ঢাকা ০২:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বহির্বিশ্বেও প্রচলিত: রিজভী শহীদুল্লাহ হলে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডের’ তদন্তকে কেন্দ্র করে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ পাকিস্তানে ‘শান্তি সমাবেশ’ চলাকালে বিস্ফোরণ, নিহত ১৩ ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম ‘জনগণকে মালিক মনে করে সরকার কাজ করছে’ ‘নিজস্ব মব না থাকলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না’ মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতের পরামর্শে রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করছে এনসিপি : রাশেদ খান জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাবা-দাদার বয়সী নেতাদের প্রতারণা বুঝতে পারিনি: আসিফ মাহমুদ

দুর্নীতির নেপথ্যে আমরা সবাই: দুদক চেয়ারম্যান

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশে দুর্নীতির প্রকোপ ব্যাপক জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনঅংশগ্রহণও কম।

রবিবার দুপুরে দুদক কার্যালয়ে টিআইবির প্রকাশিত রিপোর্ট ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে সংস্থাটির প্রধান এ কথা বলেন।

দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্খা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সবশেষ সূচকে বিশ্বে বাংলাদেশে দুই ধাপ উন্নতি এবং এক বছরে দুই পয়েন্ট স্কোর বাড়ার খবরেও খুশি নন বলেও জানান দুদক চেয়ারম্যান।

এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দুর্নীতির নেপথ্যে আমরা সবাই। দুর্নীতি হচ্ছে, তবে প্রতিরোধ করতে পারছি না। দুর্নীতি দমন কমিশনও পারছে না, ব্যাপক জনগণের অংশগ্রহণও হচ্ছে না।’

‘তাই যে গতিতে বা যতটুকু কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করা দরকার ছিল, সেটুকু পারছি না।’

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির সূচকের বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশে অনেক দুর্নীতি। কোনো কোনো দেশে মাত্র এক পয়েন্ট কমেছে। দুই পয়েন্ট সম্ভবত ১০-১২টি দেশ। দুই পয়েন্ট কমানো এত সহজ বিষয় নয়। তবে আমি মনে করি আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই।’

১৯৯৫ সাল থেকেই বার্লিনভিত্তিক টিআই দুর্নীতির ধারণা সূচক প্রকাশ করে আসছে। ২০০১ সালে বাংলাদেশ প্রথম এই সূচকের অন্তর্ভুক্ত হয়। আর প্রথম বছরেই ০.৪৩ (বর্তমান মানদণ্ডে ৪.৩) স্কোর নিয়ে তালিকায় সবার তলানিতে পড়ে বাংলাদেশ। আর বিশ্বের সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তকমা লাগায় সে সময় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে তোপের মুখে পড়তে হয়। যদিও সে বছরই ক্ষমতায় আসা বিএনপির চার বছরেও সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্থ দেশের লজ্জায় পড়তে হয় বাংলাদেশের।

আর ২০০৬ সালে বিএনপির শাসনামলের শেষ বছরেই বাংলাদেশ এই লজ্জা থেকে বের হয়ে আসে। আর গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা সবশেষ প্রতিবেদন অনুসারে এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৭তে। আর এক বছরে বাংলাদশের স্কোর দুই পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮এ।

টিআই এর বাংলাদেশ শাখা টিআইবি জানিয়েছে, বিশ্বের গড় স্কোর ৪৩। আর এই স্কোরে না যাওয়া পর‌্যন্ত স্বস্তিতে থাকার ‍সুযোগ নেই।

বড় বড় দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না দুদক- টিআইবি প্রধান ইফতেখারুজ্জামানের এমন মন্তব্যেরও প্রতিক্রিয়া দেন দুদক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘বিষয়টার সঙ্গে মোটেও একমত নই। দুর্নীতিবাজের মধ্যে বড়–ছোট বলে কিছু নেই। দুর্নীতিবাজ দুর্নীতিবাজই। বড়–ছোট বিভাজন করলে এটা খারাপ উদাহরণ হবে।’

সব দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া সঙ্গত। বড়–ছোট করলে কমবে না। অর্থ পাচার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দুদক প্রধান বলেন, ‘এটা সত্য। তবে এ সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, এটা বৈশ্বিক সমস্যা। বিশ্বের সব জায়াগায় অর্থ পাচার হচ্ছে।’

দুদক কেন ব্যবস্থা নিতে পারছে না-এমন প্রশ্নে জবাব আসে, ‘এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধানের আইনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ, মানিলন্ডারিং আইনে দুদক কেবল সরকারি কর্মকর্তাদের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে। বেসরকারি পর্যায়ে তদন্ত করবে এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংকের এফআইইউ বা সিআইডি।’

ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতির বিষয়ে দুদক উদাসীন কি না জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘কমিশন কোনো ব্যক্তির সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয় দেখে না। কমিশন কারো প্রতি অতি উৎসাহী বা অতি উদাসিনতা দেখায় না। মামলা হয় অনুসন্ধানের ভিত্তিতে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বহির্বিশ্বেও প্রচলিত: রিজভী

দুর্নীতির নেপথ্যে আমরা সবাই: দুদক চেয়ারম্যান

আপডেট সময় ১১:০৯:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশে দুর্নীতির প্রকোপ ব্যাপক জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনঅংশগ্রহণও কম।

রবিবার দুপুরে দুদক কার্যালয়ে টিআইবির প্রকাশিত রিপোর্ট ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে সংস্থাটির প্রধান এ কথা বলেন।

দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্খা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সবশেষ সূচকে বিশ্বে বাংলাদেশে দুই ধাপ উন্নতি এবং এক বছরে দুই পয়েন্ট স্কোর বাড়ার খবরেও খুশি নন বলেও জানান দুদক চেয়ারম্যান।

এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দুর্নীতির নেপথ্যে আমরা সবাই। দুর্নীতি হচ্ছে, তবে প্রতিরোধ করতে পারছি না। দুর্নীতি দমন কমিশনও পারছে না, ব্যাপক জনগণের অংশগ্রহণও হচ্ছে না।’

‘তাই যে গতিতে বা যতটুকু কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করা দরকার ছিল, সেটুকু পারছি না।’

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির সূচকের বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশে অনেক দুর্নীতি। কোনো কোনো দেশে মাত্র এক পয়েন্ট কমেছে। দুই পয়েন্ট সম্ভবত ১০-১২টি দেশ। দুই পয়েন্ট কমানো এত সহজ বিষয় নয়। তবে আমি মনে করি আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই।’

১৯৯৫ সাল থেকেই বার্লিনভিত্তিক টিআই দুর্নীতির ধারণা সূচক প্রকাশ করে আসছে। ২০০১ সালে বাংলাদেশ প্রথম এই সূচকের অন্তর্ভুক্ত হয়। আর প্রথম বছরেই ০.৪৩ (বর্তমান মানদণ্ডে ৪.৩) স্কোর নিয়ে তালিকায় সবার তলানিতে পড়ে বাংলাদেশ। আর বিশ্বের সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তকমা লাগায় সে সময় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে তোপের মুখে পড়তে হয়। যদিও সে বছরই ক্ষমতায় আসা বিএনপির চার বছরেও সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্থ দেশের লজ্জায় পড়তে হয় বাংলাদেশের।

আর ২০০৬ সালে বিএনপির শাসনামলের শেষ বছরেই বাংলাদেশ এই লজ্জা থেকে বের হয়ে আসে। আর গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা সবশেষ প্রতিবেদন অনুসারে এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৭তে। আর এক বছরে বাংলাদশের স্কোর দুই পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮এ।

টিআই এর বাংলাদেশ শাখা টিআইবি জানিয়েছে, বিশ্বের গড় স্কোর ৪৩। আর এই স্কোরে না যাওয়া পর‌্যন্ত স্বস্তিতে থাকার ‍সুযোগ নেই।

বড় বড় দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না দুদক- টিআইবি প্রধান ইফতেখারুজ্জামানের এমন মন্তব্যেরও প্রতিক্রিয়া দেন দুদক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘বিষয়টার সঙ্গে মোটেও একমত নই। দুর্নীতিবাজের মধ্যে বড়–ছোট বলে কিছু নেই। দুর্নীতিবাজ দুর্নীতিবাজই। বড়–ছোট বিভাজন করলে এটা খারাপ উদাহরণ হবে।’

সব দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া সঙ্গত। বড়–ছোট করলে কমবে না। অর্থ পাচার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দুদক প্রধান বলেন, ‘এটা সত্য। তবে এ সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, এটা বৈশ্বিক সমস্যা। বিশ্বের সব জায়াগায় অর্থ পাচার হচ্ছে।’

দুদক কেন ব্যবস্থা নিতে পারছে না-এমন প্রশ্নে জবাব আসে, ‘এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধানের আইনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ, মানিলন্ডারিং আইনে দুদক কেবল সরকারি কর্মকর্তাদের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে। বেসরকারি পর্যায়ে তদন্ত করবে এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংকের এফআইইউ বা সিআইডি।’

ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতির বিষয়ে দুদক উদাসীন কি না জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘কমিশন কোনো ব্যক্তির সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয় দেখে না। কমিশন কারো প্রতি অতি উৎসাহী বা অতি উদাসিনতা দেখায় না। মামলা হয় অনুসন্ধানের ভিত্তিতে।’