ঢাকা ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই: প্রাথমিক ভালো, মাধ্যমিকে ধীরগতি

আসন্ন শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপার কর্মযজ্ঞ চলছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এই বিশাল আয়োজনের কাজ করছে। সরকারি পর্যায়ে ২০১০ সাল থেকে বিনা মূল্যে বই বিতরণের এই কার্যক্রম নিয়মিত চললেও, প্রতি বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থীর হাতে শতভাগ বই পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা থেকে যায়। গত দুই শিক্ষাবর্ষে যথাসময়ে সব বই বিতরণ করা সম্ভব হয়নি, এমনকি চলতি বছর বই সরবরাহ পূর্ণাঙ্গ করতে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময় লেগে গিয়েছিল। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়। এর মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্যও বই রয়েছে। এখন পর্যন্ত বই ছাপার অগ্রগতিতে তাঁরা সন্তুষ্ট।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার অগ্রগতি সন্তোষজনক। মোট ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার প্রাথমিক স্তরের বইয়ের মধ্যে ৮৬ শতাংশ ছাপা শেষ হয়েছে এবং ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ৭৪ শতাংশ বই মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। তবে মাধ্যমিক স্তরের ২২ কোটিরও বেশি বইয়ের ক্ষেত্রে অগ্রগতি কিছুটা ধীর। প্রথম দফার দরপত্রের আওতায় থাকা ২০ কোটি ৮৪ লাখের বেশি বইয়ের ৫০ শতাংশ মুদ্রণ শেষ হয়েছে এবং আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে ৪০ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। বিশেষ করে নবম-দশম শ্রেণির বই সরবরাহের হার মাত্র ৩ শতাংশের কাছাকাছি, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাঁধাই, কাটিং ও প্রাক্-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) শেষে সরবরাহ করা হয়েছে ৭৪ শতাংশ বই।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের, যিনি এনসিটিবির পাঠ্যপুস্তক সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত, জানিয়েছেন যে তাদের লক্ষ্য আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মুদ্রণ শেষ করে বইগুলো মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া। মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু ক্ষেত্রে সামান্য বিলম্ব হলেও জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীরা সব পাঠ্যবই হাতে পাবে বলে তিনি আশাবাদী। বই ছাপার সামগ্রিক ব্যয় প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সব শিক্ষার্থী সব পাঠ্যবই হাতে পাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান কয়েক দিন পিছিয়ে পড়তে পারে। ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাক্রমে ব্যাপক সংস্কার, প্রাথমিক–মাধ্যমিকে ৪ নতুন বই ও বিষয়: মাহদী আমিন।

নতুন শিক্ষাবর্ষে ইতিহাস ও পাঠ্যক্রমে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাবলি এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে খালেদা জিয়ার ভূমিকা যুক্ত করা হচ্ছে। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন আনছে এনসিটিবি।

পাশাপাশি নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটিও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনায় এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে শিক্ষাঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, কারণ আগের সরকারের সময়ের বই এবং বর্তমানের সংশোধিত বইগুলোর মধ্যে এসব তথ্যে ভিন্নতা রয়েছে। ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের পাঠ্যবই, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংশোধিত বই এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে প্রস্তুত করা বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনা তিন ধরনের রূপ পাচ্ছে।

চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য আরও চারটি নতুন বই যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’ পাঠ্যবই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এনসিটিবির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় এগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অনুমোদনের পরেই এই বইগুলোর ছাপার কার্যাদেশ প্রদান করা হবে, যা বর্তমানে ঝুলে রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভা ডাকা হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

হরমুজ প্রণালিতে ইরান সংশ্লিষ্ট ৭ জাহাজে আগুন, তীব্র উত্তেজনা

নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই: প্রাথমিক ভালো, মাধ্যমিকে ধীরগতি

আপডেট সময় ০৯:১২:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

আসন্ন শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপার কর্মযজ্ঞ চলছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এই বিশাল আয়োজনের কাজ করছে। সরকারি পর্যায়ে ২০১০ সাল থেকে বিনা মূল্যে বই বিতরণের এই কার্যক্রম নিয়মিত চললেও, প্রতি বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থীর হাতে শতভাগ বই পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা থেকে যায়। গত দুই শিক্ষাবর্ষে যথাসময়ে সব বই বিতরণ করা সম্ভব হয়নি, এমনকি চলতি বছর বই সরবরাহ পূর্ণাঙ্গ করতে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময় লেগে গিয়েছিল। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়। এর মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্যও বই রয়েছে। এখন পর্যন্ত বই ছাপার অগ্রগতিতে তাঁরা সন্তুষ্ট।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার অগ্রগতি সন্তোষজনক। মোট ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার প্রাথমিক স্তরের বইয়ের মধ্যে ৮৬ শতাংশ ছাপা শেষ হয়েছে এবং ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ৭৪ শতাংশ বই মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। তবে মাধ্যমিক স্তরের ২২ কোটিরও বেশি বইয়ের ক্ষেত্রে অগ্রগতি কিছুটা ধীর। প্রথম দফার দরপত্রের আওতায় থাকা ২০ কোটি ৮৪ লাখের বেশি বইয়ের ৫০ শতাংশ মুদ্রণ শেষ হয়েছে এবং আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে ৪০ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। বিশেষ করে নবম-দশম শ্রেণির বই সরবরাহের হার মাত্র ৩ শতাংশের কাছাকাছি, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাঁধাই, কাটিং ও প্রাক্-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) শেষে সরবরাহ করা হয়েছে ৭৪ শতাংশ বই।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের, যিনি এনসিটিবির পাঠ্যপুস্তক সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত, জানিয়েছেন যে তাদের লক্ষ্য আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মুদ্রণ শেষ করে বইগুলো মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া। মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু ক্ষেত্রে সামান্য বিলম্ব হলেও জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীরা সব পাঠ্যবই হাতে পাবে বলে তিনি আশাবাদী। বই ছাপার সামগ্রিক ব্যয় প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সব শিক্ষার্থী সব পাঠ্যবই হাতে পাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান কয়েক দিন পিছিয়ে পড়তে পারে। ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাক্রমে ব্যাপক সংস্কার, প্রাথমিক–মাধ্যমিকে ৪ নতুন বই ও বিষয়: মাহদী আমিন।

নতুন শিক্ষাবর্ষে ইতিহাস ও পাঠ্যক্রমে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাবলি এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে খালেদা জিয়ার ভূমিকা যুক্ত করা হচ্ছে। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন আনছে এনসিটিবি।

পাশাপাশি নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটিও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনায় এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে শিক্ষাঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, কারণ আগের সরকারের সময়ের বই এবং বর্তমানের সংশোধিত বইগুলোর মধ্যে এসব তথ্যে ভিন্নতা রয়েছে। ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের পাঠ্যবই, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংশোধিত বই এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে প্রস্তুত করা বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনা তিন ধরনের রূপ পাচ্ছে।

চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য আরও চারটি নতুন বই যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’ পাঠ্যবই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এনসিটিবির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় এগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অনুমোদনের পরেই এই বইগুলোর ছাপার কার্যাদেশ প্রদান করা হবে, যা বর্তমানে ঝুলে রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভা ডাকা হয়েছে।