ঢাকা ১১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো

রাজীব গান্ধীর সঙ্গে প্রথম দেখা ও প্রেমের গল্প জানালেন সোনিয়া গান্ধী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রথমবারের মতো নিজের উপস্থিতির জানান দিয়ে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী তাঁর আসন্ন স্মৃতিকথামূলক বইয়ের প্রেক্ষাপট নিয়ে মুখ খুলেছেন। আগামী ১০ নভেম্বর এই বইটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হবে। ৫৪৪ পৃষ্ঠার এই বইটিতে সোনিয়া তাঁর জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী ইতালিতে শৈশবকাল এবং রাজীব গান্ধীর সঙ্গে পরিচয়ের গভীর স্মৃতিচারণ করেছেন। আগামী ১০ নভেম্বর, আমি সেই পৃথিবীটা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেব।’।

বইটিতে উঠে এসেছে ১৯৬৫ সালে কেমব্রিজের একটি ছোট গ্রিক রেস্তোরাঁয় রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাতের সেই আবেগঘন মুহূর্ত। সোনিয়া লিখেছেন, তখনকার দিনে ইংল্যান্ডে ভালো খাবার পাওয়া বেশ কঠিন ছিল। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর তারা এমন একটি গ্রিক রেস্তোরাঁ খুঁজে পেয়েছিলেন, যেখানে ভারতীয় ও ইতালীয় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আড্ডা দিতেন। সেই রেস্তোরাঁটিই হয়ে উঠেছিল তাদের প্রেমের সম্পর্কের সূচনাভূমি। সোনিয়া স্মরণ করেন, কীভাবে সেই রেস্তোরাঁটি তাঁদের সম্পর্কের শুরুর পটভূমি হয়ে উঠেছিল।

সেই প্রথম দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সোনিয়া জানান, যখন প্রথমবার রাজীবের সঙ্গে সাধারণ বন্ধুদের মাধ্যমে পরিচয় হয়, তখনই তিনি অনুভব করেছিলেন যে এই মানুষটির সঙ্গেই তিনি জীবন কাটাতে চান। পরে তিনি জানতে পেরেছিলেন, রাজীবও অনেকটা একই অনুভূতি ধারণ করতেন। বন্ধু হিসেবে পথচলা শুরু হলেও খুব দ্রুতই তাদের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা তৈরি হয়। তিনি জানান, রাজীবের কোন কোন গুণ তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল। যখন তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়, তখন প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আমার মনে হয়েছিল, তিনি এমন একজন মানুষ যাঁর সঙ্গে আমি সত্যিই থাকতে চাইব। আমরা বন্ধুদের সঙ্গে পার্টিতে যেতাম।’। তাঁর সঙ্গে প্রথম দেখার মুহূর্তটা আমি কখনোই ভুলব না।’।

রাজীব গান্ধীর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সোনিয়া বলেন, ‘তিনি দেখতে যে খুব সুদর্শন ছিলেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

তবে তাঁর শান্ত স্বভাব এবং নম্রতা আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছিল।

প্রথম দেখাতেই সেই নম্রতা আমার মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। তাদের সেই রোমান্টিক যাত্রা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, রাজীব ও তিনি মিলে ভালোবাসা, হাসি এবং স্মৃতিতে ভরা একটি পৃথিবী তৈরি করেছিলেন, যেটির অংশ বিশেষ তিনি পাঠকদের সঙ্গে শেয়ার করতে চান।

এই স্মৃতিকথাটি শুধুমাত্র প্রেমের গল্পেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর মর্মান্তিক গুপ্তহত্যার মতো ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে, যা সোনিয়ার জীবনকে আমূল বদলে দিয়েছিল। একইসঙ্গে ভারতের রাজনীতিতে তাঁর পরবর্তী ভূমিকা এবং দায়িত্ব গ্রহণের বিভিন্ন দিকও এই বইতে বিশ্লেষিত হয়েছে।

বইটি বিশ্বব্যাপী প্রকাশ করছে অ্যালফ্রেড এ নফ এবং ভারতে এটি প্রকাশের দায়িত্বে রয়েছে হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া। এরই মধ্যে বইটির প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে। রাজীব গান্ধীর সঙ্গে সেই কেমব্রিজের দিনগুলো এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতার সংমিশ্রণ নিয়ে লেখা এই স্মৃতিকথাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৮৯৮

রাজীব গান্ধীর সঙ্গে প্রথম দেখা ও প্রেমের গল্প জানালেন সোনিয়া গান্ধী

আপডেট সময় ০৮:৫৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রথমবারের মতো নিজের উপস্থিতির জানান দিয়ে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী তাঁর আসন্ন স্মৃতিকথামূলক বইয়ের প্রেক্ষাপট নিয়ে মুখ খুলেছেন। আগামী ১০ নভেম্বর এই বইটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হবে। ৫৪৪ পৃষ্ঠার এই বইটিতে সোনিয়া তাঁর জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী ইতালিতে শৈশবকাল এবং রাজীব গান্ধীর সঙ্গে পরিচয়ের গভীর স্মৃতিচারণ করেছেন। আগামী ১০ নভেম্বর, আমি সেই পৃথিবীটা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেব।’।

বইটিতে উঠে এসেছে ১৯৬৫ সালে কেমব্রিজের একটি ছোট গ্রিক রেস্তোরাঁয় রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাতের সেই আবেগঘন মুহূর্ত। সোনিয়া লিখেছেন, তখনকার দিনে ইংল্যান্ডে ভালো খাবার পাওয়া বেশ কঠিন ছিল। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর তারা এমন একটি গ্রিক রেস্তোরাঁ খুঁজে পেয়েছিলেন, যেখানে ভারতীয় ও ইতালীয় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আড্ডা দিতেন। সেই রেস্তোরাঁটিই হয়ে উঠেছিল তাদের প্রেমের সম্পর্কের সূচনাভূমি। সোনিয়া স্মরণ করেন, কীভাবে সেই রেস্তোরাঁটি তাঁদের সম্পর্কের শুরুর পটভূমি হয়ে উঠেছিল।

সেই প্রথম দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সোনিয়া জানান, যখন প্রথমবার রাজীবের সঙ্গে সাধারণ বন্ধুদের মাধ্যমে পরিচয় হয়, তখনই তিনি অনুভব করেছিলেন যে এই মানুষটির সঙ্গেই তিনি জীবন কাটাতে চান। পরে তিনি জানতে পেরেছিলেন, রাজীবও অনেকটা একই অনুভূতি ধারণ করতেন। বন্ধু হিসেবে পথচলা শুরু হলেও খুব দ্রুতই তাদের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা তৈরি হয়। তিনি জানান, রাজীবের কোন কোন গুণ তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল। যখন তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়, তখন প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আমার মনে হয়েছিল, তিনি এমন একজন মানুষ যাঁর সঙ্গে আমি সত্যিই থাকতে চাইব। আমরা বন্ধুদের সঙ্গে পার্টিতে যেতাম।’। তাঁর সঙ্গে প্রথম দেখার মুহূর্তটা আমি কখনোই ভুলব না।’।

রাজীব গান্ধীর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে সোনিয়া বলেন, ‘তিনি দেখতে যে খুব সুদর্শন ছিলেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

তবে তাঁর শান্ত স্বভাব এবং নম্রতা আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছিল।

প্রথম দেখাতেই সেই নম্রতা আমার মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। তাদের সেই রোমান্টিক যাত্রা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, রাজীব ও তিনি মিলে ভালোবাসা, হাসি এবং স্মৃতিতে ভরা একটি পৃথিবী তৈরি করেছিলেন, যেটির অংশ বিশেষ তিনি পাঠকদের সঙ্গে শেয়ার করতে চান।

এই স্মৃতিকথাটি শুধুমাত্র প্রেমের গল্পেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর মর্মান্তিক গুপ্তহত্যার মতো ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে, যা সোনিয়ার জীবনকে আমূল বদলে দিয়েছিল। একইসঙ্গে ভারতের রাজনীতিতে তাঁর পরবর্তী ভূমিকা এবং দায়িত্ব গ্রহণের বিভিন্ন দিকও এই বইতে বিশ্লেষিত হয়েছে।

বইটি বিশ্বব্যাপী প্রকাশ করছে অ্যালফ্রেড এ নফ এবং ভারতে এটি প্রকাশের দায়িত্বে রয়েছে হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া। এরই মধ্যে বইটির প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে। রাজীব গান্ধীর সঙ্গে সেই কেমব্রিজের দিনগুলো এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতার সংমিশ্রণ নিয়ে লেখা এই স্মৃতিকথাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।