ঢাকা ০২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নগদ অর্থের ব্যবহার কমাতে স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম বৈঠক আওয়ামী লীগের নৈতিক সাহস নেই, নাশকতার ক্ষমতা আছে : ডা. জাহেদ নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রম চোখে পড়া জাতির জন্য ব্যর্থতা: সেতুমন্ত্রী জনগণ ঐক্যবদ্ধ, দেশকে আর দিল্লির গোলাম বানানো যাবে না: রিজভী ধানমন্ডি ৩২-এ জামায়াতের বিক্ষোভ শেষে সাংবাদিকের ওপর হামলা পেপ্যালসহ কয়েকটি প্ল্যাটফরম বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে : অর্থমন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২-এ জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল জোড়া গোলে শীর্ষ ছুঁলেন মেসি, অস্ট্রিয়াকে ২-০তে হারাল আর্জেন্টিনা মালয়েশিয়া থেকে বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য : মাহদী আমিন পেনশন কার্যক্রম দ্রুত সম্পাদনে সিএজি’র নির্দেশনা

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি শেষ নিম্ন আদালতের নথি আসার পর আদেশ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে, নিম্ন আদালতের নথি আসার পর আদেশ।

এর আগে, খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে করা জামিনের ওপর শুনানির শুরুতেই এজলাস ছেড়ে যায় হাইকোর্ট বেঞ্চের দুই বিচারপতি।

রোববার দুপুর ২টা ১২ মিনিটে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি শহিদুল করিম বেঞ্চে বসেন। তখন আদালতকক্ষ ছিল আইনজীবীতে পরিপূর্ণ। কোথাও কোনো তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। আইনজীবীরা নিজেদের মধ্যে কথা বলায় কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না।

এ অবস্থায় আদালত দুই পক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আদালত কক্ষ কানায় কানায় আইনজীবী দিয়ে পূর্ণ। এ রকম হলে তো শুনানি করা যাবে না।’

তখন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘মাননীয় আদালত, এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ মামলা।

আইনজীবীরা কেউ কোনো শব্দ করবেন না।’

আদালত বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে প্রেশার তৈরির একটা চেষ্টা।’

তখন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘না, না। আইনজীবীরা কেউ কোনো আওয়াজ করবেন না।’

আদালত এই পর্যায়ে বলেন, ‘তাহলে আপনার জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা কক্ষে থাকেন। বাকিরা বাইরে চলে যান।’

তখন জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘এই জামিনে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল একাই শুনানির ক্ষমতা রাখেন।’

আদালত তখন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আপনারা কক্ষ খালি করুন। আমরা ১০ মিনিট পর এজলাসে বসব।‘

তখন দুই বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করে খাস কামরায় চলে যান। আদালত কক্ষ থেকে জুনিয়ার আইনজীবীরা বেরিয়ে যান। আড়াইটায় ফের আদালত বসলে জামিনের শুনানি শুরু হয়।

কারাবন্দি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জামিন হচ্ছে কি না, তা জানার আগ্রহ রয়েছে গোটা দেশের মানুষের। আজকে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানির জন্য ব্যারিস্টার রফিকুল হক উপস্থিত হয়েছেন।

খালেদা জিয়া জামিন পাবেন, নাকি জামিন নাকচ হয়ে কারাগারেই থাকবেন—তা জানার জন্য সবার দৃষ্টি এখন আদালতে। সর্বোচ্চ আদালত জামিন মঞ্জুর করলে কারাগার থেকে খালেদা জিয়া কি আজই ছাড়া পাবেন, নাকি আরো সময় লাগতে পারে—সে আলোচনাও এখন সবার মুখে মুখে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেন। স্থগিত করেন খালেদা জিয়ার অর্থদণ্ড।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম। খালেদার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজে টোল বসবে কিনা, জানাল ইরান

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি শেষ নিম্ন আদালতের নথি আসার পর আদেশ

আপডেট সময় ০৫:৪৬:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে, নিম্ন আদালতের নথি আসার পর আদেশ।

এর আগে, খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে করা জামিনের ওপর শুনানির শুরুতেই এজলাস ছেড়ে যায় হাইকোর্ট বেঞ্চের দুই বিচারপতি।

রোববার দুপুর ২টা ১২ মিনিটে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি শহিদুল করিম বেঞ্চে বসেন। তখন আদালতকক্ষ ছিল আইনজীবীতে পরিপূর্ণ। কোথাও কোনো তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। আইনজীবীরা নিজেদের মধ্যে কথা বলায় কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না।

এ অবস্থায় আদালত দুই পক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আদালত কক্ষ কানায় কানায় আইনজীবী দিয়ে পূর্ণ। এ রকম হলে তো শুনানি করা যাবে না।’

তখন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘মাননীয় আদালত, এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ মামলা।

আইনজীবীরা কেউ কোনো শব্দ করবেন না।’

আদালত বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে প্রেশার তৈরির একটা চেষ্টা।’

তখন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘না, না। আইনজীবীরা কেউ কোনো আওয়াজ করবেন না।’

আদালত এই পর্যায়ে বলেন, ‘তাহলে আপনার জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা কক্ষে থাকেন। বাকিরা বাইরে চলে যান।’

তখন জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘এই জামিনে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল একাই শুনানির ক্ষমতা রাখেন।’

আদালত তখন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আপনারা কক্ষ খালি করুন। আমরা ১০ মিনিট পর এজলাসে বসব।‘

তখন দুই বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করে খাস কামরায় চলে যান। আদালত কক্ষ থেকে জুনিয়ার আইনজীবীরা বেরিয়ে যান। আড়াইটায় ফের আদালত বসলে জামিনের শুনানি শুরু হয়।

কারাবন্দি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জামিন হচ্ছে কি না, তা জানার আগ্রহ রয়েছে গোটা দেশের মানুষের। আজকে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানির জন্য ব্যারিস্টার রফিকুল হক উপস্থিত হয়েছেন।

খালেদা জিয়া জামিন পাবেন, নাকি জামিন নাকচ হয়ে কারাগারেই থাকবেন—তা জানার জন্য সবার দৃষ্টি এখন আদালতে। সর্বোচ্চ আদালত জামিন মঞ্জুর করলে কারাগার থেকে খালেদা জিয়া কি আজই ছাড়া পাবেন, নাকি আরো সময় লাগতে পারে—সে আলোচনাও এখন সবার মুখে মুখে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেন। স্থগিত করেন খালেদা জিয়ার অর্থদণ্ড।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম। খালেদার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।