ইয়েমেনের রাজধানী সানায় অবস্থিত তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এই হামলার আগে সৌদি আরবের আরামকো তেল কোম্পানির একটি প্রশাসনিক ভবনে হুথিদের হামলার ঘটনা ঘটে, যার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়েছে। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ-এর তথ্যমতে, আরামকোর ওই ভবনে আগুনের সূত্রপাত হলেও দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় এবং কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে, সানার আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় তেল স্থাপনা এলাকা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার জন্য সৌদি জোটের নির্দেশনার পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলার পর আগুনের সূত্রপাত হলেও দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনের অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে।
হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করে বেসামরিক ও কর্মীদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। সেই সাথে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, সানায় হামলা অব্যহত থাকলে রিয়াদে কঠোর ও বেদনাদায়ক জবাব দেওয়া হবে। এর মধ্যেই সৌদি আরবের আকাশে রিয়াদমুখী কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি জোট। এসপিএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত এবং অন্তত ১৫টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেছেন যে, হুথিরা সানার তেল স্থাপনা ও ভূগর্ভস্থ ডিপোগুলো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করছিল, যে কারণেই এসব স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, হুথি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে যে, সৌদি জোটের হামলায় সানার আল-সাবাহ এলাকার তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীন কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
দেশটির ক্রমবর্ধমান সংঘাতের বিষয়ে জাতিসংঘের তথ্য বলছে, গত আগস্ট থেকে অন্তত ৪৬ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাস থেকে দুই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কৌশল হিসেবেই হুথিরা সৌদি অবকাঠামোয় আক্রমণ বাড়াচ্ছে। তবে তার এই দাবির সপক্ষে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সব মিলিয়ে এই পাল্টাপাল্টি হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে নতুন করে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















