ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মেয়র আনিসের নামে ফাউন্ডেশন করার ঘোষণা স্ত্রীর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সদ্য প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের নামে একটি ফাউন্ডেশন করার ঘোষণা দিয়েছেন তার স্ত্রী রুবানা হক। এই ফাউন্ডেশন থেকে মিডিয়া, শিক্ষা ও উদ্যোক্তা এই তিন ক্যাটাগরিতে স্কলারশিপ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকালে আনিসুল হক স্মরণে আয়োজিত একটি স্মরণসভায় রুবানা হক এই কথা জানান। তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ এই স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে আয়োজন করে। আনিসুল হক এই সংগঠনটির সাবেক সভাপতি।

স্বামীর স্মৃতিচারণ করে রুবানা হক বলেন, ‘কপালি মানুষ কপাল নিয়ে চলে গেছেন। সেটা শুধু একটি কারণে তা হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে সেই জায়গাটা করে দিয়েছেন। তিনি যদি সরকারে না থাকতেন তাহলে এতো মানুষের ভালোভাসা নিয়ে বিদায় নিতে পারতেন না। কাজেই আমরা আন্তরিকভাবে সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

রুবানা বলেন, ‘আনিস কখনো চাননি কর্মহীন জীবন যাপন করতে। আল্লাহ তাকে তার সময় মতো নিয়ে গেছেন। আমাদেরকে তিনি শূন্য করে দিয়ে গেছেন, কিন্তু তিনি খুব সুন্দরভাবে গেছেন।’

এসময় রুবানা হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আপনারা আনিসের জন্য দোয়া করবেন। আমি কখনো প্রশ্ন করিনি আল্লাহ তাকে কেন নিয়ে গেছেন। আমি জানি যেভাবে গেছেন এভাবে যাওয়ার জন্য কপাল লাগে। মৃত্যু খুব সহজ। চার মাস আমরা যুদ্ধ করেছি। উনি কিছুই টের পাননি। উনি ঘুমিয়েছিলেন। শুধু একদিন জেগেছিলেন। কষ্ট আমার হয়েছে, উনার হয়নি। বেঁচে থাকাটা কঠিন। আমরা যেন সবাই সুন্দরভাবে বেচে থাকি।’

রুবানা বলেন, ‘আমরা নানাজন নানা দল করি। এতে আনিসের কিছুই যেতো আসতো না। তিনি সবাইকে অন্তর দিয়ে ভালোবেসেছেন। আমাকে এবং আমার সন্তানদের শিখিয়েছেন সংকীর্ণ না হতে। উদার হতে। আমরা বার বার বলেছি আনিস ফেরত আসবেন। আমার স্থির বিশ্বাস এমন সহস্র আনিস বাংলাদেশে আসবে।’

ফাউন্ডেশন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ছোট্ট একটি ফাউন্ডেশন করছি আনিসের জন্য, আনিসুল হক ফাউন্ডেশন। আমরা মিডিয়া, শিক্ষা ও উদ্যোক্তা এ ধরনের কয়েকটি ফিল্ডে স্কলারশিপ দেব। যাতে করে বারবার আমরা আনিসকে স্মরণ করতে পারি। এরকম অনেক আনিস যেন আসে। আমরা আশায় আছি, অপেক্ষায় আছি তিনি আসবেন। আমাদের মাঝে কোনো না কোনো ফর্মে ফিরে আসবেন।’

স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ, অর্থনীতিবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মেয়র আনিসের নামে ফাউন্ডেশন করার ঘোষণা স্ত্রীর

আপডেট সময় ০৯:৩৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সদ্য প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের নামে একটি ফাউন্ডেশন করার ঘোষণা দিয়েছেন তার স্ত্রী রুবানা হক। এই ফাউন্ডেশন থেকে মিডিয়া, শিক্ষা ও উদ্যোক্তা এই তিন ক্যাটাগরিতে স্কলারশিপ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকালে আনিসুল হক স্মরণে আয়োজিত একটি স্মরণসভায় রুবানা হক এই কথা জানান। তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ এই স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে আয়োজন করে। আনিসুল হক এই সংগঠনটির সাবেক সভাপতি।

স্বামীর স্মৃতিচারণ করে রুবানা হক বলেন, ‘কপালি মানুষ কপাল নিয়ে চলে গেছেন। সেটা শুধু একটি কারণে তা হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে সেই জায়গাটা করে দিয়েছেন। তিনি যদি সরকারে না থাকতেন তাহলে এতো মানুষের ভালোভাসা নিয়ে বিদায় নিতে পারতেন না। কাজেই আমরা আন্তরিকভাবে সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

রুবানা বলেন, ‘আনিস কখনো চাননি কর্মহীন জীবন যাপন করতে। আল্লাহ তাকে তার সময় মতো নিয়ে গেছেন। আমাদেরকে তিনি শূন্য করে দিয়ে গেছেন, কিন্তু তিনি খুব সুন্দরভাবে গেছেন।’

এসময় রুবানা হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আপনারা আনিসের জন্য দোয়া করবেন। আমি কখনো প্রশ্ন করিনি আল্লাহ তাকে কেন নিয়ে গেছেন। আমি জানি যেভাবে গেছেন এভাবে যাওয়ার জন্য কপাল লাগে। মৃত্যু খুব সহজ। চার মাস আমরা যুদ্ধ করেছি। উনি কিছুই টের পাননি। উনি ঘুমিয়েছিলেন। শুধু একদিন জেগেছিলেন। কষ্ট আমার হয়েছে, উনার হয়নি। বেঁচে থাকাটা কঠিন। আমরা যেন সবাই সুন্দরভাবে বেচে থাকি।’

রুবানা বলেন, ‘আমরা নানাজন নানা দল করি। এতে আনিসের কিছুই যেতো আসতো না। তিনি সবাইকে অন্তর দিয়ে ভালোবেসেছেন। আমাকে এবং আমার সন্তানদের শিখিয়েছেন সংকীর্ণ না হতে। উদার হতে। আমরা বার বার বলেছি আনিস ফেরত আসবেন। আমার স্থির বিশ্বাস এমন সহস্র আনিস বাংলাদেশে আসবে।’

ফাউন্ডেশন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ছোট্ট একটি ফাউন্ডেশন করছি আনিসের জন্য, আনিসুল হক ফাউন্ডেশন। আমরা মিডিয়া, শিক্ষা ও উদ্যোক্তা এ ধরনের কয়েকটি ফিল্ডে স্কলারশিপ দেব। যাতে করে বারবার আমরা আনিসকে স্মরণ করতে পারি। এরকম অনেক আনিস যেন আসে। আমরা আশায় আছি, অপেক্ষায় আছি তিনি আসবেন। আমাদের মাঝে কোনো না কোনো ফর্মে ফিরে আসবেন।’

স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ, অর্থনীতিবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।