ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সৌদির কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের কারাগারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি বন্দী অবস্থায় রয়েছেন। সম্প্রতি দেশটিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সামনে আসার পর, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে ও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে রায়ের অনুলিপি চেয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। সেই অনুলিপি পাওয়া গেলে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। দেশটিতে তাঁর কাজের অনুমতিপত্র (ইকামা) ছিল।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে, গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ দেশে এসে পৌঁছায়। এর আগে সকাল আটটার পর শাহেদ আহম্মদের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। তাঁদের মধ্যে একজনের মরদেহ আজ দেশে এসেছে। শাহেদ সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন।

বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের বাসিন্দা শাহেদের মরদেহ বিমানবন্দরে গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সেখানে মরদেহ নিতে যান প্রতিমন্ত্রী।

এরপর সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের স্ত্রী কহিনুর আক্তার কাকলীর কাছে আর্থিক সহায়তার অংশ হস্তান্তর করা হয়।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশটির আইন ও বিচারব্যবস্থায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করা বাংলাদেশের লক্ষ্য নয়। তবে কোনো প্রবাসী নাগরিকের দণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি সরকারের কাছে অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে আলোচনা করা হয়েছে। সৌদি সরকার নিয়মিতভাবে কারাগারে থাকা ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের তালিকা পাঠিয়ে থাকে, সেই তালিকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম রয়েছে কি না তা সরকার যাচাই-বাছাই করছে। সেখানে এই দুজনের নাম আছে নাকি সেটি সরকার খতিয়ে দেখছে।

শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এককভাবে এসব সংকট সামাল দেয় না। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হয়। কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের সাজা হলে তা কমানোর সুযোগ আছে কি না, তা কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা করা হয়। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে প্রবাসী কর্মীদের ভিসা নবায়ন ও মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান। তাঁর বাবা মো. রফিকুল ইসলাম এবং মা শাহেরা বেগম।

সৌদিতে ৪০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজ করেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে ১১ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে শাহেদ ১১তম। রিয়াদ বিমানবন্দরের ওই হামলায় শাহেদ ছাড়াও কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের নাসরুল্লাহ বদরপুরি নামে আরেক বাংলাদেশি নিহত হন এবং আরও ২৪ জন আহত হন। এছাড়া গত এক মাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোট তিনজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়। বাকিদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান। সৌদিতে এ বছরের প্রথম ৬ মাসে ৫৯ বিদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, আছে বাংলাদেশিও। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটি কাটিয়ে দেশে থেকে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি।

বিদেশে দূতাবাসের সেবা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি মিশনে শ্রমকল্যাণ উইং রয়েছে, যেখানে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা কাজ করেন। প্রবাসীদের যথাযথ সেবা দেওয়া মিশনের দায়িত্ব এবং কোথাও কোনো গাফিলতির প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো বাংলাদেশি যাতে এমন সংঘাতময় পরিস্থিতিতে প্রাণ না হারান, সে জন্য দোয়া করি এবং সরকারও এ নিয়ে সচেষ্ট রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধ হোক এবং কোনো দেশের নাগরিকই যেন এমন নৃশংস হামলার শিকার না হন, সে জন্য তিনি দোয়া করেন। মিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা।

আপলোডকারীর তথ্য

সৌদির কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি

আপডেট সময় ১২:০৯:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের কারাগারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি বন্দী অবস্থায় রয়েছেন। সম্প্রতি দেশটিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সামনে আসার পর, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে ও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে রায়ের অনুলিপি চেয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। সেই অনুলিপি পাওয়া গেলে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। দেশটিতে তাঁর কাজের অনুমতিপত্র (ইকামা) ছিল।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে, গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ দেশে এসে পৌঁছায়। এর আগে সকাল আটটার পর শাহেদ আহম্মদের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। তাঁদের মধ্যে একজনের মরদেহ আজ দেশে এসেছে। শাহেদ সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন।

বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের বাসিন্দা শাহেদের মরদেহ বিমানবন্দরে গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সেখানে মরদেহ নিতে যান প্রতিমন্ত্রী।

এরপর সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের স্ত্রী কহিনুর আক্তার কাকলীর কাছে আর্থিক সহায়তার অংশ হস্তান্তর করা হয়।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশটির আইন ও বিচারব্যবস্থায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করা বাংলাদেশের লক্ষ্য নয়। তবে কোনো প্রবাসী নাগরিকের দণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি সরকারের কাছে অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে আলোচনা করা হয়েছে। সৌদি সরকার নিয়মিতভাবে কারাগারে থাকা ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের তালিকা পাঠিয়ে থাকে, সেই তালিকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম রয়েছে কি না তা সরকার যাচাই-বাছাই করছে। সেখানে এই দুজনের নাম আছে নাকি সেটি সরকার খতিয়ে দেখছে।

শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এককভাবে এসব সংকট সামাল দেয় না। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হয়। কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের সাজা হলে তা কমানোর সুযোগ আছে কি না, তা কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা করা হয়। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে প্রবাসী কর্মীদের ভিসা নবায়ন ও মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান। তাঁর বাবা মো. রফিকুল ইসলাম এবং মা শাহেরা বেগম।

সৌদিতে ৪০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজ করেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে ১১ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে শাহেদ ১১তম। রিয়াদ বিমানবন্দরের ওই হামলায় শাহেদ ছাড়াও কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের নাসরুল্লাহ বদরপুরি নামে আরেক বাংলাদেশি নিহত হন এবং আরও ২৪ জন আহত হন। এছাড়া গত এক মাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোট তিনজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়। বাকিদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান। সৌদিতে এ বছরের প্রথম ৬ মাসে ৫৯ বিদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, আছে বাংলাদেশিও। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটি কাটিয়ে দেশে থেকে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি।

বিদেশে দূতাবাসের সেবা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি মিশনে শ্রমকল্যাণ উইং রয়েছে, যেখানে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা কাজ করেন। প্রবাসীদের যথাযথ সেবা দেওয়া মিশনের দায়িত্ব এবং কোথাও কোনো গাফিলতির প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো বাংলাদেশি যাতে এমন সংঘাতময় পরিস্থিতিতে প্রাণ না হারান, সে জন্য দোয়া করি এবং সরকারও এ নিয়ে সচেষ্ট রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধ হোক এবং কোনো দেশের নাগরিকই যেন এমন নৃশংস হামলার শিকার না হন, সে জন্য তিনি দোয়া করেন। মিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা।