ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চীন ও মালয়েশিয়া ঐকমত্য পোষণ করেছে: মাহদী আমিন ভিসা চালুর ঘোষণা: স্বাগত জানাল পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও বিধায়করা ফ্যামিলি কার্ড আপনাকে খুঁজতে হবে না, পৌঁছে যাবে আপনার দোরগোড়ায়’ মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ ভূমিমন্ত্রীর চট্টগ্রামে সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল ৪ জনের বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপে খেলবে: আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেশবাসীকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের শুভেচ্ছা টাঙ্গাইলে ‘জনতার সংযোগ’ কার্যক্রমের উদ্বোধন বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সরকার: আমান উল্লাহ আমান

অতিকথন দোষে দুষ্ট শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি সংসদে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শিক্ষামন্ত্রী ‍নুরুল ইসলাম নাহিদকে অতিকথন দোষে দুষ্ট এবং দায়িত্বহীন ও লাগামহীন বক্তব্যদাতা আখ্যা দিয়ে তার পদত্যাগের দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। ‘সহনসীল মাত্রায়’ ঘুষ নেয়ার বিষয়ে মন্ত্রীর পরামর্শ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে আশঙ্কা করে এই দাবি তুলেছেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তব্যে এই কথা বলেন, তানজীব সিদ্দিকী। শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়টি নিয়ে তিনি সরকারের নির্বাহী পদে থাকা ব্যক্তিদেরও মনযোগ আকর্ষণ করেন।

তানজীব সিদ্দিকী ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পাস করলেও পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।। আওয়ামী লীগের স্লোগান ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে দায়িত্বহীন ও লাগামহীন আখ্যা দিয়ে তানজীব বলেন, ‘নিশ্চয় একটি সফল ও স্বার্থক সরকারের ভাবমূর্তি কোনো দায়িত্বহীন ব্যক্তির লাগামহীন বক্তব্যে ভুলণ্ঠিত হতে পারে না। যারা দায়িত্বে আছেন, বিশেষ করে যারা নির্বাহী দায়িত্বে আছেন তারা বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে উপলব্ধি করবেন।’

অতি কথন দোষে দুষ্ট আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী অতি বিতর্কিত কিছু বক্তব্য সরকারের ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ন করেছে।’

গত ২৫ ডিসেম্বর শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা ভবনে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে সহনশীল মাত্রায় ঘুষ খাওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়ে। সেদিন মন্ত্রী বলেন, ‘আমি ইডির (ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট) সভায় বলছি, আপনারা দয়া করে ভালো কাজ করবেন। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা ঘুষ খাবেন, তবে সহনশীল হইয়্যা খাবেন। অসহনীয় হয়ে বলা যায় আপনারা ঘুষ খাইয়েন না, এটা অবাস্তবিক কথা হবে।’

সংসদ সদস্য তানজীব সিদ্দিকী এর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন সমীক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বের অন্যতম সৎ সরকারপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় ১৬ কোটি বাঙালি গর্বিত হয়েছিল। প্রাক্তন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক সাহেবের মৃত্যুর পর তার সাদামাটা জীবন নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। ফলে বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের প্রতি মানুষের সম্মান এবং শ্রদ্ধাবোধ আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল। তখনই শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী সেদিন আরও বলেন, ‘খালি যে অফিসার চোর, তা না, মন্ত্রীরাও চোর, আমিও চোর। … এই জগতে এ রকমই চলে আসতেছে। সবাইকে আমাদের পরিবর্তন করতে হবে।’

সংসদ সদস্য তানজীব সিদ্দিকী বলেন, ‘সকল মন্ত্রীগণ বিশেষ করে যারা স্বচ্ছতা এবং সততার সাথে এবং সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে কাজ করে যাচ্ছেন, মহান সংসদে দাঁড়িয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে তাদের প্রতি নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আমি অনুরোধ করছি, আবেদন করছি, নিবেদন জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে নাহিদের ব্যাখ্যা দাবি করে সংসদ সদস্য বলেন, ‘মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে অবশ্যই তার বক্তব্যের ব্যাপারে সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।’

তানজীব সিদ্দিকী বলেন, “পত্রপত্রিকায় দেখেছি মন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের বলেছেন- ‘আপনারা সহনীয় পর্যায় ঘুষ খাবেন। ঘুষ খেতে না বলার নৈতিক সাহস আমার নেই। কারণ আমি ঘুষ খাই, মন্ত্রীরা ঘুষ খায়।‘ এই বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য মন্ত্রীকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। তাকে অবশ্যই সংসদে দাঁড়িয়ে তার মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে।”

মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে তানজীব বলেন, ‘সত্যি সত্যি তিনি (নাহিদ) যদি আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ হন, তাহলে সমগ্র সরকারকে জনগণের কাছে বিতর্কিত না করে তার উচিত, নিজ পদ থেতে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়া ‘

অবশ্য গত ২৭ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, তিনি সেদিন বিএনপি আমলের দুর্নীতির উদাহরণ দিয়ে তার কাছে শিক্ষকরা যে কথা বলতেন, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আর তার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার হওয়ায় এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চীন ও মালয়েশিয়া ঐকমত্য পোষণ করেছে: মাহদী আমিন

অতিকথন দোষে দুষ্ট শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি সংসদে

আপডেট সময় ১১:২৬:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শিক্ষামন্ত্রী ‍নুরুল ইসলাম নাহিদকে অতিকথন দোষে দুষ্ট এবং দায়িত্বহীন ও লাগামহীন বক্তব্যদাতা আখ্যা দিয়ে তার পদত্যাগের দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। ‘সহনসীল মাত্রায়’ ঘুষ নেয়ার বিষয়ে মন্ত্রীর পরামর্শ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে আশঙ্কা করে এই দাবি তুলেছেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তব্যে এই কথা বলেন, তানজীব সিদ্দিকী। শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়টি নিয়ে তিনি সরকারের নির্বাহী পদে থাকা ব্যক্তিদেরও মনযোগ আকর্ষণ করেন।

তানজীব সিদ্দিকী ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পাস করলেও পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।। আওয়ামী লীগের স্লোগান ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে দায়িত্বহীন ও লাগামহীন আখ্যা দিয়ে তানজীব বলেন, ‘নিশ্চয় একটি সফল ও স্বার্থক সরকারের ভাবমূর্তি কোনো দায়িত্বহীন ব্যক্তির লাগামহীন বক্তব্যে ভুলণ্ঠিত হতে পারে না। যারা দায়িত্বে আছেন, বিশেষ করে যারা নির্বাহী দায়িত্বে আছেন তারা বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে উপলব্ধি করবেন।’

অতি কথন দোষে দুষ্ট আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী অতি বিতর্কিত কিছু বক্তব্য সরকারের ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ন করেছে।’

গত ২৫ ডিসেম্বর শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা ভবনে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে সহনশীল মাত্রায় ঘুষ খাওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়ে। সেদিন মন্ত্রী বলেন, ‘আমি ইডির (ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট) সভায় বলছি, আপনারা দয়া করে ভালো কাজ করবেন। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা ঘুষ খাবেন, তবে সহনশীল হইয়্যা খাবেন। অসহনীয় হয়ে বলা যায় আপনারা ঘুষ খাইয়েন না, এটা অবাস্তবিক কথা হবে।’

সংসদ সদস্য তানজীব সিদ্দিকী এর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন সমীক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বের অন্যতম সৎ সরকারপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় ১৬ কোটি বাঙালি গর্বিত হয়েছিল। প্রাক্তন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক সাহেবের মৃত্যুর পর তার সাদামাটা জীবন নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। ফলে বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের প্রতি মানুষের সম্মান এবং শ্রদ্ধাবোধ আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল। তখনই শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী সেদিন আরও বলেন, ‘খালি যে অফিসার চোর, তা না, মন্ত্রীরাও চোর, আমিও চোর। … এই জগতে এ রকমই চলে আসতেছে। সবাইকে আমাদের পরিবর্তন করতে হবে।’

সংসদ সদস্য তানজীব সিদ্দিকী বলেন, ‘সকল মন্ত্রীগণ বিশেষ করে যারা স্বচ্ছতা এবং সততার সাথে এবং সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে কাজ করে যাচ্ছেন, মহান সংসদে দাঁড়িয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে তাদের প্রতি নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আমি অনুরোধ করছি, আবেদন করছি, নিবেদন জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে নাহিদের ব্যাখ্যা দাবি করে সংসদ সদস্য বলেন, ‘মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে অবশ্যই তার বক্তব্যের ব্যাপারে সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।’

তানজীব সিদ্দিকী বলেন, “পত্রপত্রিকায় দেখেছি মন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের বলেছেন- ‘আপনারা সহনীয় পর্যায় ঘুষ খাবেন। ঘুষ খেতে না বলার নৈতিক সাহস আমার নেই। কারণ আমি ঘুষ খাই, মন্ত্রীরা ঘুষ খায়।‘ এই বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য মন্ত্রীকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। তাকে অবশ্যই সংসদে দাঁড়িয়ে তার মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে।”

মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে তানজীব বলেন, ‘সত্যি সত্যি তিনি (নাহিদ) যদি আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ হন, তাহলে সমগ্র সরকারকে জনগণের কাছে বিতর্কিত না করে তার উচিত, নিজ পদ থেতে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়া ‘

অবশ্য গত ২৭ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, তিনি সেদিন বিএনপি আমলের দুর্নীতির উদাহরণ দিয়ে তার কাছে শিক্ষকরা যে কথা বলতেন, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আর তার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার হওয়ায় এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।