সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশে হুতি বিদ্রোহীদের পাঠানো চারটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি শনিবার জানিয়েছেন, গত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রিয়াদ, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং দক্ষিণাঞ্চলের আকাশসীমায় এই ড্রোনগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি হুতিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারে হামলার পাশাপাশি ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের ভিডিও ফুটেজও প্রদর্শন করেছেন। গত জুলাই মাসে হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের সংঘাত বাড়ার পর থেকে রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে অন্তত ২০ বার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহের এক হামলায় ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
চলমান এই উত্তেজনার মাঝে সৌদি আরবের সুরক্ষায় সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। শনিবার তিনি বলেছেন, সৌদি আরব চাইলে তাদের রক্ষায় যেকোনো ব্যবস্থা নিতে তার দেশ প্রস্তুত। তবে সিসি স্পষ্ট করেছেন যে, মিশর কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কায়রো আক্রমণাত্মক কোনো পদক্ষেপের কথা ভাবছে না, বরং কেবল সৌদি আরবের সুরক্ষায় পাশে দাঁড়ানোর কথা বলছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে রোববার মিশরের পার্লামেন্ট একটি জরুরি অধিবেশন ডেকেছে।
এদিকে ইয়েমেনি সরকার জানিয়েছে, শুক্রবার এডেন বিমানবন্দরে হুতিরা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। জবাবে সৌদি আরব ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে পরিচিত সরকারি বাহিনীর পাল্টা আক্রমণকে সমর্থন দিচ্ছে এবং সানায় একটি তেল স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে সরকারি বাহিনী সানার উত্তর-পূর্বে মারিব প্রদেশে অগ্রসর হয়েছে বলেও জানা গেছে। এদিকে সৌদি আরব হুতি বিদ্রোহীদের উসকে দেওয়ার পেছনে ইরানের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, তেহরান সংঘাত নিরসনে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকেই সমর্থন করে। এই অস্থিরতার জেরে রিয়াদ ও দিরিয়ায় শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু দূতাবাস তাদের নাগরিকদের ভ্রমণ সীমিত করার সতর্কতা জারি করেছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















