ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

চাচির সহায়তায় বিবাহিত কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাচির সহায়তায় ঢাকায় আটকে রেখে ফরিদপুরের এক কলেজছাত্রীকে (বয়স ২৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ধর্ষক মহিউদ্দিন (৪২) পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক এবং বিবাহিত। তার দুই ছেলেও রয়েছে। মহিউদ্দিন ধর্ষিতার চাচির দূর সর্ম্পকের বোনের ছেলে। ধর্ষণে সহায়তা করা চাচির নাম নাজমুর নাহার (৪০)।

এ ঘটনায় তাদের দুজনকেই গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-৮)। উদ্ধার করা হয়েছে ধর্ষিতা কলেজছাত্রীকে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে র‍্যাব-৮ একটি দল অভিযান চালিয়ে মহিউদ্দিন ও নাজমুর নাহারকে গ্রেফতার করে।

অভিযুক্ত মহিউদ্দিন ফরিদপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ঢাকার নবাবগঞ্জের পাতিলঝাপ এলাকায় সেবা মেডিকেল হলে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। এবং নাজমুর নাহার ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) র‍্যাব-৮ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সাত বছর আগে নিজে পছন্দ করে পার্শ্ববর্তী গ্রামের জনৈক সৈয়দ হাসিবুর রহমানকে (২৮) বিয়ে করেছিলেন ধর্ষণের শিকার ফরিদপুরের একটি কলেজের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের ওই ছাত্রী। তাদের ঘরে ৫ বছর বয়সী একটি ছেলেও আছে।

গত ৮ নভেম্বর অভিমান করে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে যান তিনি। কিন্তু বাড়িতে থাকার অনুমতি দেননি মা। এ কারণে তিনি সেজো চাচি নাজমুর নাহারের বাড়িতে আশ্রয় নেন। চাচি তাকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পরের দিন মহিউদ্দিনের (দূর সম্পর্কের বোনের ছেলে) হাতে তুলে দেন এবং ভয় দেখান সে যেন আর বাবার বাড়িতে বা স্বামীর কাছে ফেরত না আসে।

এই সুযোগে মহিউদ্দীন ভিকটিমকে নিয়ে ওই দিনই ঢাকা চলে যান এবং তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। ঢাকায় বিভিন্ন অজ্ঞাত স্থানে রেখে প্রতি রাতে ভিকটিমকে ধর্ষণ করতে থাকে।

এদিকে স্ত্রী বাড়ি থেকে চলে যাওয়ায় ওই কলেজছাত্রীর স্বামী হাসিবুর রহমান ১২ নভেম্বর ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং র‍্যাব-৮-এর সাহায্য চেয়ে আবেদন করেন।

র‍্যাব-৮ ফরিদপুর ক্যাম্পের(সিপিসি-২) ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রইছ উদ্দিন বলেন, ‘অপহৃত ওই কলেজছাত্রী কৌশলে রাজেন্দ্র কলেজে ব্যবহারিক পরীক্ষার কথা বলে গতকাল সকালে মহিউদ্দিনকে নিয়ে ফরিদপুর আসেন। কলেজে যাওয়ার কথা বলে তিনি শহরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় এক বান্ধবীর বাড়িতে ওঠেন। খবর পেয়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে ওই কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।’

পরে বেলা দুইটার দিকে ফরিদপুর সদরের বাসস্ট্যান্ড থেকে মহিউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় মহিউদ্দিনের কাছ থেকে ৪৫০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে রাত সাড়ে সাতটার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা থেকে নাজমুর নাহারকেও গ্রেফতার করা হয়।

রইছ উদ্দিন আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে ওই কলেজছাত্রীর স্বামী বাদী হয়ে মহিউদ্দিন ও নাজমুরকে আসামি করে মঙ্গলবার বিকেলে বোয়ালমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। এ ছাড়া র‍্যাব বাদী হয়ে মহিউদ্দিনকে আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা করেছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

চাচির সহায়তায় বিবাহিত কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ

আপডেট সময় ০৩:১৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৭

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাচির সহায়তায় ঢাকায় আটকে রেখে ফরিদপুরের এক কলেজছাত্রীকে (বয়স ২৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ধর্ষক মহিউদ্দিন (৪২) পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক এবং বিবাহিত। তার দুই ছেলেও রয়েছে। মহিউদ্দিন ধর্ষিতার চাচির দূর সর্ম্পকের বোনের ছেলে। ধর্ষণে সহায়তা করা চাচির নাম নাজমুর নাহার (৪০)।

এ ঘটনায় তাদের দুজনকেই গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-৮)। উদ্ধার করা হয়েছে ধর্ষিতা কলেজছাত্রীকে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে র‍্যাব-৮ একটি দল অভিযান চালিয়ে মহিউদ্দিন ও নাজমুর নাহারকে গ্রেফতার করে।

অভিযুক্ত মহিউদ্দিন ফরিদপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ঢাকার নবাবগঞ্জের পাতিলঝাপ এলাকায় সেবা মেডিকেল হলে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। এবং নাজমুর নাহার ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) র‍্যাব-৮ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সাত বছর আগে নিজে পছন্দ করে পার্শ্ববর্তী গ্রামের জনৈক সৈয়দ হাসিবুর রহমানকে (২৮) বিয়ে করেছিলেন ধর্ষণের শিকার ফরিদপুরের একটি কলেজের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের ওই ছাত্রী। তাদের ঘরে ৫ বছর বয়সী একটি ছেলেও আছে।

গত ৮ নভেম্বর অভিমান করে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে যান তিনি। কিন্তু বাড়িতে থাকার অনুমতি দেননি মা। এ কারণে তিনি সেজো চাচি নাজমুর নাহারের বাড়িতে আশ্রয় নেন। চাচি তাকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পরের দিন মহিউদ্দিনের (দূর সম্পর্কের বোনের ছেলে) হাতে তুলে দেন এবং ভয় দেখান সে যেন আর বাবার বাড়িতে বা স্বামীর কাছে ফেরত না আসে।

এই সুযোগে মহিউদ্দীন ভিকটিমকে নিয়ে ওই দিনই ঢাকা চলে যান এবং তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। ঢাকায় বিভিন্ন অজ্ঞাত স্থানে রেখে প্রতি রাতে ভিকটিমকে ধর্ষণ করতে থাকে।

এদিকে স্ত্রী বাড়ি থেকে চলে যাওয়ায় ওই কলেজছাত্রীর স্বামী হাসিবুর রহমান ১২ নভেম্বর ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং র‍্যাব-৮-এর সাহায্য চেয়ে আবেদন করেন।

র‍্যাব-৮ ফরিদপুর ক্যাম্পের(সিপিসি-২) ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রইছ উদ্দিন বলেন, ‘অপহৃত ওই কলেজছাত্রী কৌশলে রাজেন্দ্র কলেজে ব্যবহারিক পরীক্ষার কথা বলে গতকাল সকালে মহিউদ্দিনকে নিয়ে ফরিদপুর আসেন। কলেজে যাওয়ার কথা বলে তিনি শহরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় এক বান্ধবীর বাড়িতে ওঠেন। খবর পেয়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে ওই কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।’

পরে বেলা দুইটার দিকে ফরিদপুর সদরের বাসস্ট্যান্ড থেকে মহিউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় মহিউদ্দিনের কাছ থেকে ৪৫০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে রাত সাড়ে সাতটার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা থেকে নাজমুর নাহারকেও গ্রেফতার করা হয়।

রইছ উদ্দিন আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে ওই কলেজছাত্রীর স্বামী বাদী হয়ে মহিউদ্দিন ও নাজমুরকে আসামি করে মঙ্গলবার বিকেলে বোয়ালমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। এ ছাড়া র‍্যাব বাদী হয়ে মহিউদ্দিনকে আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা করেছে।’