ঢাকা ১০:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বহির্বিশ্বেও প্রচলিত: রিজভী শহীদুল্লাহ হলে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডের’ তদন্তকে কেন্দ্র করে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ পাকিস্তানে ‘শান্তি সমাবেশ’ চলাকালে বিস্ফোরণ, নিহত ১৩ ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম ‘জনগণকে মালিক মনে করে সরকার কাজ করছে’ ‘নিজস্ব মব না থাকলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না’ মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতের পরামর্শে রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করছে এনসিপি : রাশেদ খান জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাবা-দাদার বয়সী নেতাদের প্রতারণা বুঝতে পারিনি: আসিফ মাহমুদ

ধর্ষণের ভিডিও ধারণকারীকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নারায়ণগঞ্জে কিশোরী ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে ধর্ষকের এক বন্ধুকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার কাশিপুর খিলমার্কেট এলাকায় বিপ্লব (২৪) নামে ওই তরুণকে আটক করে গণধোলাই দেয় এলাকাবাসী। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। সে কাশিপুর এলাকার হারুন মিয়ার ছেলে।

সূত্র জানায়, ওই কিশোরীকে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়ায় কিশোরী তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় কিশোরীর ভাই বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আতাউর রহমান দৈনিক আকাশকে জানান, মামলায় ধর্ষক মৃদুল ও তার মা পারুল বেগমসহ ৬ বন্ধুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আটক বিপ্লবের নাম না থাকলেও এ ঘটনায় সেও জড়িত বলে এলাকাবাসী দাবি করেছে। বিপ্লবের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

মামলার বাদী কিশোরীর বড় ভাই দৈনিক আকাশকে জানান, ফতুল্লার কাশিপুর খিলমার্কেট এলাকায় ১৬ ফেব্রুয়ারি শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার পর থেকে আমার বোনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিওতে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি। এর মধ্যে দুই দিন পূর্বে কিছু সময় জ্ঞান ফিরেছিল এবং কথা বলেছে। তাকে হুমকি দেয়া কয়েকজনের নামও বলেছে। এরপর আবারও জ্ঞান হারিয়েছে। তাকে স্যালাইনের মাধ্যমে খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।

এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে ওই কিশোরী জেএসসি পরীক্ষায় পাস করে আর লেখাপড়া করেনি। বাড়িতেই পারিবারিক কাজে সময় দিত। এরই মধ্যে কিশোরীর সঙ্গে পাশের বাড়ির মৃদুল (২২) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে মৃদুল। এ সময় গোপনে ভিডিও ধারণ করে রাখে মৃদুলের বন্ধুরা।

পরবর্তীতে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে ফের একাধিকবার ধর্ষণ করে। সম্প্রতি ওই কিশোরী তার মায়ের কাছে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও দিয়ে মৃদুলের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ঘটনা জানায়। এতে ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকালে কিশোরীর মা মৃদুলের মা পারুল বেগমকে ঘটনা সম্পর্কে জানিয়ে বিচার দাবি করেন। এ অভিযোগ শুনে উল্টো পারুল বেগম কিশোরীর মাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। ওই সময় কিশোরীর মাকে হুমকি দিয়ে মৃদুল বলেন- বেশি বাড়াবাড়ি করলে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটের ছেড়ে দেয়া হবে।

এ ঘটনা শুনে ওই দিন রাতেই নিজ বাড়ির রান্নাঘরে গিয়ে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় ওই কিশোরী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বহির্বিশ্বেও প্রচলিত: রিজভী

ধর্ষণের ভিডিও ধারণকারীকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

আপডেট সময় ১১:০৯:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নারায়ণগঞ্জে কিশোরী ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে ধর্ষকের এক বন্ধুকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার কাশিপুর খিলমার্কেট এলাকায় বিপ্লব (২৪) নামে ওই তরুণকে আটক করে গণধোলাই দেয় এলাকাবাসী। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। সে কাশিপুর এলাকার হারুন মিয়ার ছেলে।

সূত্র জানায়, ওই কিশোরীকে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়ায় কিশোরী তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় কিশোরীর ভাই বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আতাউর রহমান দৈনিক আকাশকে জানান, মামলায় ধর্ষক মৃদুল ও তার মা পারুল বেগমসহ ৬ বন্ধুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আটক বিপ্লবের নাম না থাকলেও এ ঘটনায় সেও জড়িত বলে এলাকাবাসী দাবি করেছে। বিপ্লবের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

মামলার বাদী কিশোরীর বড় ভাই দৈনিক আকাশকে জানান, ফতুল্লার কাশিপুর খিলমার্কেট এলাকায় ১৬ ফেব্রুয়ারি শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার পর থেকে আমার বোনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিওতে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি। এর মধ্যে দুই দিন পূর্বে কিছু সময় জ্ঞান ফিরেছিল এবং কথা বলেছে। তাকে হুমকি দেয়া কয়েকজনের নামও বলেছে। এরপর আবারও জ্ঞান হারিয়েছে। তাকে স্যালাইনের মাধ্যমে খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।

এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে ওই কিশোরী জেএসসি পরীক্ষায় পাস করে আর লেখাপড়া করেনি। বাড়িতেই পারিবারিক কাজে সময় দিত। এরই মধ্যে কিশোরীর সঙ্গে পাশের বাড়ির মৃদুল (২২) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে মৃদুল। এ সময় গোপনে ভিডিও ধারণ করে রাখে মৃদুলের বন্ধুরা।

পরবর্তীতে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে ফের একাধিকবার ধর্ষণ করে। সম্প্রতি ওই কিশোরী তার মায়ের কাছে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও দিয়ে মৃদুলের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ঘটনা জানায়। এতে ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকালে কিশোরীর মা মৃদুলের মা পারুল বেগমকে ঘটনা সম্পর্কে জানিয়ে বিচার দাবি করেন। এ অভিযোগ শুনে উল্টো পারুল বেগম কিশোরীর মাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। ওই সময় কিশোরীর মাকে হুমকি দিয়ে মৃদুল বলেন- বেশি বাড়াবাড়ি করলে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটের ছেড়ে দেয়া হবে।

এ ঘটনা শুনে ওই দিন রাতেই নিজ বাড়ির রান্নাঘরে গিয়ে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় ওই কিশোরী।