অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির হাতে পৌঁছার খবর নিশ্চিত হওয়ার পর এখন সামনে এসেছে নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগের প্রশ্নটি। তাহলে কে হচ্ছেন প্রধান বিচারপতি?
প্রথা অনুযায়ী পরবর্তী জ্যেষ্ঠ বিচারপতিই প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার কথা। কিন্তু এক্ষেত্রে সে নিয়ম মানা হবে কি হবে না তা নিয়ে চলছে তুমুল জল্পনা-কল্পনা। অবশ্য এর আগে এই প্রথা ভেঙে জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে কাউকে কাউকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের দৃষ্টান্ত রয়েছে।
জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা।
এদিকে আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ছাড়াও প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগের জন্য আরও দু’জন আলোচনায় রয়েছেন। তারা হলেন- আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের যে কোনো বিচারপতিকেই প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ দিতে পারেন। এ কারণে পুরো বিষয়টি এখন রাষ্ট্রপতির ওপর নির্ভর করছে।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী দুই-তিনদিনের মধ্যে সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করবেন। আজকালের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ফাইল প্রস্তুত করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘সংবিধান অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার। তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে যাকে নিয়োগ দেবেন, তার নাম উল্লেখ করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে গেজেট প্রকাশ করা হবে।’
আপিল বিভাগে বর্তমানে পাঁচজন বিচারপতি রয়েছেন। তাদের অবসরের বয়সসীমা ৬৭ বছর। বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর অবসরে যাবেন। বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর এবং বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অবসরে যাবেন।
সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানায়, বিধি অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির যে কোনো চিঠি বা আবেদন সুপ্রিম কোর্ট থেকে আইন মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে যাওয়ার কথা। কারণ, একই সঙ্গে ওই চিঠি বা আবেদনের বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক প্রস্তাব ও আইনি বিধান আইন মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্নিষ্ট দপ্তর হয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এর ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী সংশ্নিষ্ট বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেন। প্রধান বিচারপতি তার পদত্যাগপত্র সরাসরি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানোর ফলে সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পদত্যাগের বিষয়ে অবহিত নন। যে কারণে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পদত্যাগপত্রটি সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ চূড়ান্ত করবেন রাষ্ট্রপতি। আর এসব প্রক্রিয়ার কারণে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি দুই-একদিন বিলম্ব হতে পারে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















