ঢাকা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

এতদিন একটি অন্ধকার কক্ষে ছিলাম: সিজার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

৪৪ দিন পরে ফিরে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান সিজার জানিয়েছেন, তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। এতদিন তাকে একটি অন্ধকার কক্ষে রাখা হয়। তিনি কোনো আলো দেখতে পাননি। অপহরণকারীরা তার কাছে টাকা চাইত বলেও জানান তিনি। তবে কারা কী কারণে তাকে অপহরণ করেছিল এ সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

শুক্রবার সকালে বনশ্রীর বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে বাসায় ফিরে আসেন। তার বাবা মোতাহার হোসেন জানান, রাতে অপরিচিত একটি নাম্বার থেকে তার কাছে ফোন আসে। সিজার নিজেই কথা বলেন। সিজার জানান, একটি সিএনজি অটোরিকশা দিয়ে তিনি আসছেন, কেউ যেন নিচে নেমে ভাড়া পরিশোধ করেন। পরে স্বজনরা বাসার নিচ থেকে তাকে নিয়ে আসেন।

কীভাবে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল এর বর্ণনা দিয়ে সিজার বলেন, আমি ঘটনার দিন ইউএনডিপি’র একটি প্রোগ্রাম শেষে বাসায় ফিরছিলাম। যতটুকু মনে পড়ে আমি রোকেয়া সরণির দিকে উবারের একটি গাড়িতে করে যাচ্ছিলাম। এসময় আমি আমার ফোনটি ব্রাউজ করছিলাম।

ওইসময়ে একজন আমার গাড়িটি থামায় এবং বলে আমার গাড়িটি চোরাই গাড়ি। তুমি নামো। এরপর আমি নেমে যাই। নামার পর কে যেন পেছন দিক থেকে আমার চোখে মলম লাগিয়ে দেয়, কিছু একটা দিয়ে পেছন দিক থেকে আমার মুখে চেপে ধরে। এরপর আমি সেন্সলেস হয়ে যাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, পরদিন আমি যখন জ্ঞান ফিরে পাই তখন উঠে দেখি আমার হাত পেছন দিক থেকে বাঁধা। ময়লা তোষক ও জানালা বাইরে থেকে সিলগালা করে রাখা। ওই সময়ে শুনছিলাম চার পাঁচজন পাশের রুম থেকে কথা বলছিল। সেখানেই ছিলাম, দিনের আলো দেখতে পাইনি। অনেকদিন পর দিনের আলো দেখছি।

কীভাবে ছাড়া পেলেন এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গতকাল রাতে হাত বাঁধা অবস্থায় আমাকে এয়ারপোর্ট রোডে ফেলে রেখে যায়। আমাকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে বলে, পেছনে তাকাবি না। আমি একটা সিএনজি নিয়ে বাড়ির যাই। রাস্তায় সিএনজিওয়ালার মোবাইল দিয়ে বাবাকে ফোন দিই। বাবা সিএনজি ভাড়া দিয়ে দেন।

৭ নভেম্বর সকালে রামপুরার বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে বের হন সিজার। পরে আর বাসায় ফেরেননি। এ ঘটনায় সিজারের বাবা মোতাহার হোসেন খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এর আগে ৭০ দিন পর ফিরে আসেন সাংবাদিক উৎপল দাস। তাকেও একইভাবে অপহরণ করা হয় এবং নারায়ণগঞ্জের ভুলতায় চোখ বেঁধে রেখে যায়। পরে উৎপল যে বর্ণনা দেন তাতেও তিনি জানান, তাকেও একই কায়েদায় অপহরণ করে একটি অন্ধকার কক্ষে এতদিন আটকে রাখা হয়। সিজার ও উৎপল উভয়ের বর্ণনা প্রায় একই ধরনের।

উৎপল ও সিজার ছাড়াও গত এক বছরে ঢাকায় ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও কূটনীতিক মিলিয়ে ১০ জনেরও বেশি নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সবশেষ ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিদেশ থেকে আসা মেয়েকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে ধানমন্ডির বাসা বের হয়ে নিখোঁজ হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও কূটনীতিক মারুফ জামান। তারও কোনো খোঁজ মিলছে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এতদিন একটি অন্ধকার কক্ষে ছিলাম: সিজার

আপডেট সময় ০১:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

৪৪ দিন পরে ফিরে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান সিজার জানিয়েছেন, তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। এতদিন তাকে একটি অন্ধকার কক্ষে রাখা হয়। তিনি কোনো আলো দেখতে পাননি। অপহরণকারীরা তার কাছে টাকা চাইত বলেও জানান তিনি। তবে কারা কী কারণে তাকে অপহরণ করেছিল এ সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

শুক্রবার সকালে বনশ্রীর বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে বাসায় ফিরে আসেন। তার বাবা মোতাহার হোসেন জানান, রাতে অপরিচিত একটি নাম্বার থেকে তার কাছে ফোন আসে। সিজার নিজেই কথা বলেন। সিজার জানান, একটি সিএনজি অটোরিকশা দিয়ে তিনি আসছেন, কেউ যেন নিচে নেমে ভাড়া পরিশোধ করেন। পরে স্বজনরা বাসার নিচ থেকে তাকে নিয়ে আসেন।

কীভাবে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল এর বর্ণনা দিয়ে সিজার বলেন, আমি ঘটনার দিন ইউএনডিপি’র একটি প্রোগ্রাম শেষে বাসায় ফিরছিলাম। যতটুকু মনে পড়ে আমি রোকেয়া সরণির দিকে উবারের একটি গাড়িতে করে যাচ্ছিলাম। এসময় আমি আমার ফোনটি ব্রাউজ করছিলাম।

ওইসময়ে একজন আমার গাড়িটি থামায় এবং বলে আমার গাড়িটি চোরাই গাড়ি। তুমি নামো। এরপর আমি নেমে যাই। নামার পর কে যেন পেছন দিক থেকে আমার চোখে মলম লাগিয়ে দেয়, কিছু একটা দিয়ে পেছন দিক থেকে আমার মুখে চেপে ধরে। এরপর আমি সেন্সলেস হয়ে যাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, পরদিন আমি যখন জ্ঞান ফিরে পাই তখন উঠে দেখি আমার হাত পেছন দিক থেকে বাঁধা। ময়লা তোষক ও জানালা বাইরে থেকে সিলগালা করে রাখা। ওই সময়ে শুনছিলাম চার পাঁচজন পাশের রুম থেকে কথা বলছিল। সেখানেই ছিলাম, দিনের আলো দেখতে পাইনি। অনেকদিন পর দিনের আলো দেখছি।

কীভাবে ছাড়া পেলেন এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গতকাল রাতে হাত বাঁধা অবস্থায় আমাকে এয়ারপোর্ট রোডে ফেলে রেখে যায়। আমাকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে বলে, পেছনে তাকাবি না। আমি একটা সিএনজি নিয়ে বাড়ির যাই। রাস্তায় সিএনজিওয়ালার মোবাইল দিয়ে বাবাকে ফোন দিই। বাবা সিএনজি ভাড়া দিয়ে দেন।

৭ নভেম্বর সকালে রামপুরার বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে বের হন সিজার। পরে আর বাসায় ফেরেননি। এ ঘটনায় সিজারের বাবা মোতাহার হোসেন খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এর আগে ৭০ দিন পর ফিরে আসেন সাংবাদিক উৎপল দাস। তাকেও একইভাবে অপহরণ করা হয় এবং নারায়ণগঞ্জের ভুলতায় চোখ বেঁধে রেখে যায়। পরে উৎপল যে বর্ণনা দেন তাতেও তিনি জানান, তাকেও একই কায়েদায় অপহরণ করে একটি অন্ধকার কক্ষে এতদিন আটকে রাখা হয়। সিজার ও উৎপল উভয়ের বর্ণনা প্রায় একই ধরনের।

উৎপল ও সিজার ছাড়াও গত এক বছরে ঢাকায় ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও কূটনীতিক মিলিয়ে ১০ জনেরও বেশি নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সবশেষ ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিদেশ থেকে আসা মেয়েকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে ধানমন্ডির বাসা বের হয়ে নিখোঁজ হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও কূটনীতিক মারুফ জামান। তারও কোনো খোঁজ মিলছে না।