ঢাকা ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীনের ক্রমাগত মিথ্যাচার ভাইরাল হওয়ার কৌশল: মাহদী আমিন আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল, বের হয়েছি ইসলামের কল্যাণে: রেজাউল করীম ‘যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে, তারা বেঈমান’:আজহারুল ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারি রাজনীতির চেহারা পাল্টে দিতে পারে: রুমিন ফারহানা তারেক রহমানের ওপর বিশ্বাসে করে দেখেন ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ ঠকবে না: পার্থ নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না: ইসি আনোয়ারুল রাষ্ট্র পরিচালানার জন্য অভিজ্ঞতার দরকার আছে: নজরুল ইসলাম একটি দল ‘স্বৈরাচারী ভাষায়’ বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে: তারেক রহমান নির্বাচনে পুলিশ নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের প্রমাণ রাখবে: আইজিপি

খালেদার সাজার শঙ্কায় জনতার সমর্থন চাইল বিএনপি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার সাজার আশঙ্কা থেকে বিচারের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলাকালে সেখান থেকে বের হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই আহ্বান জানান।

ফখরুলের আশঙ্কা, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি এবং বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে দ্রুত এই রায় দেয়া হচ্ছে। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের জুলাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা হচ্ছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমানসহ আসামি করা হয়েছে ছয় জনকে।

মামলা করার সাড়ে নয় বছর পর গত বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আখতারুজ্জামান রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন। এই মামলায় বিচারিক আদালতে শুনানি হয়েছে মোট ২৩৬ কার্যদিবস। আবার অভিযোগপত্র গঠন, বিচারের নানা বিষয় এবং দুইবার বিচারকের বিরুদ্ধে অনাস্থাসহ দেড়শ বারে মতো উচ্চ আদালতে গেছেন বিএনপির নেতারা।

আর এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও আত্মপক্ষ সমর্থনে খালেদা জিয়ার দীর্ঘ বক্তব্য শেষে রাষ্ট্রপক্ষ এক দিন, খালেদা জিয়া ১০ দিন, আরও দুই আসামি পাঁচ দিন যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। আর তিন আসামি পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে যুক্তি দেয়ার সুযোগ ছিল না।

২৫ জানুয়ারি রায়ের দিন ঘোষণার পর থেকে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ নেতারা পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। এক পক্ষ বলছে খালেদার সাজা হলে দেশে আগুন জ্বলবে, অন্য পক্ষ বলছে, দেশে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হলে দমন হবে কঠোরভাবে।

এই পরিস্থিতিতে শনিবার রাতে সাড়ে নয়টার দিকে খালেদা জিয়া তার দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্ষদ স্থানীয় কমিটির নেতাদেরকে নিয়ে করণীয় বিষয়ে বৈঠকে বসেন। ঘণ্টাখানেক পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাইরে বের হয়ে এসে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

ফখরুল জানান, তাদের আশঙ্কা, সরকার বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে বিরোধী দলকে দমনের একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাইছে এই মামলা দিয়ে। সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্যেই এটা স্পষ্ট বলে মনে করেন তিনি। ফখরুল বলেন, ‘যে তাদের নেতা নেত্রীরা হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন তাতে বোঝা যায় মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকলেও রায় কী হবে এটা সরকারে জানা।’

‘স্পটতই বোঝা যাচ্ছে জাল জালিয়াতি করে বিচারের নামে প্রহসন এবং বিরোধী দলকে কমন করার জন্য বিচার বিভাগকে ব্যবহার করার আরেকটি নোংরা দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে।’

আর এই পরিস্থিতিতে জনগণের সহায়তা চেয়েছে বিএনপি। ‘ক্ষমতাসীন দলের আচরণে দেশের জনগণ ক্ষুব্ধ ও ক্রদ্ধ’ উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির আজেকের সভা থেকে বেগম খালেদা জিয়াসহ কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তিকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে ফাঁসাতে সরকারের আইন ও আদালতের নিয়ম নীতির বিরুদ্ধে আচরণের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে আমরা দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিচারের নামে সরকারি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তবে সাজার আশঙ্কা করলেও খালেদা জিয়া খালাস পেতে পারেন, এমন আশাও ছাড়ছেন না বিএনপি। আর এ কারণে আগেভাগেই কোনো রকম কর্মসূচি ঘোষণার বিপক্ষে দলটি। ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিনকে সামনে রেখে বিএনপি কোনো ধরনের কর্মসূচি দেবে কি না-এমন প্রশ্নে ফখরুল বলেন, ‘রায় হোক, তারপর দেখা যাবে।’

রায় মোকাবেলা করার জন্য বিএনপির প্রস্তুতি কী-এমন প্রশ্নে ফখরুল বলেন, ‘মোকাবেলা করব কেন, আমার পক্ষেও তো রায় আসতে পারে।’

এর আগে ফখরুল বলেন, ‘গত ২৫ জানুয়ারি বকশিবাজারের আলীয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত আদালতে হঠাৎ করে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য বন্ধ করে ৮ ফেব্রুয়ারি মিথ্যা, বানোয়াট মামলার রায়ের দিন ধার্য করেছে। এমনটা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজীরবিহীন ঘটনা বলে সিনিয়র আইনজীবীরা মনে করেন।’

বৈঠকে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ. জমির উদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না

খালেদার সাজার শঙ্কায় জনতার সমর্থন চাইল বিএনপি

আপডেট সময় ১২:৫২:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার সাজার আশঙ্কা থেকে বিচারের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলাকালে সেখান থেকে বের হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই আহ্বান জানান।

ফখরুলের আশঙ্কা, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি এবং বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে দ্রুত এই রায় দেয়া হচ্ছে। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের জুলাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা হচ্ছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমানসহ আসামি করা হয়েছে ছয় জনকে।

মামলা করার সাড়ে নয় বছর পর গত বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আখতারুজ্জামান রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন। এই মামলায় বিচারিক আদালতে শুনানি হয়েছে মোট ২৩৬ কার্যদিবস। আবার অভিযোগপত্র গঠন, বিচারের নানা বিষয় এবং দুইবার বিচারকের বিরুদ্ধে অনাস্থাসহ দেড়শ বারে মতো উচ্চ আদালতে গেছেন বিএনপির নেতারা।

আর এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও আত্মপক্ষ সমর্থনে খালেদা জিয়ার দীর্ঘ বক্তব্য শেষে রাষ্ট্রপক্ষ এক দিন, খালেদা জিয়া ১০ দিন, আরও দুই আসামি পাঁচ দিন যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। আর তিন আসামি পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে যুক্তি দেয়ার সুযোগ ছিল না।

২৫ জানুয়ারি রায়ের দিন ঘোষণার পর থেকে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ নেতারা পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। এক পক্ষ বলছে খালেদার সাজা হলে দেশে আগুন জ্বলবে, অন্য পক্ষ বলছে, দেশে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হলে দমন হবে কঠোরভাবে।

এই পরিস্থিতিতে শনিবার রাতে সাড়ে নয়টার দিকে খালেদা জিয়া তার দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্ষদ স্থানীয় কমিটির নেতাদেরকে নিয়ে করণীয় বিষয়ে বৈঠকে বসেন। ঘণ্টাখানেক পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাইরে বের হয়ে এসে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

ফখরুল জানান, তাদের আশঙ্কা, সরকার বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে বিরোধী দলকে দমনের একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাইছে এই মামলা দিয়ে। সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্যেই এটা স্পষ্ট বলে মনে করেন তিনি। ফখরুল বলেন, ‘যে তাদের নেতা নেত্রীরা হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন তাতে বোঝা যায় মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকলেও রায় কী হবে এটা সরকারে জানা।’

‘স্পটতই বোঝা যাচ্ছে জাল জালিয়াতি করে বিচারের নামে প্রহসন এবং বিরোধী দলকে কমন করার জন্য বিচার বিভাগকে ব্যবহার করার আরেকটি নোংরা দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে।’

আর এই পরিস্থিতিতে জনগণের সহায়তা চেয়েছে বিএনপি। ‘ক্ষমতাসীন দলের আচরণে দেশের জনগণ ক্ষুব্ধ ও ক্রদ্ধ’ উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির আজেকের সভা থেকে বেগম খালেদা জিয়াসহ কয়েকজন নিরীহ ব্যক্তিকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে ফাঁসাতে সরকারের আইন ও আদালতের নিয়ম নীতির বিরুদ্ধে আচরণের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে আমরা দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিচারের নামে সরকারি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তবে সাজার আশঙ্কা করলেও খালেদা জিয়া খালাস পেতে পারেন, এমন আশাও ছাড়ছেন না বিএনপি। আর এ কারণে আগেভাগেই কোনো রকম কর্মসূচি ঘোষণার বিপক্ষে দলটি। ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিনকে সামনে রেখে বিএনপি কোনো ধরনের কর্মসূচি দেবে কি না-এমন প্রশ্নে ফখরুল বলেন, ‘রায় হোক, তারপর দেখা যাবে।’

রায় মোকাবেলা করার জন্য বিএনপির প্রস্তুতি কী-এমন প্রশ্নে ফখরুল বলেন, ‘মোকাবেলা করব কেন, আমার পক্ষেও তো রায় আসতে পারে।’

এর আগে ফখরুল বলেন, ‘গত ২৫ জানুয়ারি বকশিবাজারের আলীয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত আদালতে হঠাৎ করে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য বন্ধ করে ৮ ফেব্রুয়ারি মিথ্যা, বানোয়াট মামলার রায়ের দিন ধার্য করেছে। এমনটা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজীরবিহীন ঘটনা বলে সিনিয়র আইনজীবীরা মনে করেন।’

বৈঠকে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ. জমির উদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।