ঢাকা ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার

দারিদ্রমুক্তির পর উন্নতদেশ গঠনে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ: পরিকল্পনামন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ‘উন্নয়নের রোল মডেল শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে ২০২১ সালের মধ্যে ‘ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ’ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ‘উন্নত বাংলাদেশ’ গঠনে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনের পর কুমিল্লা টাউন হল মাঠের মুক্তমঞ্চে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখতেন বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা পরপর ২ বার জিডিপি ৭ এর উপর রয়েছি। যা বিশ্বের ৩টি দেশের মধ্যে অন্যতম। ২০০৯ সালে আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর দেখি মাগরিবের নামাজের পর বিদ্যুৎ থাকে না। কখন আসতো আর কখন যেতো তা কেউ বলতে পারতো না। আমরা বিদ্যুৎ খাতে অনেক উন্নয়ন করেছি। দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌছে দিয়েছি।

এদেশে একসময় মোবাইলের কলরেট ছিল ১০ টাকা। বিদেশ থেকে কল আসলেও ইনকামিং ফি দিতে হতো ১০ টাকা। বর্তমানে দেশে অনেকগুলো মোবাইল কোম্পানি রয়েছে এবং তারা এখন অনেক কম খরচে যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছে। স্কুলের বাচ্চারাও এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করছে। এখন তারা মোবাইলে চেক করে দেখে ওয়াইফাই আছে কি-না।

শিক্ষা, আইসিটিসহ দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রেই আমরা উন্নয়ন করেছি। প্রধানমন্ত্রী অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রথম পর্যায়ে আমরা ৮ হাজার মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি করে দেয়া হবে। প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে ৪তলা আবার কোথাও ৬তলা বিশিষ্ট বাজার নির্মাণ করা হবে। একটিতে নারীরা আর অন্যটিতে পুরুষরা বাজার করবে।

আমি গরীব ছিলাম। গরীবের কষ্ট আমি বুঝি। প্রত্যেক মানুষের অধিকার রয়েছে গরীব থেকে বের হয়ে পৃথিবীর আলো বাতাস ঘুরে দেখা। আমরা আগামী প্রজন্মকে তৈরি করব বিশ্ব মানচিত্রের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর একটাই দাবি দেশের উন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আসার সুযোগ দিন। আগামী ৫ বছর হবে প্রত্যেকটা যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের বছর।

তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার ১০টি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।এগুলো হচ্ছে- একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, আশ্রায়ন প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষামতায়ন কর্মসূচি, সবার জন্য বিদ্যুৎ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ। দেশের প্রতিটি মেলায় এ বিষয়গুলো জনসাধারণের সামনে বিশেষভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে। দেশের সকল পর্যায়ের লোকজন এই উন্নয়নের অংশ, এই অর্জন সকলের।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. জাহাংগীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর (বার্ড) মহাপরিচালক ড. এম মিজানুর রহমান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আবদুর রব, সুরক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আজহারুল হক, কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু তাহের, কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমানসহ জেলা ও পুলিশ প্রসাশন এবং বিভিন্ন বিভাগের পদস্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীর টাউন হল মাঠে বৃহস্পতিবার থেকে ৩ দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলায় সরকারি-বেসরকারি ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা/বিভাগের ১২৫টি স্টল অংশগ্রহণ করে। মেলা উপলক্ষে প্রতিদিন আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের তথ্যচিত্র প্রদর্শন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কুইজ, বিতর্ক ও রচনা প্রতিযোগিতা এবং সন্ধ্যায় মেলামঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিবার পরিকল্পনা: বাংলাদেশের সাফল্য ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

দারিদ্রমুক্তির পর উন্নতদেশ গঠনে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ: পরিকল্পনামন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:৩৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ‘উন্নয়নের রোল মডেল শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে ২০২১ সালের মধ্যে ‘ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ’ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ‘উন্নত বাংলাদেশ’ গঠনে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনের পর কুমিল্লা টাউন হল মাঠের মুক্তমঞ্চে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখতেন বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা পরপর ২ বার জিডিপি ৭ এর উপর রয়েছি। যা বিশ্বের ৩টি দেশের মধ্যে অন্যতম। ২০০৯ সালে আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর দেখি মাগরিবের নামাজের পর বিদ্যুৎ থাকে না। কখন আসতো আর কখন যেতো তা কেউ বলতে পারতো না। আমরা বিদ্যুৎ খাতে অনেক উন্নয়ন করেছি। দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌছে দিয়েছি।

এদেশে একসময় মোবাইলের কলরেট ছিল ১০ টাকা। বিদেশ থেকে কল আসলেও ইনকামিং ফি দিতে হতো ১০ টাকা। বর্তমানে দেশে অনেকগুলো মোবাইল কোম্পানি রয়েছে এবং তারা এখন অনেক কম খরচে যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছে। স্কুলের বাচ্চারাও এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করছে। এখন তারা মোবাইলে চেক করে দেখে ওয়াইফাই আছে কি-না।

শিক্ষা, আইসিটিসহ দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রেই আমরা উন্নয়ন করেছি। প্রধানমন্ত্রী অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রথম পর্যায়ে আমরা ৮ হাজার মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি করে দেয়া হবে। প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে ৪তলা আবার কোথাও ৬তলা বিশিষ্ট বাজার নির্মাণ করা হবে। একটিতে নারীরা আর অন্যটিতে পুরুষরা বাজার করবে।

আমি গরীব ছিলাম। গরীবের কষ্ট আমি বুঝি। প্রত্যেক মানুষের অধিকার রয়েছে গরীব থেকে বের হয়ে পৃথিবীর আলো বাতাস ঘুরে দেখা। আমরা আগামী প্রজন্মকে তৈরি করব বিশ্ব মানচিত্রের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর একটাই দাবি দেশের উন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আসার সুযোগ দিন। আগামী ৫ বছর হবে প্রত্যেকটা যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের বছর।

তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার ১০টি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।এগুলো হচ্ছে- একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, আশ্রায়ন প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষামতায়ন কর্মসূচি, সবার জন্য বিদ্যুৎ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ। দেশের প্রতিটি মেলায় এ বিষয়গুলো জনসাধারণের সামনে বিশেষভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে। দেশের সকল পর্যায়ের লোকজন এই উন্নয়নের অংশ, এই অর্জন সকলের।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. জাহাংগীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর (বার্ড) মহাপরিচালক ড. এম মিজানুর রহমান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আবদুর রব, সুরক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আজহারুল হক, কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু তাহের, কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমানসহ জেলা ও পুলিশ প্রসাশন এবং বিভিন্ন বিভাগের পদস্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীর টাউন হল মাঠে বৃহস্পতিবার থেকে ৩ দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলায় সরকারি-বেসরকারি ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা/বিভাগের ১২৫টি স্টল অংশগ্রহণ করে। মেলা উপলক্ষে প্রতিদিন আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের তথ্যচিত্র প্রদর্শন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কুইজ, বিতর্ক ও রচনা প্রতিযোগিতা এবং সন্ধ্যায় মেলামঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।