ঢাকা ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিসিএস ‘অসুখ’ থেকে বের হতে হবে: ডা. জাহেদ নকলের রূপ পালটিয়েছে, এখন ডিজিটালি হচ্ছে নকল: শিক্ষামন্ত্রী আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে: জামায়াত আমির বিএনপি এখন মেজরিটি, সংসদে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে: হাসনাত ট্রাম্প মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন, তাঁকে পদচ্যুত করা দরকার: সিআইএর সাবেক পরিচালক ইসরাইলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি এরদোগানের সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঘানা ফুটবলার নিহত আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা বলতে বাংলাদেশে কিছু নেই: প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নববর্ষ উদযাপনে কোনো হুমকি নেই : র‍্যাব ডিজি পহেলা বৈশাখে শাহবাগ মেট্রো স্টেশন ১২টা পর্যন্ত, ঢাবি স্টেশন সারাদিন বন্ধ

শিশুর ডায়রিয়া হলে কী করবেন

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

ডায়রিয়া একটি পানিবাহিত রোগ। তাই বর্ষা মওসুমে এর প্রাদুর্ভাবও বেশি। সব বয়সের মানুষের এটা হতে পারে। তবে শিশুদের জন্য এটি একটি বিশেষ গুরুতর সমস্যা। আমাদের দেশে শিশুমৃত্যুর হার অনেক বেশি। ডায়রিয়া এবং এর পরিণতি হিসেবে সৃষ্ট অপুষ্টি ও অন্যান্য রোগ এর জন্য অনেকাংশে দায়ী।

ডায়রিয়া হলে কী করবেন?
১। পানিস্বল্পতা যাতে না হয় সেজন্য শিশুকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তরল খাবার দিন। ডায়রিয়ার ফলে শরীর থেকে যতটুকু পানি ও লবণ বেরিয়ে যায় ঠিক এতটুকু পানি ও লবণ যদি সময়মতো পূরণ করা হয় তাহলে ডায়রিয়াজনিত পানিস্বল্পতার কারণে মৃত্যু ঘটে না।

• যেসব তরল খাওয়ানো যেতে পারে : (১) খাবার স্যালাইন, (২) লবণ-চিনি বা গুড়ের শরবত, (৩) ডাবের পানি কিংবা শুধু পানি, (৪) চিড়ার পানি, (৫) ভাতের মাড়, (৬) খাবার পানি।ডায়রিয়া বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তরল খাবার চালিয়ে যেতে হবে।

২। অপুষ্টি যাতে না হয় সেজন্য শিশুকে প্রচুর খাবার দিতে হবে। বুকের দুধ চালিয়ে যেতে হবে এবং ঘন ঘন খাওয়াতে হবে। শিশু অন্য দুধে অভ্যস্ত হলে তাই খাওয়াতে হবে এবং কমপক্ষে প্রতি ৩ ঘণ্টা অন্তর খাওয়াতে হবে।

টাটকা খাবার : যে বয়সের জন্য যে খাবার স্বাভাবিক তাই খাওয়াতে হবে।

• উপযোগী খাবার : ভাত, ডাল, শাকসবজি, ডিম, মাছ, গোশত অথবা এসবের খিচুড়ি। খাবারের সাথে এক বা দুই চা চামচ তেল দিতে হবে।

• টাটকা ফলের রস, কলা বা পেঁপে চটকিয়ে দিতে হবে। ৩-৪ ঘণ্টা পরপর দিনে অন্তত ছয়বার খেতে দিতে হবে। খুব ছোট শিশুদের আরো বেশি খেতে দিতে হবে। শিশু যতটা খেতে চায় ততটা খাওয়ার জন্য তাকে উৎসাহিত করতে হবে।

• খাবার নরম করে রান্না করতে হবে যাতে সহজে হজম হয়।

• ডায়রিয়া বন্ধ হওয়ার পর শিশুকে প্রথম দুই সপ্তাহের জন্য প্রতিদিন একবার করে অতিরিক্ত খাবার দিতে হবে। যত দিন না শিশু তার আগের অবস্থা ফিরে পায়।

৩। নিচের লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি দেখা দিলে শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
(১) কয়েকবার পাতলা পায়খানা, (২) বারবার বমি, (৩) জ্বর, (৪) অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত (৫) খাদ্য বা পানীয় গ্রহণে অনীহা, (৬) পায়খানায় রক্ত, (৭) চোখ বসে গেলে, (৮) যদি তিন দিনের মধ্যেও অবস্থার উন্নতি না হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

শিশুর ডায়রিয়া হলে কী করবেন

আপডেট সময় ০১:৪৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুলাই ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

ডায়রিয়া একটি পানিবাহিত রোগ। তাই বর্ষা মওসুমে এর প্রাদুর্ভাবও বেশি। সব বয়সের মানুষের এটা হতে পারে। তবে শিশুদের জন্য এটি একটি বিশেষ গুরুতর সমস্যা। আমাদের দেশে শিশুমৃত্যুর হার অনেক বেশি। ডায়রিয়া এবং এর পরিণতি হিসেবে সৃষ্ট অপুষ্টি ও অন্যান্য রোগ এর জন্য অনেকাংশে দায়ী।

ডায়রিয়া হলে কী করবেন?
১। পানিস্বল্পতা যাতে না হয় সেজন্য শিশুকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তরল খাবার দিন। ডায়রিয়ার ফলে শরীর থেকে যতটুকু পানি ও লবণ বেরিয়ে যায় ঠিক এতটুকু পানি ও লবণ যদি সময়মতো পূরণ করা হয় তাহলে ডায়রিয়াজনিত পানিস্বল্পতার কারণে মৃত্যু ঘটে না।

• যেসব তরল খাওয়ানো যেতে পারে : (১) খাবার স্যালাইন, (২) লবণ-চিনি বা গুড়ের শরবত, (৩) ডাবের পানি কিংবা শুধু পানি, (৪) চিড়ার পানি, (৫) ভাতের মাড়, (৬) খাবার পানি।ডায়রিয়া বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তরল খাবার চালিয়ে যেতে হবে।

২। অপুষ্টি যাতে না হয় সেজন্য শিশুকে প্রচুর খাবার দিতে হবে। বুকের দুধ চালিয়ে যেতে হবে এবং ঘন ঘন খাওয়াতে হবে। শিশু অন্য দুধে অভ্যস্ত হলে তাই খাওয়াতে হবে এবং কমপক্ষে প্রতি ৩ ঘণ্টা অন্তর খাওয়াতে হবে।

টাটকা খাবার : যে বয়সের জন্য যে খাবার স্বাভাবিক তাই খাওয়াতে হবে।

• উপযোগী খাবার : ভাত, ডাল, শাকসবজি, ডিম, মাছ, গোশত অথবা এসবের খিচুড়ি। খাবারের সাথে এক বা দুই চা চামচ তেল দিতে হবে।

• টাটকা ফলের রস, কলা বা পেঁপে চটকিয়ে দিতে হবে। ৩-৪ ঘণ্টা পরপর দিনে অন্তত ছয়বার খেতে দিতে হবে। খুব ছোট শিশুদের আরো বেশি খেতে দিতে হবে। শিশু যতটা খেতে চায় ততটা খাওয়ার জন্য তাকে উৎসাহিত করতে হবে।

• খাবার নরম করে রান্না করতে হবে যাতে সহজে হজম হয়।

• ডায়রিয়া বন্ধ হওয়ার পর শিশুকে প্রথম দুই সপ্তাহের জন্য প্রতিদিন একবার করে অতিরিক্ত খাবার দিতে হবে। যত দিন না শিশু তার আগের অবস্থা ফিরে পায়।

৩। নিচের লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি দেখা দিলে শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
(১) কয়েকবার পাতলা পায়খানা, (২) বারবার বমি, (৩) জ্বর, (৪) অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত (৫) খাদ্য বা পানীয় গ্রহণে অনীহা, (৬) পায়খানায় রক্ত, (৭) চোখ বসে গেলে, (৮) যদি তিন দিনের মধ্যেও অবস্থার উন্নতি না হয়।