ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজোর হত্যাকারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সোনালী যুগের জনপ্রিয় অভিনেতা জাভেদ আর নেই শহীদ ওসমান হাদির বিচার নিয়ে স্ত্রীর আবেগঘন পোস্ট ফুটবল প্রতীক পেলেন তাসনিম জারা শত বছরের দিকনির্দেশনা দেবে গণভোট: আদিলুর রহমান খান ‘মন্ত্রী হলে পরে হব, নির্বাচন ছাড়ব না’ জিয়াউর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার মাধ্যমে বিএনপিকে ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছিল: খন্দকার মোশাররফ ৮ জেলায় ডিজিটাল জামিননামা (ই-বেইলবন্ড) উদ্বোধন করলেন আইন উপদেষ্টা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে আইসিসিকে নতুন বার্তা পিসিবির ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ

কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে বিবাদে খোকন-মুরাদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা মহানগর দক্ষিণে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে বিবাদ আরও স্পষ্ট হলো সমঝোতা বৈঠকে। কমিটির সভাপতি শাহে আলম মুরাদ ও আওয়ামী লীগের অপর অংশের নেতৃত্ব দেয়া সাঈদ খোকনকে গিয়ে বসেছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের সামনেই দুই নেতা বিবাদে জড়ান।

বৈঠকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেন সাঈদ খোকন। আর কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খোকনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। রবিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয়ে নগর আওয়ামী লীগের কোন্দল নিরসনে এই বৈঠক হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি মেয়র খোকন এবং শাহে আলম মুরাদের নেতৃত্বে দুটি উপদল তৈরি হয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণে। গত ১৬ নভেম্বর আজিমপুরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সেদিন আওয়ামী লীগের নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং নবায়ন কর্মসূচি বানচালে ক্ষমতাসীন দলের একটি অংশ অনুষ্ঠান স্থলের সামনে কয়েক ট্রাক ময়লা ফেলে রাখে। এ নিয়ে তোলপাড় হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

এই ঘটনার জন্য শাহে আলম মুরাদ দায়ী করেছিলেন মেয়র খোকনকে। আর খোকন বলেছিলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করেছে দলের একটি অংশ। তারই প্রতিক্রিয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। এখানে তার দায় নেই।

এরপর থেকে দুই পক্ষকে সমঝোতায় আনার চেষ্টায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এর অংশ হিসেবেই হয় এই বৈঠকে। বৈঠকের শুরুতে মেয়র সাঈদ খোকন কেন্দ্রীয় নেতাদের বলেন, মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের এই কমিটি দিয়ে আগামী নির্বাচন মোকাবেলা করা যাবে না। সেখানে যোগ্য লোকদের কমিটিতে রাখা হয়নি। কিছু পকেটের লোককে পদে রাখা হয়েছে।

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ তাৎক্ষণিক এর জবাব দেন। বলেন, নেত্রীর (শেখ হাসিনা) নির্দেশে এই কমিটি করেছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক। মেয়রের এমন বক্তব্যের জবাবে উত্তরে কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, কমিটি নিয়ে কোন অভিযোগ থাকলে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে যেন জানান তিনি।

বৈঠকে এক এগারো সেনা সমর্থিত সরকারের সময় সাঈদ খোকনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শাহে আলম মুরাদ। বলেন, সে সময় তিনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ছিলেন। আর এখন সুবিধা নিচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার এক আলোচনায় ১৬ নভেম্বরের ময়লাকাণ্ডে মেয়র সাঈদ খোকনকে দায়ী করেন খোদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এই অভিযোগ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘তদন্ত করে দেখুন, যদি সিটি করপোরেশনের কেউ জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ সভায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি বলেন, ‘ওই দিনের ঘটনা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। এ ধরনের ঘটনা থেকে দলৈর সবাইকে বিরত থাকা উচিত।’

বৈঠকে সোমবার ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রথম মেয়র মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সব নেতা কর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেয়ার নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় নেতারা। বৈঠক সম্পর্কে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ‘এইগুলো আমাদের দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এইগুলো নিয়ে বাইরে কোন কথা বলতে চাই না। ’

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, ‘আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক ডেকেছিলেন, সেখানে গিয়েছিলাম। কথা হয়েছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে বিবাদে খোকন-মুরাদ

আপডেট সময় ১২:৪৭:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা মহানগর দক্ষিণে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে বিবাদ আরও স্পষ্ট হলো সমঝোতা বৈঠকে। কমিটির সভাপতি শাহে আলম মুরাদ ও আওয়ামী লীগের অপর অংশের নেতৃত্ব দেয়া সাঈদ খোকনকে গিয়ে বসেছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের সামনেই দুই নেতা বিবাদে জড়ান।

বৈঠকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেন সাঈদ খোকন। আর কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খোকনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। রবিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয়ে নগর আওয়ামী লীগের কোন্দল নিরসনে এই বৈঠক হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি মেয়র খোকন এবং শাহে আলম মুরাদের নেতৃত্বে দুটি উপদল তৈরি হয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণে। গত ১৬ নভেম্বর আজিমপুরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সেদিন আওয়ামী লীগের নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং নবায়ন কর্মসূচি বানচালে ক্ষমতাসীন দলের একটি অংশ অনুষ্ঠান স্থলের সামনে কয়েক ট্রাক ময়লা ফেলে রাখে। এ নিয়ে তোলপাড় হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

এই ঘটনার জন্য শাহে আলম মুরাদ দায়ী করেছিলেন মেয়র খোকনকে। আর খোকন বলেছিলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করেছে দলের একটি অংশ। তারই প্রতিক্রিয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। এখানে তার দায় নেই।

এরপর থেকে দুই পক্ষকে সমঝোতায় আনার চেষ্টায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এর অংশ হিসেবেই হয় এই বৈঠকে। বৈঠকের শুরুতে মেয়র সাঈদ খোকন কেন্দ্রীয় নেতাদের বলেন, মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের এই কমিটি দিয়ে আগামী নির্বাচন মোকাবেলা করা যাবে না। সেখানে যোগ্য লোকদের কমিটিতে রাখা হয়নি। কিছু পকেটের লোককে পদে রাখা হয়েছে।

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ তাৎক্ষণিক এর জবাব দেন। বলেন, নেত্রীর (শেখ হাসিনা) নির্দেশে এই কমিটি করেছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক। মেয়রের এমন বক্তব্যের জবাবে উত্তরে কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, কমিটি নিয়ে কোন অভিযোগ থাকলে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে যেন জানান তিনি।

বৈঠকে এক এগারো সেনা সমর্থিত সরকারের সময় সাঈদ খোকনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শাহে আলম মুরাদ। বলেন, সে সময় তিনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ছিলেন। আর এখন সুবিধা নিচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার এক আলোচনায় ১৬ নভেম্বরের ময়লাকাণ্ডে মেয়র সাঈদ খোকনকে দায়ী করেন খোদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এই অভিযোগ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘তদন্ত করে দেখুন, যদি সিটি করপোরেশনের কেউ জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ সভায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি বলেন, ‘ওই দিনের ঘটনা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। এ ধরনের ঘটনা থেকে দলৈর সবাইকে বিরত থাকা উচিত।’

বৈঠকে সোমবার ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রথম মেয়র মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সব নেতা কর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেয়ার নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় নেতারা। বৈঠক সম্পর্কে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ‘এইগুলো আমাদের দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এইগুলো নিয়ে বাইরে কোন কথা বলতে চাই না। ’

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, ‘আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক ডেকেছিলেন, সেখানে গিয়েছিলাম। কথা হয়েছে।’