ঢাকা ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

জাপান সফরকালে টোকিওতে থাকছেন না রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে ঘিরে একটি বিরল কূটনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত বিদেশ সফরের সময় সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রদূত আয়োজক দেশ ও নিজ দেশের মধ্যে সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু এবার জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী প্রধানমন্ত্রীর সফরকালীন সময়ে টোকিওতে থাকছেন না। তাকে সফরের প্রাক্কালেই ঢাকায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং সফর সংশ্লিষ্ট সকল প্রস্তুতি থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এমন ঘটনা শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, বৈশ্বিক কূটনীতির প্রেক্ষাপটেও নজিরবিহীন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা পড়েছিল।

কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, গত জুনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময়কার একটি যৌথ বিবৃতি জাপানের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ওই বিবৃতিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক ব্যবস্থা ও যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ যুক্ত ছিল, যা টোকিও তাদের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর মনে করে। জাপান দাউদ আলীকে চীনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে গণ্য করে এবং ওই বিতর্কিত অনুচ্ছেদ প্রণয়নে তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে ধারণা করছে টোকিও। এছাড়া বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চলমান গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় কিছু চুক্তি রক্ষার খাতিরেও টোকিও তাকে নিয়ে আপত্তি জানিয়ে থাকতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা।

রাষ্ট্রদূতকে এভাবে সরিয়ে দেওয়াকে বর্তমান ও সাবেক কূটনীতিকরা অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৫ই অক্টোবর পাঠানো চিঠির মাধ্যমে তাকে ঢাকায় ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ২৬ থেকে ২৯শে অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মী পাঠানোর মতো বিষয়গুলোসহ ৮টি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও, রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিতিতে এই প্রস্তুতির দায়িত্ব এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, এই সফরে ৩ থেকে ৪টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। সফর সামনে রেখে ৮টি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতিও চলছে। যার মধ্যে- ৩ থেকে ৪ টি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

দাউদ আলীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে ২০০৯ সালে লন্ডনে থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে তারেক রহমানকে সহায়তার অভিযোগ উঠেছিল, যার প্রেক্ষিতে সে সময় তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে পররাষ্ট্র সার্ভিস একাডেমির ভাইস প্রিন্সিপাল করা হয়েছিল। প্রায় ১৭ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি সফরের ঠিক আগে একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হলো এই কূটনীতিককে। তার বিসিএস ক্যারিয়ারের প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকা দাউদ আলীর অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) আগামী ৭ই ডিসেম্বর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তাদের প্রশ্ন, দাউদ আলীর বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি বা তার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ থাকলে তা আগে খতিয়ে দেখা হলো না কেন।

উল্লেখ্য, ১৫তম বিসিএস ব্যাচের এই কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জাপানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। এর আগে তিনি রোমানিয়ার রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (কনস্যুলার ও কল্যাণ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তার কর্মজীবনের অভিজ্ঞতায় টোকিও, প্রিটোরিয়া, লন্ডন ও চীনের কুনমিং মিশনে কাজের ইতিহাস রয়েছে। এ ছাড়া চীনের কুনমিংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

আপলোডকারীর তথ্য

জাপান সফরকালে টোকিওতে থাকছেন না রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী

আপডেট সময় ০৯:১০:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে ঘিরে একটি বিরল কূটনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত বিদেশ সফরের সময় সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রদূত আয়োজক দেশ ও নিজ দেশের মধ্যে সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু এবার জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী প্রধানমন্ত্রীর সফরকালীন সময়ে টোকিওতে থাকছেন না। তাকে সফরের প্রাক্কালেই ঢাকায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং সফর সংশ্লিষ্ট সকল প্রস্তুতি থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এমন ঘটনা শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, বৈশ্বিক কূটনীতির প্রেক্ষাপটেও নজিরবিহীন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা পড়েছিল।

কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, গত জুনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময়কার একটি যৌথ বিবৃতি জাপানের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ওই বিবৃতিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক ব্যবস্থা ও যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ যুক্ত ছিল, যা টোকিও তাদের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর মনে করে। জাপান দাউদ আলীকে চীনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে গণ্য করে এবং ওই বিতর্কিত অনুচ্ছেদ প্রণয়নে তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে ধারণা করছে টোকিও। এছাড়া বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চলমান গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় কিছু চুক্তি রক্ষার খাতিরেও টোকিও তাকে নিয়ে আপত্তি জানিয়ে থাকতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা।

রাষ্ট্রদূতকে এভাবে সরিয়ে দেওয়াকে বর্তমান ও সাবেক কূটনীতিকরা অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৫ই অক্টোবর পাঠানো চিঠির মাধ্যমে তাকে ঢাকায় ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ২৬ থেকে ২৯শে অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মী পাঠানোর মতো বিষয়গুলোসহ ৮টি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও, রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিতিতে এই প্রস্তুতির দায়িত্ব এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, এই সফরে ৩ থেকে ৪টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। সফর সামনে রেখে ৮টি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতিও চলছে। যার মধ্যে- ৩ থেকে ৪ টি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

দাউদ আলীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে ২০০৯ সালে লন্ডনে থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে তারেক রহমানকে সহায়তার অভিযোগ উঠেছিল, যার প্রেক্ষিতে সে সময় তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে পররাষ্ট্র সার্ভিস একাডেমির ভাইস প্রিন্সিপাল করা হয়েছিল। প্রায় ১৭ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি সফরের ঠিক আগে একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হলো এই কূটনীতিককে। তার বিসিএস ক্যারিয়ারের প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকা দাউদ আলীর অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) আগামী ৭ই ডিসেম্বর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তাদের প্রশ্ন, দাউদ আলীর বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি বা তার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ থাকলে তা আগে খতিয়ে দেখা হলো না কেন।

উল্লেখ্য, ১৫তম বিসিএস ব্যাচের এই কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জাপানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। এর আগে তিনি রোমানিয়ার রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (কনস্যুলার ও কল্যাণ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তার কর্মজীবনের অভিজ্ঞতায় টোকিও, প্রিটোরিয়া, লন্ডন ও চীনের কুনমিং মিশনে কাজের ইতিহাস রয়েছে। এ ছাড়া চীনের কুনমিংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।