ঢাকা ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীনের ক্রমাগত মিথ্যাচার ভাইরাল হওয়ার কৌশল: মাহদী আমিন আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল, বের হয়েছি ইসলামের কল্যাণে: রেজাউল করীম ‘যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে, তারা বেঈমান’:আজহারুল ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারি রাজনীতির চেহারা পাল্টে দিতে পারে: রুমিন ফারহানা তারেক রহমানের ওপর বিশ্বাসে করে দেখেন ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ ঠকবে না: পার্থ নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না: ইসি আনোয়ারুল রাষ্ট্র পরিচালানার জন্য অভিজ্ঞতার দরকার আছে: নজরুল ইসলাম একটি দল ‘স্বৈরাচারী ভাষায়’ বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে: তারেক রহমান নির্বাচনে পুলিশ নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের প্রমাণ রাখবে: আইজিপি

পুলিশের ওপর হামলাকারীদের চিনতে পারছেন না ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হাইকোর্টের সামনে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে পুলিশের ওপর যারা হামলা করেছেন তাদেরকে আমরা চিনতে পারছি না। অনুপ্রবেশকারীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আজ বুধবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

‘বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ বিপুলসংখ্যক বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার, পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে’ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ফখরুল বলেন, ‘হাইকোর্টের সামনে যে হামলা হয়েছে, আমরা নিজেরাই তাদের ‘এক্সাক্টলি’ চিনতে পারছি না। সত্যিকার অর্থে আমরা আশঙ্কা করছি, অনুপ্রবেশকারীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস।’

তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তল্লাশির নাম করে দলের শত শত নেতাকর্মীর বাসায় ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে তুলে নিয়ে গেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

তিনি বলেন, গতরাত প্রায় পৌনে ১০টার দিকে গুলশান ১-এর পুলিশ প্লাজার সামনে থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে। পরে রাত ১২টায় তাকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করে পুলিশ। বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে রাত প্রায় ১২টার দিকে তার শান্তিনগরের বাসভবন থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত পুলিশ তার অবস্থান নিশ্চিত করেনি বলে জানান মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে খোঁজাখুঁজি করে পুলিশ।

এ ছাড়া দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নানের ধানমণ্ডির বাড়ি, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর শান্তিনগরের বাড়ি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেলের বাসা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর বাসা, মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানের পল্লবীর বাসা, আইনজীবী রফিক সিকদারের বাসা, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেরা আলাউদ্দিনের শান্তিনগরের বাসা, যুবদল নেতা কাজী আজিজুল হাকিম আরজুর বাসাসহ শত শত বিএনপি নেতাকর্মীর বাসায় পুলিশ তল্লাশির নামে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রমনা হোটেল থেকে বিএনপির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনকে গ্রেফতার কেরেছ পুলিশ। মঙ্গলবার যুবদলের সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক গাজী হাবিব হাসান রিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৭০ নেতা গ্রেফতার হন।

তাদের মধ্যে দক্ষিণখান থানার বিএনপি নেতা এম মিন্নত আলী, হারুন অর রশীদ, মো. হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, উত্তরখান থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. আনোয়ার হোসেন, পল্লবী থানা বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান, তুরাগ থানা বিএনপি নেতা বুলু, খোকন সরকার, কবির, রামপুরা থানা বিএনপি নেতা ডল, কামরাঙ্গীরচর থানা বিএনপি নেতা বাবুল, মানিক, নিউমার্কেট থানা বিএনপি নেতা মতিউর রহমান, চকবাজার থানা বিএনপি নেতা আলামীন, শ্যামপুর থানা বিএনপি নেতা জামান আহমেদ পিন্টু, পল্টন থানা বিএনপি নেতা ইসমাইল হোসেন তালুকদার, মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি পেয়ারা মোস্তফা, আরজু, ঢাকা মহানগর শ্রমিক দল নেতা জিল্লুর রহমান, আলম, জসিম ও আলম দেওয়ান উল্লেখযোগ্য।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না

পুলিশের ওপর হামলাকারীদের চিনতে পারছেন না ফখরুল

আপডেট সময় ০১:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হাইকোর্টের সামনে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে পুলিশের ওপর যারা হামলা করেছেন তাদেরকে আমরা চিনতে পারছি না। অনুপ্রবেশকারীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আজ বুধবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

‘বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ বিপুলসংখ্যক বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার, পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে’ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ফখরুল বলেন, ‘হাইকোর্টের সামনে যে হামলা হয়েছে, আমরা নিজেরাই তাদের ‘এক্সাক্টলি’ চিনতে পারছি না। সত্যিকার অর্থে আমরা আশঙ্কা করছি, অনুপ্রবেশকারীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস।’

তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তল্লাশির নাম করে দলের শত শত নেতাকর্মীর বাসায় ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে তুলে নিয়ে গেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

তিনি বলেন, গতরাত প্রায় পৌনে ১০টার দিকে গুলশান ১-এর পুলিশ প্লাজার সামনে থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে। পরে রাত ১২টায় তাকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করে পুলিশ। বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে রাত প্রায় ১২টার দিকে তার শান্তিনগরের বাসভবন থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত পুলিশ তার অবস্থান নিশ্চিত করেনি বলে জানান মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে খোঁজাখুঁজি করে পুলিশ।

এ ছাড়া দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নানের ধানমণ্ডির বাড়ি, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর শান্তিনগরের বাড়ি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেলের বাসা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর বাসা, মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানের পল্লবীর বাসা, আইনজীবী রফিক সিকদারের বাসা, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেরা আলাউদ্দিনের শান্তিনগরের বাসা, যুবদল নেতা কাজী আজিজুল হাকিম আরজুর বাসাসহ শত শত বিএনপি নেতাকর্মীর বাসায় পুলিশ তল্লাশির নামে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রমনা হোটেল থেকে বিএনপির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনকে গ্রেফতার কেরেছ পুলিশ। মঙ্গলবার যুবদলের সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক গাজী হাবিব হাসান রিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৭০ নেতা গ্রেফতার হন।

তাদের মধ্যে দক্ষিণখান থানার বিএনপি নেতা এম মিন্নত আলী, হারুন অর রশীদ, মো. হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, উত্তরখান থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. আনোয়ার হোসেন, পল্লবী থানা বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান, তুরাগ থানা বিএনপি নেতা বুলু, খোকন সরকার, কবির, রামপুরা থানা বিএনপি নেতা ডল, কামরাঙ্গীরচর থানা বিএনপি নেতা বাবুল, মানিক, নিউমার্কেট থানা বিএনপি নেতা মতিউর রহমান, চকবাজার থানা বিএনপি নেতা আলামীন, শ্যামপুর থানা বিএনপি নেতা জামান আহমেদ পিন্টু, পল্টন থানা বিএনপি নেতা ইসমাইল হোসেন তালুকদার, মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি পেয়ারা মোস্তফা, আরজু, ঢাকা মহানগর শ্রমিক দল নেতা জিল্লুর রহমান, আলম, জসিম ও আলম দেওয়ান উল্লেখযোগ্য।