অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আধিপত্যবাদী শক্তি আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে গ্রাস করে আমাদেরকে একটি পদানত জাতিতে পরিণত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত। আর ওই অপশক্তির এদেশীয় দোসররা নানাবিধ চক্রান্তজাল রচনা করে আমাদের বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা বিপন্ন করে চলেছে বলেও মনে করেন তিনি।
বিজয় দিবস উদযাপনের আগের দিন শুক্রবার গণমাধ্যমে এই বাণী পাঠানো হয় বিএনপির পক্ষ থেকে। এতে খালেদা জিয়া বলেন, ‘১৯৭১-এ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি শত্রুমুক্ত হলেও চক্রান্তকারীদের চক্রান্ত আজও বিদ্যমান।’
জাতীয় দিবসের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বরাবর জাতির উদ্দেশ্যে বাণী দেন। বরাবরের মতো এবারের বাণীতে তিনি পাকিস্তান শব্দটি ব্যবহার করেননি। যদিও একটি জায়গায় এবার ‘পাক হানাদার বাহিনী’ ব্যবহার করেছেন।
বিএনপির নেত্রীর দাবি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ‘স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ডাকে’ স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হয়।’ তিনি বলেন, ‘ওই বছর ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে দেশের অকুতোভয় বীর মুক্তি যোদ্ধারা বিজয়ী হয়। তাই ১৬ ডিসেম্বর আমাদের গর্বিত এবং মহিমান্বিত বিজয় দিবস।’
‘এদেশের দামাল ছেলেরা হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে ছিনিয়ে এনেছিলো স্বাধীনতার সূর্য। আজকের এ মহান দিনে আমি সেসব অকুতোভয় বীর সেনাদের সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানাই।’
‘শোষণ-বঞ্চণামুক্ত একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়েই ১৯৭১-এ এদেশের মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল’ উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এদেশে এখন মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা নেই। এদেশের মানুষ এখন অধিকার হারা।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের পর এ দেশ থেকে শ্বাশ্বত গণতন্ত্র নিরুদ্দেশ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন খালেদা জিয়া। বলেছেন, ‘গণতন্ত্রহীন দেশে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার দাপটে সর্বত্র হতাশা, ভয় আর নৈরাজ্যের অন্ধকার নেমে এসেছে। ক্ষমতা জবরদখলকারীরা জনগণের ওপর নৃশংস আক্রমণ চালিয়ে হত্যা করছে।’
‘বর্তমান পরিস্থিতি যেন ভয়ংকর নৈরাজ্যময়। এই অশুভ শক্তির নীলনক্শা বাস্তবায়নে রক্তপাতের ওপরই নির্ভর করা হচ্ছে। ওদের হাত থেকে প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে বিপদমুক্ত করতে স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান হয়ে আমাদের জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’
বর্তমানের ‘নৈরাজ্য’ বেশিদিন থাকবে না উল্লেখ করে বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে আমাদের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছে, জনগণের মৌলিক ও মানবিক অধিকার খর্ব হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই এদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে।’
মির্জা ফখরুলের শুভেচ্ছা
অপর এক বাণীতে দেশবাসীকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। তিনি বলেন, ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা আমাদের শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ অর্জন। গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়েই আমরা স্বাধীনতাযুদ্ধ করেছিলাম। সে লক্ষ্য পূরণে আমরা আজও কাজ করে যাচ্ছি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হবো বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















