ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রিকশা ও রিকশাচিত্র ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনেসকোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার নেপথ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ হানিফ পাপ্পুর মতো নিবেদিতপ্রাণ শিল্পীরা, যিনি নানা সংকট ও আর্থিক অনটনের মধ্যেও আঁকড়ে ধরে রেখেছেন ঐতিহ্যবাহী এই লোকশিল্প।
সিনেমার ব্যানার থেকে রিকশাচিত্রে রূপান্তর
১৯৬৭ অথবা ১৯৬৮ সালে মামার হাত ধরে চিত্রাঙ্কনের জগতে প্রবেশ করেন হানিফ পাপ্পু। শুরুতেই তিনি শুরু করেন সিনেমার ব্যানার তৈরির কাজ। দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে চলচ্ছিত্রের পোস্টার এবং রিকশার পেছনের ধাতব প্লেটে জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের রকমারি দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি।
প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ ও টিকে থাকার লড়াই
ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় প্রথাগত আর্টের চাহিদা কমে গেলেও দমে যাননি এই শিল্পী। পেশার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে তিনি দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র যেমন কেটলি, মগ, চশমা ও হারিকেনে রিকশাচিত্র আঁকা শুরু করেন। ‘ভাতে মরলেও এই কাজ ছাড়ব না’—এমন দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে কাজ চালিয়ে গেছেন তিনি। পরে ডিজিটাল শিল্পের দাপটে কাজ কমে গেলেও হাল ছাড়েননি। একসময় যাঁকে দেখে অনেকে ভেবেছিলেন, কাজ না পেয়ে পাগল হয়ে গেছেন, তাঁর সেই কাজই পরে কুড়িয়েছে প্রশংসা।
ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও প্রত্যাশা
শুরুতে অনেকেই তাঁর এই প্রচেষ্টাকে পাগলামি মনে করলেও পরবর্তীতে তাঁর শিল্পকর্ম ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। বর্তমানে সহকারী মুনির হোসেনকে নিয়ে নিয়মিত কাজ করছেন তিনি। ইউনেসকোর স্বীকৃতিতে গর্বিত এই প্রবীণ শিল্পীর প্রত্যাশা, বাণিজ্যিকীকরণের ভিড়ে রিকশাচিত্রের মূল মোটিফ ও ইতিহাস যেন হারিয়ে না যায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের হাত ধরে এই শিল্প বেঁচে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এখন তাঁর সঙ্গে বেশির ভাগ কাজ করেন শাগরেদ মুনির হোসেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















