ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুরুষই নারীর পরিচালক, এটা মেনে নিয়েই আমরা রাজনীতিতে এসেছি: জামায়াত নেত্রী জাতীয়তাবাদের কথা বলে একটি দল বিদেশি নাগরিকদের প্রার্থী করছে: আসিফ মাহমুদ দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা নির্বাচনী প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক: প্রধান উপদেষ্টা আমেরিকা-ভারতের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে ইনসাফ বাস্তবায়ন করতে চায় জামায়াত: রেজাউল করিম ‘নির্বাচিত হলে এমপিদের পরিবারের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রতিবছর দিতে হবে’:শফিকুর রহমান দেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগকে দেখতে চায় না: খোকন যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি তারাই ধর্মের ভিত্তিতে রাজনৈতিক বিভাজন করতে চায় : সালাহউদ্দিন জবি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ সমাবেশ নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়তে পারে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

সাফল্য প্রধানমন্ত্রীর, ব্যর্থতা আমার: তারানা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

তথ্য মন্ত্রণালয়ের যোগ দিয়ে সাবেক দপ্তর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কাজের ফিরিস্তি দিলেন প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। বললেন, তার কোনো ব্যর্থতা থাকলে এর দায় তিনি নিচ্ছেন।

গত বুধবার ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে তারানা হালিমকে পাঠানো হয় তথ্য মন্ত্রণালয়ে। দপ্তর পাল্টানোয় তার অভিমানের কথা নিয়ে লেখালেখি হচ্ছিল গণমাধ্যমে। আর চারদিন পর রবিবার সকালে তারানা যোগ দিলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ে। এরপর তিনি সেখানে মত বিনিময় করেন সাংবাদিকদের সঙ্গে।

এ সময় তারানা তার নতুন মন্ত্রণালয়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে যত কথা বলেছেন, তার চেয়ে বেশি বলেছেন তার আগের মন্ত্রণালয় ডাক ও টেলি যোগাযোগের কাজ নিয়ে।

এই মন্ত্রণালয়ে তারানা যোগ দিয়েছিলেন প্রায় আড়াই বছর আগে। আর গোটা সময়ে সেখানে কোনো পূর্ণ মন্ত্রী ছিল না। গত বুধবার এই মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে মঙ্গলবার ট্যাকনোক্রেট কোটায় শপথ নেয়া মোস্তফা জব্বার। যোগ দিয়েই তার মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন জব্বার।

মন্ত্রীর মতে, দেশের টেলিযোগাযোগ খাত ক্যান্সারে আক্রান্ত আর অন্ধগলিতে আইসিটি খাত। আর এই ‘ডুবন্ত নৌকা’কে টেনে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

মন্ত্রীর এসব বক্তব্যের সরাসরি জবাব দেননি তারানা হালিম। বলেন, ‘আমি আগের মন্ত্রণালয়ে থাকতে কিছু সাফল্যের কথা তুলে ধরতে চাই। যেখানে মন্ত্রী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে এবং যার পরামর্শে সবমসয় কাজ করেছি তিনি হলেন মাননীয় প্রধনমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়। তাদের নির্দেশনায় দুই বছর প্রায় চার মাসে যে কাজ গুলো করেছি তা কম নয়।’

এ সময় বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়া, রবি ও এয়ারটেল একিভূত করার মাধ্যমে বাজারে একটি প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য তৈরি করা, কলড্রপে মিনিট ফেরত দেয়া বাধ্যতামূলক করার, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্প, টেলিটকের সম্প্রসারণসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিবি বাস্তবায়ণে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ পরপর দুই বছর বার প্রথম অবস্থানে ছিল বলেও জানান তারানা।

টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট

মোবাইল সিমের গ্রাহক সংখ্যা ১৪ কোটি ৭১ লাখ, মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সাত কোটি ৭২ লাখ উন্নীতকরণ, টেলিডেনসিটি ৮৬.০৬ শতাংশে উন্নীতকরণ, ইন্টারনেট ডেনসিটি ৭৩০.৬২ শতাংশ বৃদ্ধি করা, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কাজ শতভাগ কাজ শেষ করার কথা উল্লেখ করেন তারানা।

তারানা বলেন, ‘বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে স্মার্ট ফোন। মাত্র ৫ মাসে ১১ কোটির অধিক বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা ছিল আমার জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ, যা আমরা অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে বাস্তবায়ণ করতে পেরেছি। সেন্ট্রাল বায়োমেট্রিক মনিটরিং প্লাটফর্ম বিটিআরসিতে স্থাপন করেছি। যেখান থেকে আমরা সহজে বুঝতে পারি কোন গ্রাহকের নামে কতটি সিম ব্যবহৃত হচ্ছে।’

নতুন তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন,‘মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে মোবাইল নাম্বার ঠিক রেখে অপারেটর বদলের সুযোগ তৈরিতে কাজ করেছি। আমরা মাত্র দুই বছর তিন মাসের মধ্যে এর কাজ শুরু করে অনুমোদন করে নীতিমালা সংশোধন করেছি। অর্থমন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে আমরা লাইসেন্স প্রদান করেছি। আশা করছি আগামী এপ্রিলের মধ্যে এই এনএনপি সেবা জনগণের মধ্যে দেওয়া সম্ভব হবে।’

প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ৬৪ হাজার কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন হয়েছে জানিয়ে তারানা বলেন, ‘ফোর জি গাইডলাইন নানা সমস্যা মোবাবেলা করে আবার তা অনুমোদন পেয়েছে এবং তা অর্থমন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে ফোরজি চালুর সব ধরনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ’

নতুন মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার ইন্টারনেটের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা থাকলেও মন্ত্রণালয়ের দৃশ্যমান তৎপরতা ছিল না। তবে তারানা জানান, এ ক্ষেত্রেও তাদের উদ্যোগ ছিল। তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেটের দাম কমানোর জন্য আমরা কমিটি করেছিলাম। সেই কমিটি তাদের কনসাল্ট পেপারস আমাদের কাছে জমাও দিয়েছিল। সেখানে তারা সুপারিশ করেছিল কীভাবে আমরা ইন্টারনেটের দাম কমাতে পারি।’

টেলিটক প্রসঙ্গ

সরকারি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিটক নিয়েও তার উদ্যোগ তুলে ধরেন তারানা হালিন। বলেন, ‘টেলিটকের নেটওয়ার্ক উন্নয়নে বহুল আকাঙ্ক্ষিত ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অর্থমন্ত্রণালয় পাস করে দিয়েছেন। আমার মন্ত্রণালয় রদবদলেরর সাতদিন আগেই অর্থমন্ত্রণালয় অণুমোদন দিয়েছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে জেলা পর্যায় ও সকল মহাসড়কে টেলিটকের থাকবে। টেলিটক কীভাবে উঠে দাঁড়াবে সেই ব্যবস্থা আমরা করে এসেছি।’

টেলিকম বিধিমালা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘টেলিটকের রিটেইলার শাখা ৩৬ হাজার থেকে ১৫ হাজার বৃদ্ধি পেয়ে তা এখন ৫১ হাজারে উন্নীত হয়েছে। টেলিটকের কাস্টমার কেয়ার সেন্টার এখন ৯৭টিতে উন্নীত করা হয়েছে। টেলিটকের নেটওয়ার্ক বৃদ্ধির জন্য বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আরেকটি চ্যালেঞ্জ ছিল এ বিভাগের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে লোকেশন থেকে তুলে আনা এবং তা লাভজনক করে তোলা। মোবাইল নেটওয়ার্কের মান উন্নয়নের জন্য সমস্যা উদঘাটন করে তা সমাধানের জন্য সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’

ডাক বিভাগের উন্নয়ন

টেলিযোগাযোগের পাশাপাশি ডাক বিভাগের উন্নয়নেও নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন তারানা। জানান, তিনি দায়িত্বে থাকাকালে ২৩ টি পয়েন্টে ই-কমার্স চালু হয়েছে। পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চালু হয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিং।

‘কিছুদিন আগেও ডাক টাকা নামে একটি সফটওয়ার চালু করেছি। যে সফওয়্যারের প্রমোশন অপারেটর আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের যেসব নাগরিক ব্যাংকিং সেবার বাইরে অবস্থান করছেন তাদের এর আওতায় ব্যাংকিং সেবার সাথে যুক্ত হবেন। ’

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইন

বর্তমান সরকারের আমলে টেলিযোগাযোগ খাতের অন্যতম প্রকল্প বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কোন পর্যায়ে আছে, তারও বর্ণনা দেন তারানা হালিম। জানান, মার্চের শেষ দিকে এই স্যাটেলাইট আকাশে উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি শেষ করে আনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানি এই স্যাটেলাইট তৈরির কাজ শেষ করেছে। তারানা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের জন্য তারিখটি আমি সারপ্রাইজ হিসেবে রেখেছিলাম। তারা আমাদের বলেছিল আগামী মার্চের ২৭ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করবেন।’

গাজীপুর দেপবুনিয়াতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশনের কাজ প্রায় শেষ করে আনা হয়েছে বলেও জানান তারানা হালিম।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষই নারীর পরিচালক, এটা মেনে নিয়েই আমরা রাজনীতিতে এসেছি: জামায়াত নেত্রী

সাফল্য প্রধানমন্ত্রীর, ব্যর্থতা আমার: তারানা

আপডেট সময় ০৩:২৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

তথ্য মন্ত্রণালয়ের যোগ দিয়ে সাবেক দপ্তর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কাজের ফিরিস্তি দিলেন প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। বললেন, তার কোনো ব্যর্থতা থাকলে এর দায় তিনি নিচ্ছেন।

গত বুধবার ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে তারানা হালিমকে পাঠানো হয় তথ্য মন্ত্রণালয়ে। দপ্তর পাল্টানোয় তার অভিমানের কথা নিয়ে লেখালেখি হচ্ছিল গণমাধ্যমে। আর চারদিন পর রবিবার সকালে তারানা যোগ দিলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ে। এরপর তিনি সেখানে মত বিনিময় করেন সাংবাদিকদের সঙ্গে।

এ সময় তারানা তার নতুন মন্ত্রণালয়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে যত কথা বলেছেন, তার চেয়ে বেশি বলেছেন তার আগের মন্ত্রণালয় ডাক ও টেলি যোগাযোগের কাজ নিয়ে।

এই মন্ত্রণালয়ে তারানা যোগ দিয়েছিলেন প্রায় আড়াই বছর আগে। আর গোটা সময়ে সেখানে কোনো পূর্ণ মন্ত্রী ছিল না। গত বুধবার এই মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে মঙ্গলবার ট্যাকনোক্রেট কোটায় শপথ নেয়া মোস্তফা জব্বার। যোগ দিয়েই তার মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন জব্বার।

মন্ত্রীর মতে, দেশের টেলিযোগাযোগ খাত ক্যান্সারে আক্রান্ত আর অন্ধগলিতে আইসিটি খাত। আর এই ‘ডুবন্ত নৌকা’কে টেনে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

মন্ত্রীর এসব বক্তব্যের সরাসরি জবাব দেননি তারানা হালিম। বলেন, ‘আমি আগের মন্ত্রণালয়ে থাকতে কিছু সাফল্যের কথা তুলে ধরতে চাই। যেখানে মন্ত্রী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে এবং যার পরামর্শে সবমসয় কাজ করেছি তিনি হলেন মাননীয় প্রধনমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়। তাদের নির্দেশনায় দুই বছর প্রায় চার মাসে যে কাজ গুলো করেছি তা কম নয়।’

এ সময় বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়া, রবি ও এয়ারটেল একিভূত করার মাধ্যমে বাজারে একটি প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য তৈরি করা, কলড্রপে মিনিট ফেরত দেয়া বাধ্যতামূলক করার, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্প, টেলিটকের সম্প্রসারণসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিবি বাস্তবায়ণে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ পরপর দুই বছর বার প্রথম অবস্থানে ছিল বলেও জানান তারানা।

টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট

মোবাইল সিমের গ্রাহক সংখ্যা ১৪ কোটি ৭১ লাখ, মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সাত কোটি ৭২ লাখ উন্নীতকরণ, টেলিডেনসিটি ৮৬.০৬ শতাংশে উন্নীতকরণ, ইন্টারনেট ডেনসিটি ৭৩০.৬২ শতাংশ বৃদ্ধি করা, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কাজ শতভাগ কাজ শেষ করার কথা উল্লেখ করেন তারানা।

তারানা বলেন, ‘বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে স্মার্ট ফোন। মাত্র ৫ মাসে ১১ কোটির অধিক বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা ছিল আমার জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ, যা আমরা অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে বাস্তবায়ণ করতে পেরেছি। সেন্ট্রাল বায়োমেট্রিক মনিটরিং প্লাটফর্ম বিটিআরসিতে স্থাপন করেছি। যেখান থেকে আমরা সহজে বুঝতে পারি কোন গ্রাহকের নামে কতটি সিম ব্যবহৃত হচ্ছে।’

নতুন তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন,‘মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে মোবাইল নাম্বার ঠিক রেখে অপারেটর বদলের সুযোগ তৈরিতে কাজ করেছি। আমরা মাত্র দুই বছর তিন মাসের মধ্যে এর কাজ শুরু করে অনুমোদন করে নীতিমালা সংশোধন করেছি। অর্থমন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে আমরা লাইসেন্স প্রদান করেছি। আশা করছি আগামী এপ্রিলের মধ্যে এই এনএনপি সেবা জনগণের মধ্যে দেওয়া সম্ভব হবে।’

প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ৬৪ হাজার কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন হয়েছে জানিয়ে তারানা বলেন, ‘ফোর জি গাইডলাইন নানা সমস্যা মোবাবেলা করে আবার তা অনুমোদন পেয়েছে এবং তা অর্থমন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে ফোরজি চালুর সব ধরনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ’

নতুন মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার ইন্টারনেটের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা থাকলেও মন্ত্রণালয়ের দৃশ্যমান তৎপরতা ছিল না। তবে তারানা জানান, এ ক্ষেত্রেও তাদের উদ্যোগ ছিল। তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেটের দাম কমানোর জন্য আমরা কমিটি করেছিলাম। সেই কমিটি তাদের কনসাল্ট পেপারস আমাদের কাছে জমাও দিয়েছিল। সেখানে তারা সুপারিশ করেছিল কীভাবে আমরা ইন্টারনেটের দাম কমাতে পারি।’

টেলিটক প্রসঙ্গ

সরকারি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিটক নিয়েও তার উদ্যোগ তুলে ধরেন তারানা হালিন। বলেন, ‘টেলিটকের নেটওয়ার্ক উন্নয়নে বহুল আকাঙ্ক্ষিত ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অর্থমন্ত্রণালয় পাস করে দিয়েছেন। আমার মন্ত্রণালয় রদবদলেরর সাতদিন আগেই অর্থমন্ত্রণালয় অণুমোদন দিয়েছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে জেলা পর্যায় ও সকল মহাসড়কে টেলিটকের থাকবে। টেলিটক কীভাবে উঠে দাঁড়াবে সেই ব্যবস্থা আমরা করে এসেছি।’

টেলিকম বিধিমালা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘টেলিটকের রিটেইলার শাখা ৩৬ হাজার থেকে ১৫ হাজার বৃদ্ধি পেয়ে তা এখন ৫১ হাজারে উন্নীত হয়েছে। টেলিটকের কাস্টমার কেয়ার সেন্টার এখন ৯৭টিতে উন্নীত করা হয়েছে। টেলিটকের নেটওয়ার্ক বৃদ্ধির জন্য বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আরেকটি চ্যালেঞ্জ ছিল এ বিভাগের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে লোকেশন থেকে তুলে আনা এবং তা লাভজনক করে তোলা। মোবাইল নেটওয়ার্কের মান উন্নয়নের জন্য সমস্যা উদঘাটন করে তা সমাধানের জন্য সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’

ডাক বিভাগের উন্নয়ন

টেলিযোগাযোগের পাশাপাশি ডাক বিভাগের উন্নয়নেও নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন তারানা। জানান, তিনি দায়িত্বে থাকাকালে ২৩ টি পয়েন্টে ই-কমার্স চালু হয়েছে। পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চালু হয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিং।

‘কিছুদিন আগেও ডাক টাকা নামে একটি সফটওয়ার চালু করেছি। যে সফওয়্যারের প্রমোশন অপারেটর আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের যেসব নাগরিক ব্যাংকিং সেবার বাইরে অবস্থান করছেন তাদের এর আওতায় ব্যাংকিং সেবার সাথে যুক্ত হবেন। ’

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইন

বর্তমান সরকারের আমলে টেলিযোগাযোগ খাতের অন্যতম প্রকল্প বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কোন পর্যায়ে আছে, তারও বর্ণনা দেন তারানা হালিম। জানান, মার্চের শেষ দিকে এই স্যাটেলাইট আকাশে উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি শেষ করে আনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানি এই স্যাটেলাইট তৈরির কাজ শেষ করেছে। তারানা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের জন্য তারিখটি আমি সারপ্রাইজ হিসেবে রেখেছিলাম। তারা আমাদের বলেছিল আগামী মার্চের ২৭ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করবেন।’

গাজীপুর দেপবুনিয়াতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশনের কাজ প্রায় শেষ করে আনা হয়েছে বলেও জানান তারানা হালিম।