ঢাকা ০২:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে: মাহ্দী আমিন আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি: হাসনাত আবদুল্লাহ চাঁদপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন এমপি গাজী নজরুলের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে ইসি ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই : মির্জা ফখরুল প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হরমুজে প্রতিটি হামলার জন্য একটি করে ইরানি সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে: ট্রাম্প ২১ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ২৫ হাজার ৭৬৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা গত ১৭ বছর দেশে জনগণের নির্বাচিত সরকার ছিল না: খায়রুল কবির খোকন পোশাক শিল্পের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

নিজ শিশু পুত্রকে গলাকেটে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যার চেষ্টা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় পাঁচ বছরের প্রতিবন্ধী শিশুকে গলাকেটে হত্যার হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বাবাও। তালতলা মধ্যপাড়া নামক স্থানে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ঘাতক হাবিবুর রহমানকে ময়মসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। পারিবারিক অশান্তির কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকু উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আট থেকে নয় বছর আগে উপজেলার বরুকা গ্রামের হাজী জয়নাল আবেদীনের ছেলে হাবিবুর রহমান চকরাধাকানাই গ্রামে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে লাবিব হাসান রিয়েন নামে এক পুত্র সন্তান রয়েছে। জামালপুরে একটি এনজিওতে চাকরি করার সময় হাবিবুর আরেকটি বিয়ে করেন। এ খবর শোনার পর প্রথম স্ত্রী দুই থেকে তিন মাস আগে হাবিবুরকে তালাক দিয়ে বাবার বাড়ি চলে যায়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় হাবিবুর তার প্রতিবন্ধী ছেলে রিয়েনকে ফুলবাড়িয়া-ময়মনসিংহ সড়কের তালতলা নামক এলাকায় নিয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে। পরে নিজেও ওই ছুরি দিয়ে ‘আত্মহত্যার’ চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজন তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে হাবিবুরকে উদ্ধার করে ময়মসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

হাবিবুরের ভগ্নিপতি চান মিয়া জানান, তার শ্যালক হাবিবুরকে বৃহস্পতিবার জামালপুর থেকে বাড়িতে আসার কথা তিনি শুনেছেন। তার শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুপুত্রকে নিয়ে পারিবারিকভাবে অশান্তিতে ছিল বলে তিনি শুনেছেন। স্থানীয় দফাদার মোফাজ্জল হোসেন, মানুষের ভিড় দেখে এগিয়ে গেলে তিনি একটি ধারালো চাকু ও এক জোড়া জুতা দেখতে পান, পরে তিনি ঐগুলো পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

স্থানীয় অটোচালক শাহাজাহান একটি চিঠি (চিরকুট) পেয়েছেন, সেটিতে হাবিবুর লিখেছেন, তাদের হত্যার পেছনে কেউ দায়ী নয়, সে নিজেই এ হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ কবিরুল ইসলাম জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ পাহারায় হাবিবুরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে: মাহ্দী আমিন

নিজ শিশু পুত্রকে গলাকেটে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যার চেষ্টা

আপডেট সময় ০২:০৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় পাঁচ বছরের প্রতিবন্ধী শিশুকে গলাকেটে হত্যার হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বাবাও। তালতলা মধ্যপাড়া নামক স্থানে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ঘাতক হাবিবুর রহমানকে ময়মসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। পারিবারিক অশান্তির কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকু উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আট থেকে নয় বছর আগে উপজেলার বরুকা গ্রামের হাজী জয়নাল আবেদীনের ছেলে হাবিবুর রহমান চকরাধাকানাই গ্রামে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে লাবিব হাসান রিয়েন নামে এক পুত্র সন্তান রয়েছে। জামালপুরে একটি এনজিওতে চাকরি করার সময় হাবিবুর আরেকটি বিয়ে করেন। এ খবর শোনার পর প্রথম স্ত্রী দুই থেকে তিন মাস আগে হাবিবুরকে তালাক দিয়ে বাবার বাড়ি চলে যায়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় হাবিবুর তার প্রতিবন্ধী ছেলে রিয়েনকে ফুলবাড়িয়া-ময়মনসিংহ সড়কের তালতলা নামক এলাকায় নিয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে। পরে নিজেও ওই ছুরি দিয়ে ‘আত্মহত্যার’ চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজন তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে হাবিবুরকে উদ্ধার করে ময়মসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

হাবিবুরের ভগ্নিপতি চান মিয়া জানান, তার শ্যালক হাবিবুরকে বৃহস্পতিবার জামালপুর থেকে বাড়িতে আসার কথা তিনি শুনেছেন। তার শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুপুত্রকে নিয়ে পারিবারিকভাবে অশান্তিতে ছিল বলে তিনি শুনেছেন। স্থানীয় দফাদার মোফাজ্জল হোসেন, মানুষের ভিড় দেখে এগিয়ে গেলে তিনি একটি ধারালো চাকু ও এক জোড়া জুতা দেখতে পান, পরে তিনি ঐগুলো পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

স্থানীয় অটোচালক শাহাজাহান একটি চিঠি (চিরকুট) পেয়েছেন, সেটিতে হাবিবুর লিখেছেন, তাদের হত্যার পেছনে কেউ দায়ী নয়, সে নিজেই এ হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ কবিরুল ইসলাম জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ পাহারায় হাবিবুরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।