ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের জনগণ আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত করেনি, করবে না: গোলাম পরওয়ার ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পেতে পারে ইরান: জেডি ভ্যান্স গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল চলতি অর্থবছরের ৫৬ হাজার কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস ‘দুর্নীতির মতো ধর্ষণেরও কোনো ছোট কিংবা বড় ডেফিনেশন হতে পারে না’:সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি হবে: প্রতিমন্ত্রী নুর ‘চুক্তি হলেও ইরানে সংঘটিত অপরাধ ভুলে যাওয়া হবে না’:ইসমাইল বাঘাই স্থানীয় নির্বাচন কবে ও আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার প্রশ্ন নির্যাতনের শিকার ৪১ হাজার ৫৫৫ নারী-শিশুর ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন: সংসদে মন্ত্রী

বাবার জন্য দোয়া চাইলেন মেয়র পুত্র নাভিদুল হক

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে বাবা মেয়র আনিসুল হকের জানাজার সময় তার জন্য সবার দোয়া চাইলেন ছেলে নাভিদুল হক। বিপুল জনপ্রিয় মেয়রকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে আর্মি স্টেডিয়ামে ছুটে এসেছিলেন লাখো মানুষ। জানাজা শেষে তারা চোখের জলে বিদায় জানান ঢাকা উত্তরের নগরপিতাকে।

এ সময় শোকাহত পরিবারের পক্ষ থেকে আনিসুল হকের জন্য সবার কাছে দোয়া চান তার একমাত্র ছেলে নাভিদুল হক। জানাজার আগে বাবার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে নাভিদুল হক বলেন, ‘কাজের খাতিরে কেউ যদি বাবার ব্যবহারে কোনো দুঃখ পেয়ে থাকেন, তাহলে তাকে ক্ষমা করে দেবেন।’

নাভিদুল বলেন, ‘আমার বাবা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকে ছিলেন শৌখিন মানুষ। তিনি সুখী ও হাসিখুশি মানুষ ছিলেন।’ শনিবার বেলা ৪টা ২০ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা হয় মেয়র আনিসুলের। এরপর সবার শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মেয়র আনিসুল হক ছিলেন টিভি উপস্থাপক, সফল ব্যবসায়ী, একাধিক ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা। সবশেষ তিনি দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বেশ কিছু ভালো ও সাহসী উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসিত হন মেয়র আনিসুল। নগরবাসীর স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে অনেকের রক্তচক্ষুর সামনে পড়তে হয়েছিল তাকে। তবে কোনো কিছুই তাকে রাজধানীর উন্নয়ন পথ থেকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।

কিন্তু মৃত্যুর কাছে পরাজিত হলেন জনপ্রিয় মেয়র। ৩০ নভেম্বর লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় লন্ডনের রিজেন্ট পার্ক সেন্ট্রাল মসজিদে।

যুক্তরাজ্য থেকে আজ শনিবার তার মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়। মেয়রের মরদেহ বহনকারী বিমানটি আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এরপর দুপুর ১টার দিকে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বিমানটি। পরে সেখান থেকে দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে মরদেহ বনানীর বাসায় নেয়া হয়।

বনানীর ২৩ নম্বর সড়কের এ বাসা থেকেই গত ২৯ জুলাই নাতির জন্ম উপলক্ষে ব্যক্তিগত সফরে পরিবারসহ লন্ডনে যান আনিসুল হক। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৩ আগস্ট তাকে লন্ডনের ন্যাশনাল নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত রোগ ‘সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস’ শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা। প্রায় সাড়ে তিন মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বৃহস্পতিবার মারা যান তিনি।

শনিবার দুপুরে তার মরদেহ বাসায় পৌঁছালে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাসায় ভিড় জমান বন্ধু, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। প্রিয় নগরপিতাকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে ভিড় করেন অনেক নগরবাসীও। বাসায় গিয়ে পরিবারকে সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের জনগণ আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত করেনি, করবে না: গোলাম পরওয়ার

বাবার জন্য দোয়া চাইলেন মেয়র পুত্র নাভিদুল হক

আপডেট সময় ০৬:০৩:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে বাবা মেয়র আনিসুল হকের জানাজার সময় তার জন্য সবার দোয়া চাইলেন ছেলে নাভিদুল হক। বিপুল জনপ্রিয় মেয়রকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে আর্মি স্টেডিয়ামে ছুটে এসেছিলেন লাখো মানুষ। জানাজা শেষে তারা চোখের জলে বিদায় জানান ঢাকা উত্তরের নগরপিতাকে।

এ সময় শোকাহত পরিবারের পক্ষ থেকে আনিসুল হকের জন্য সবার কাছে দোয়া চান তার একমাত্র ছেলে নাভিদুল হক। জানাজার আগে বাবার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে নাভিদুল হক বলেন, ‘কাজের খাতিরে কেউ যদি বাবার ব্যবহারে কোনো দুঃখ পেয়ে থাকেন, তাহলে তাকে ক্ষমা করে দেবেন।’

নাভিদুল বলেন, ‘আমার বাবা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকে ছিলেন শৌখিন মানুষ। তিনি সুখী ও হাসিখুশি মানুষ ছিলেন।’ শনিবার বেলা ৪টা ২০ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা হয় মেয়র আনিসুলের। এরপর সবার শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মেয়র আনিসুল হক ছিলেন টিভি উপস্থাপক, সফল ব্যবসায়ী, একাধিক ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা। সবশেষ তিনি দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বেশ কিছু ভালো ও সাহসী উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসিত হন মেয়র আনিসুল। নগরবাসীর স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে অনেকের রক্তচক্ষুর সামনে পড়তে হয়েছিল তাকে। তবে কোনো কিছুই তাকে রাজধানীর উন্নয়ন পথ থেকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।

কিন্তু মৃত্যুর কাছে পরাজিত হলেন জনপ্রিয় মেয়র। ৩০ নভেম্বর লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় লন্ডনের রিজেন্ট পার্ক সেন্ট্রাল মসজিদে।

যুক্তরাজ্য থেকে আজ শনিবার তার মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়। মেয়রের মরদেহ বহনকারী বিমানটি আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এরপর দুপুর ১টার দিকে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বিমানটি। পরে সেখান থেকে দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে মরদেহ বনানীর বাসায় নেয়া হয়।

বনানীর ২৩ নম্বর সড়কের এ বাসা থেকেই গত ২৯ জুলাই নাতির জন্ম উপলক্ষে ব্যক্তিগত সফরে পরিবারসহ লন্ডনে যান আনিসুল হক। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৩ আগস্ট তাকে লন্ডনের ন্যাশনাল নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত রোগ ‘সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস’ শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা। প্রায় সাড়ে তিন মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বৃহস্পতিবার মারা যান তিনি।

শনিবার দুপুরে তার মরদেহ বাসায় পৌঁছালে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাসায় ভিড় জমান বন্ধু, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। প্রিয় নগরপিতাকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে ভিড় করেন অনেক নগরবাসীও। বাসায় গিয়ে পরিবারকে সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।