মা রুমি বেগম, বাবা জামিলুর রহমান, তুফান সরকারের স্ত্রী আশা সরকার, দুই সহযোগী জিতু ও মুন্না এবং ক্ষৌরকার জীবন রবী দাস।বগুড়ার ওই ঘটনায় দুটি আলাদা মামলা হয়। অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা এবং ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে মা-মেয়েকে নির্যাতন করার ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়। দুটি মামলায় এজাহারে মোট ১০ জন আসামির নাম উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ বেলা সাড়ে তিনটায় পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যম এ ঘটনা জানার আগেই পুলিশ তৎপর ছিল। মামলা হওয়ার আগেই অভিযোগ পেয়েই পুলিশ মূল হোতাসহ চারজনকে আটক করে।

গতকাল রোববার ঢাকার সাভার ও পাবনা শহর থেকে তুফানের স্ত্রী আশা সরকার, কাউন্সিলর মার্জিয়া আক্তার ওরফে রুমকি, তাঁর মা রুমি বেগম, তুফানের দুই সহযোগী জিতু ও মুন্নাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ছাড়া গতকাল রাত আটটার দিকে বগুড়া শহরের বাদুরতলায় নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কাউন্সিলর মার্জিয়া আক্তারের বাবা জামিলুর রহমানকে। তাঁকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। আর আজ বেলা আড়াইটার দিকে বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকা থেকে ক্ষৌরকার জীবন রবী দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকেও সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি গাবতলী উপজেলার সোনারায় গ্রামে।

১৭ জুলাই বাড়ি থেকে ক্যাডার দিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে এক ছাত্রীকে বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকার ধর্ষণ করেন। ঘটনা ধামাচাপা দিতে দলীয় ক্যাডার এবং এক নারী কাউন্সিলরকে ধর্ষণের শিকার মেয়েটির পেছনে লেলিয়ে দেন। শুক্রবার বিকেলে তাঁরা ওই ছাত্রী ও তার মাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে চার ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালান। এরপর দুজনেরই মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়।

গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনার তুফান ও তাঁর তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে তুফান ও শহরের চকসূত্রাপুর কসাইপট্টির আলী আজম ওরফে ডিপু এবং কালীতলা এলাকার রূপমকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। আর আতিকুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় তাঁকে রিমান্ডে চাওয়া হয়নি।