ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের জনগণ আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত করেনি, করবে না: গোলাম পরওয়ার ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পেতে পারে ইরান: জেডি ভ্যান্স গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল চলতি অর্থবছরের ৫৬ হাজার কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস ‘দুর্নীতির মতো ধর্ষণেরও কোনো ছোট কিংবা বড় ডেফিনেশন হতে পারে না’:সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি হবে: প্রতিমন্ত্রী নুর ‘চুক্তি হলেও ইরানে সংঘটিত অপরাধ ভুলে যাওয়া হবে না’:ইসমাইল বাঘাই স্থানীয় নির্বাচন কবে ও আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার প্রশ্ন নির্যাতনের শিকার ৪১ হাজার ৫৫৫ নারী-শিশুর ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন: সংসদে মন্ত্রী

চলতি অর্থবছরের ৫৬ হাজার কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতীয় সংসদে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্য অর্থবছরে সংযুক্ত তহবিল থেকে মঞ্জুরি করা অর্থের অনধিক ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ ৪১ হাজার টাকা প্রদান ও ব্যয়ের অনুমোদন দিয়ে চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস হয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ সম্পূরক বাজেট পাসের জন্য প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য মোট বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। আর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ব্যয় হ্রাস-বৃদ্ধি পেয়ে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার দাঁড়ায় ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

সম্পূরক বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পরিমাণ ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা কমানো হয়েছে।

এসময় অর্থমন্ত্রী জানান, অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। অধিবেশনে সম্পূরক বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারের নিট ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নের গতি কিছুটা মন্থর হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে সরকারি ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা হ্রাস করে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশোধিত এই বাজেটে মোট ঘাটতির প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের মোট জিডিপির ৩.৩ শতাংশ।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বর্তমান সরকার গঠনের পর থেকে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কাঠামোর দুর্বলতা দূর করে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয় করতে হলেও ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেওয়ার মাধ্যমে দেশের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এ কার্যক্রমগুলোর প্রয়োজনেই সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতির কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার সংসদের কার্যসূচি অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয় সম্পর্কিত মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেন। সংবিধানের ৮৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়যুক্ত ব্যয় সংসদে আলোচিত হলেও তা ভোটের আওতাভুক্ত নয় বলে জানান। তিনি বলেন, এবারের সম্পূরক বাজেটে মোট ২৫টি মঞ্জুরি দাবি রয়েছে। এসব দাবির বিপরীতে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও শাহজাহান চৌধুরীসহ বিরোধী দলের ২০ জন সংসদ সদস্য মোট ৩০৪টি ছাঁটাই প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছেন।

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ মোট আটটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ খাতে ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন ও আলোচনার তালিকা দেওয়া হয়। ওই খাতগুলোতে তালিকাভুক্ত সদস্যদের ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন এবং আলোচনা শেষে নিষ্পত্তি করা হয়। কণ্ঠভোটে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়। বাকি প্রস্তাবগুলো আলোচনা ছাড়াই ভোটে দেন স্পিকার। ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনার আগে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা করেন সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা।

এরপর ‘নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল-২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। আগামী ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরের কার্যক্রম নির্বাহের জন্য সংযুক্ত তহবিল থেকে মঞ্জুরি করা অর্থের বেশি বরাদ্দ ও নির্দিষ্টকরণের কর্তৃত্ব দেওয়ার জন্য এই সম্পূরক বিল আনা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের জনগণ আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত করেনি, করবে না: গোলাম পরওয়ার

চলতি অর্থবছরের ৫৬ হাজার কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস

আপডেট সময় ০৮:৫৫:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাতীয় সংসদে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্য অর্থবছরে সংযুক্ত তহবিল থেকে মঞ্জুরি করা অর্থের অনধিক ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ ৪১ হাজার টাকা প্রদান ও ব্যয়ের অনুমোদন দিয়ে চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস হয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ সম্পূরক বাজেট পাসের জন্য প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য মোট বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। আর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ব্যয় হ্রাস-বৃদ্ধি পেয়ে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার দাঁড়ায় ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

সম্পূরক বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পরিমাণ ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা কমানো হয়েছে।

এসময় অর্থমন্ত্রী জানান, অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। অধিবেশনে সম্পূরক বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারের নিট ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নের গতি কিছুটা মন্থর হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে সরকারি ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা হ্রাস করে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসঙ্গে সংশোধিত এই বাজেটে মোট ঘাটতির প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের মোট জিডিপির ৩.৩ শতাংশ।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বর্তমান সরকার গঠনের পর থেকে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কাঠামোর দুর্বলতা দূর করে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয় করতে হলেও ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেওয়ার মাধ্যমে দেশের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এ কার্যক্রমগুলোর প্রয়োজনেই সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতির কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার সংসদের কার্যসূচি অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয় সম্পর্কিত মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেন। সংবিধানের ৮৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়যুক্ত ব্যয় সংসদে আলোচিত হলেও তা ভোটের আওতাভুক্ত নয় বলে জানান। তিনি বলেন, এবারের সম্পূরক বাজেটে মোট ২৫টি মঞ্জুরি দাবি রয়েছে। এসব দাবির বিপরীতে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও শাহজাহান চৌধুরীসহ বিরোধী দলের ২০ জন সংসদ সদস্য মোট ৩০৪টি ছাঁটাই প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছেন।

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ মোট আটটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ খাতে ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন ও আলোচনার তালিকা দেওয়া হয়। ওই খাতগুলোতে তালিকাভুক্ত সদস্যদের ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন এবং আলোচনা শেষে নিষ্পত্তি করা হয়। কণ্ঠভোটে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়। বাকি প্রস্তাবগুলো আলোচনা ছাড়াই ভোটে দেন স্পিকার। ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনার আগে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা করেন সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা।

এরপর ‘নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল-২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। আগামী ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরের কার্যক্রম নির্বাহের জন্য সংযুক্ত তহবিল থেকে মঞ্জুরি করা অর্থের বেশি বরাদ্দ ও নির্দিষ্টকরণের কর্তৃত্ব দেওয়ার জন্য এই সম্পূরক বিল আনা হয়।