ঢাকা ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এ বাজেট বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনতুষ্টিমূলক: জিএম কাদের দলীয় প্রভাবমুক্ত ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের নির্দেশ অর্থমন্ত্রীর মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়ে গেলে আমরা সমৃদ্ধির পথে যাব: অর্থমন্ত্রী ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে পিরোজপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রাজধানীর ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশের জনগণ আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত করেনি, করবে না: গোলাম পরওয়ার ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পেতে পারে ইরান: জেডি ভ্যান্স গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

ক্ষমা না চাইলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সৌদি আরবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকা এবং অর্থপাচার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে অভিযোগ তুলেছেন তা পুরোপুরি মিথ্যা বলে দাবি করেছে বিএনপি। এই বক্তব্যের জন্য খালেদা জিয়া এবং দেশবাসীর কাছে ক্ষমা না চাইলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। সরকার আকণ্ঠ দুর্নীতিতে জড়িয়ে আছে দাবি করে ফখরুল বলেন, আপনাদের মুখে সুনীতি, সুশাসন, সততা শুধু বেমানান নয় হাস্যকর।’

গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কানাডাভিত্তিক টেলিভিশন নিউজ ইন্টারন্যাশনালের খবর নামে একটি ভিডিও ছড়াচ্ছে। এতে বলা হচ্ছে, সৌদি আরবে খালেদা জিয়া ও তার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। সে দেশে খালেদা জিয়া শপিং মল ‘আল আরাফাহ’ এবং কাতারের বাণিজ্যিক ভবন ‘তিপরার’ মালিক বলে জানানো হয়েছে কথিত ওই সংবাদে।

আবার বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকো কাতারে ইকরা নামে একটি বহুতল ভবনের মালিক। বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়াকে এই অর্থপাচারের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

তবে এই সংবাদ বাংলাদেশের মূলধারার বেশিরভাগ গণমাধ্যম প্রচার করেনি। এ জন্য বৃহস্পতিবার গণমাধ্যম মালিকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রশ্ন তোলেন রসগোল্লা খেয়ে এই সংবাদ প্রচার বন্ধ রাখা হয়েছে কি না। আর বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে এমন খবর আসলে গণমাধ্যম মালিকরা কী করতেন, সে প্রশ্নও তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

এই ভিডিওর বিষয়ে এতদিন চুপচাপ ছিল বিএনপি। তবে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধানমন্ত্রীকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা সৌদিতে ফোন দিয়েছি, গণমাধ্যম ঘেঁটে দেখেছি। কোথাও এ ধরনের তথ্য নেই।’

‘আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই এই সব বানোয়াট তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও প্রতিবাদ করছি। অবিলম্বে এ ধরনের মানহানিকর মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে আগামীতে এ ধরনের অশালীন, রুচিবর্জিত, রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত মিথ্যা বানোয়াট বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কাল্পনিক এই সব দুর্নীতির কল্পকাহিনির মূল উদ্দেশ্য দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করা এবং রাজনৈতিকভাবে তাকে জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা মাত্র।’

‘প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের মিথ্যা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বক্তব্য শুধু অশালীন নয় এটা বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য।’

খালেদা জিয়া বা তার পরিবারের কারো বিরুদ্ধে বিদেশে সম্পদ পাচার বা বিনিয়োগ অভিযোগ আজ পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি বলেও দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। বলেন, ‘অবৈধ ফখরুদ্দীন ও মইনউদ্দীন সরকার এবং শেখ হাসিনার অনৈতিক অবৈধ সরকার তন্ন তন্ন করে সারা বিশ্বে খোঁজ করেও আজ পর্যন্ত কোন সম্পদের অস্তিত্ব পায়নি।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ বাজেট বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনতুষ্টিমূলক: জিএম কাদের

ক্ষমা না চাইলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: ফখরুল

আপডেট সময় ০২:৪৩:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সৌদি আরবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকা এবং অর্থপাচার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে অভিযোগ তুলেছেন তা পুরোপুরি মিথ্যা বলে দাবি করেছে বিএনপি। এই বক্তব্যের জন্য খালেদা জিয়া এবং দেশবাসীর কাছে ক্ষমা না চাইলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। সরকার আকণ্ঠ দুর্নীতিতে জড়িয়ে আছে দাবি করে ফখরুল বলেন, আপনাদের মুখে সুনীতি, সুশাসন, সততা শুধু বেমানান নয় হাস্যকর।’

গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কানাডাভিত্তিক টেলিভিশন নিউজ ইন্টারন্যাশনালের খবর নামে একটি ভিডিও ছড়াচ্ছে। এতে বলা হচ্ছে, সৌদি আরবে খালেদা জিয়া ও তার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। সে দেশে খালেদা জিয়া শপিং মল ‘আল আরাফাহ’ এবং কাতারের বাণিজ্যিক ভবন ‘তিপরার’ মালিক বলে জানানো হয়েছে কথিত ওই সংবাদে।

আবার বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকো কাতারে ইকরা নামে একটি বহুতল ভবনের মালিক। বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়াকে এই অর্থপাচারের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

তবে এই সংবাদ বাংলাদেশের মূলধারার বেশিরভাগ গণমাধ্যম প্রচার করেনি। এ জন্য বৃহস্পতিবার গণমাধ্যম মালিকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রশ্ন তোলেন রসগোল্লা খেয়ে এই সংবাদ প্রচার বন্ধ রাখা হয়েছে কি না। আর বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে এমন খবর আসলে গণমাধ্যম মালিকরা কী করতেন, সে প্রশ্নও তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

এই ভিডিওর বিষয়ে এতদিন চুপচাপ ছিল বিএনপি। তবে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধানমন্ত্রীকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা সৌদিতে ফোন দিয়েছি, গণমাধ্যম ঘেঁটে দেখেছি। কোথাও এ ধরনের তথ্য নেই।’

‘আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই এই সব বানোয়াট তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও প্রতিবাদ করছি। অবিলম্বে এ ধরনের মানহানিকর মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে আগামীতে এ ধরনের অশালীন, রুচিবর্জিত, রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত মিথ্যা বানোয়াট বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কাল্পনিক এই সব দুর্নীতির কল্পকাহিনির মূল উদ্দেশ্য দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করা এবং রাজনৈতিকভাবে তাকে জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা মাত্র।’

‘প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের মিথ্যা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বক্তব্য শুধু অশালীন নয় এটা বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য।’

খালেদা জিয়া বা তার পরিবারের কারো বিরুদ্ধে বিদেশে সম্পদ পাচার বা বিনিয়োগ অভিযোগ আজ পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি বলেও দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। বলেন, ‘অবৈধ ফখরুদ্দীন ও মইনউদ্দীন সরকার এবং শেখ হাসিনার অনৈতিক অবৈধ সরকার তন্ন তন্ন করে সারা বিশ্বে খোঁজ করেও আজ পর্যন্ত কোন সম্পদের অস্তিত্ব পায়নি।’