ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরা সংস্কৃতিতে সেজেছে দুর্গা প্রতিমা

শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজের মাঝে খাগড়াছড়ির খাগড়াপুর পূজামণ্ডপ সেজেছে এক অনন্য রূপে। পাহাড়ি জনপদটির ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের উদ্যোগে টানা নয় বছর ধরে দেবী দুর্গাকে এখানে সাজানো হচ্ছে ত্রিপুরা নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘রিনা-রিসাই’ ও বিশেষ লোকজ অলংকারে। ত্রিপুরা অধ্যুষিত এই এলাকায় নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে স্থানীয়রা এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন করে আসছেন। বিগত ৯ বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও খাগড়াপুরের ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের উদ্যোগে দেবী দুর্গাকে সাজানো হয়েছে ত্রিপুরা নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘রিনা-রিসাই’ ও বিশেষ লোকজ অলংকারে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবের আমেজের মাঝেও সেখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পাহাড়ি সংস্কৃতির অনন্য রূপ।

পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক চামেলী ত্রিপুরা জানান, এই পূজামণ্ডপে অনেক আগে থেকেই দুর্গোৎসব পালিত হয়ে আসছে। তবে গত নয় বছর ধরে তারা দেবী প্রতিমাকে ত্রিপুরা নারীর সাজে ফুটিয়ে তোলার ধারাবাহিকতা রক্ষা করছেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের পোশাক ও হারিয়ে যেতে বসা অলংকারগুলো তুলে ধরা এবং তা প্রজন্ম পরম্পরায় টিকিয়ে রাখা। দেবী দুর্গার মাঝে নিজেদের রূপ খুঁজে পাওয়ার আনন্দই তাদের অনুপ্রাণিত করে বলে জানান তিনি। স্থানীয় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে তারা এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন।

পূজামণ্ডপে আসা পূজারী তপু ত্রিপুরা ও পলিসি ত্রিপুরা জানান, দেবী প্রতিমাকে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে দেখে তারা গর্বিত ও আনন্দিত। এতে দেবীকে যেন অনেক বেশি আপন মনে হয়। তারা মায়ের চরণে দেশের শান্তি ও সবার সুখ-সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেছেন। একইভাবে জেলার নয় মাইল এলাকা থেকে আসা সবিতা ত্রিপুরা ও যতিন্দ্র ত্রিপুরা প্রতি বছরই এই বিশেষ রূপের প্রতিমা দেখতে ছুটে আসেন। নিজেদের সংস্কৃতিতে মায়ের এই সাজ দেখতে তারা অত্যন্ত পছন্দ করেন এবং জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার কল্যাণ কামনায় আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। তারা মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছেন, বিগত বছরের মতো আগামী দিনগুলোতেও যেন সবাই সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারেন এবং দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা বা অশান্তি না থাকে।

আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, খাগড়াপুর পূজামণ্ডপে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নিজস্ব কৃষ্টি ও ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রতিমা গড়ার এই অনন্য ধারা আগামী বছরগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। পাহাড়ি সংস্কৃতির এই সমন্বয় পূজাকে দিয়েছে এক নতুন মাত্রা ও গভীরতা, যা স্থানীয়দের মাঝে দারুণ উদ্দীপনা তৈরি করেছে। Do Not Sell or Share My Personal Information।

আপলোডকারীর তথ্য

লেবাননে শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা

খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরা সংস্কৃতিতে সেজেছে দুর্গা প্রতিমা

আপডেট সময় ১১:৫৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজের মাঝে খাগড়াছড়ির খাগড়াপুর পূজামণ্ডপ সেজেছে এক অনন্য রূপে। পাহাড়ি জনপদটির ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের উদ্যোগে টানা নয় বছর ধরে দেবী দুর্গাকে এখানে সাজানো হচ্ছে ত্রিপুরা নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘রিনা-রিসাই’ ও বিশেষ লোকজ অলংকারে। ত্রিপুরা অধ্যুষিত এই এলাকায় নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে স্থানীয়রা এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন করে আসছেন। বিগত ৯ বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও খাগড়াপুরের ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের উদ্যোগে দেবী দুর্গাকে সাজানো হয়েছে ত্রিপুরা নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘রিনা-রিসাই’ ও বিশেষ লোকজ অলংকারে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবের আমেজের মাঝেও সেখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পাহাড়ি সংস্কৃতির অনন্য রূপ।

পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক চামেলী ত্রিপুরা জানান, এই পূজামণ্ডপে অনেক আগে থেকেই দুর্গোৎসব পালিত হয়ে আসছে। তবে গত নয় বছর ধরে তারা দেবী প্রতিমাকে ত্রিপুরা নারীর সাজে ফুটিয়ে তোলার ধারাবাহিকতা রক্ষা করছেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের পোশাক ও হারিয়ে যেতে বসা অলংকারগুলো তুলে ধরা এবং তা প্রজন্ম পরম্পরায় টিকিয়ে রাখা। দেবী দুর্গার মাঝে নিজেদের রূপ খুঁজে পাওয়ার আনন্দই তাদের অনুপ্রাণিত করে বলে জানান তিনি। স্থানীয় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে তারা এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন।

পূজামণ্ডপে আসা পূজারী তপু ত্রিপুরা ও পলিসি ত্রিপুরা জানান, দেবী প্রতিমাকে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে দেখে তারা গর্বিত ও আনন্দিত। এতে দেবীকে যেন অনেক বেশি আপন মনে হয়। তারা মায়ের চরণে দেশের শান্তি ও সবার সুখ-সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেছেন। একইভাবে জেলার নয় মাইল এলাকা থেকে আসা সবিতা ত্রিপুরা ও যতিন্দ্র ত্রিপুরা প্রতি বছরই এই বিশেষ রূপের প্রতিমা দেখতে ছুটে আসেন। নিজেদের সংস্কৃতিতে মায়ের এই সাজ দেখতে তারা অত্যন্ত পছন্দ করেন এবং জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার কল্যাণ কামনায় আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। তারা মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছেন, বিগত বছরের মতো আগামী দিনগুলোতেও যেন সবাই সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারেন এবং দেশে কোনো ধরনের অরাজকতা বা অশান্তি না থাকে।

আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, খাগড়াপুর পূজামণ্ডপে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নিজস্ব কৃষ্টি ও ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রতিমা গড়ার এই অনন্য ধারা আগামী বছরগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। পাহাড়ি সংস্কৃতির এই সমন্বয় পূজাকে দিয়েছে এক নতুন মাত্রা ও গভীরতা, যা স্থানীয়দের মাঝে দারুণ উদ্দীপনা তৈরি করেছে। Do Not Sell or Share My Personal Information।