ঢাকা ১২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ: গ্রিসের মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে পদত্যাগের নির্দেশ

অর্থ, উপহার এবং বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেছেন। হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারাইয়া এই নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গিলফয়েল ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একসময় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হলেও, তাঁর বর্তমান কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদনগুলো প্রশাসনকে হতাশ করেছে। গিলফয়েল আরও লিখেছেন, ‘রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমার দায়িত্ব হয়তো শেষ হতে যাচ্ছে, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আমেরিকা ফার্স্ট আন্দোলন এবং আমার প্রিয় দেশের প্রতি আমার অঙ্গীকার কখনো শেষ হবে না।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে গিলফয়েলের বিরুদ্ধে গ্রিস সরকারকে চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব খাটানোর হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন ব্যবসায়ী এরিক ডিটার্স দাবি করেছেন, সান ফ্রান্সিসকোর সাবেক প্রসিকিউটর গিলফয়েল তাঁর কাছে অর্থ দাবি করেছিলেন এবং নিজের ক্রেডিট কার্ডের ১ লাখ ডলারের বিল পরিশোধের জন্য চাপ দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভ্যন্তরীণ তদারকি বিভাগ ইতিমধ্যে এথেন্সে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া অনুপযুক্ত আচরণের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনে গ্রিসের একটি জ্বালানি কোম্পানির লবিস্টের সঙ্গে গিলফয়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ওই কোম্পানির পক্ষে তাঁর প্রচারণার কথা তুলে ধরা হয়। আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের ছেলে এরিকের সম্মানে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আয়োজিত একটি নৈশভোজে আমন্ত্রণ পাওয়ার চেষ্টা করার সময় ধনী গ্রিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে বড়াই করেছিলেন গিলফয়েল।

অভিযোগ অস্বীকার করে এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া পোস্টে কিম্বারলি গিলফয়েল দাবি করেছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, নিজের সুনাম ও সততা রক্ষায় তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। যদিও তাঁর দায়িত্ব পালন নিয়ে ওঠা এসব সংবেদনশীল বিষয়ের ওপর গ্রিস সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি, তবে গ্রিসের বিরোধী দল পাসোকের পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র দিমিত্রিস মানৎসোস বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। আমরা তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করি।’।

মানৎসোস প্রশ্ন তুলেছেন যে, গ্রিস কি এসব ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করবে নাকি অন্য কোনো দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ‘নাট্যমঞ্চ’ হয়ে থাকা মেনে নেবে। এদিকে, ট্রাম্প মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছেন, গিলফয়েল ভালো কাজ করছিলেন ঠিকই, কিন্তু যে ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে, তা প্রশাসন গ্রহণ করতে পারছে না। প্রেসিডেন্ট বিষয়টি বরখাস্ত করার পর্যায়ে বিবেচনা করছিলেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সোমবার।

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে গ্রিসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কিম্বারলি গিলফয়েল বিভিন্ন সময় বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। পিরেয়ুস বন্দরে চীনের ৬৭ শতাংশ মালিকানা নিয়ে তাঁর কড়া মন্তব্যের জবাবে গ্রিসে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ফাং চিউ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আধিপত্যবাদী মনোভাবের অভিযোগ তুলেছিলেন। এছাড়া গ্রিসের স্থানীয় ম্যাগাজিন ‘ভোগ’-এর প্রচ্ছদে জায়গা করে নেওয়া এবং তারকাদের সঙ্গে পার্টিতে অংশ নেওয়া নিয়ে তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমে বেশ আলোচিত ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে একসময়ের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বাগ্‌দত্তা গিলফয়েল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এর মধ্যে এক্সনমবিলের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান চুক্তি এবং এলএনজি আমদানির মতো বড় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। যদিও তাঁর নিয়োগ নিয়ে ওঠা নতুন এই বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো মিত্র গ্রিসের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বন্দরটি বেইজিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

গ্রিস ভূমধ্যসাগরের নিরাপত্তা ও লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্ব দিচ্ছে। গত সপ্তাহে গ্রিস সফরে এসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে নতুন তথ্য বিনিময়ের উদ্যোগ ঘোষণা করেছিলেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগ ও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি বড় ধরনের কূটনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বা এথেন্সের মার্কিন দূতাবাস এ বিষয়ে কোনো বাড়তি তথ্য জানায়নি। এ বিষয়ে একটি অডিও রেকর্ডিংয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়। পূর্ব ভূমধ্যসাগরের নিরাপত্তা রক্ষায় দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেয়।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ: গ্রিসের মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে পদত্যাগের নির্দেশ

আপডেট সময় ১১:০২:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

অর্থ, উপহার এবং বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেছেন। হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারাইয়া এই নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গিলফয়েল ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একসময় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হলেও, তাঁর বর্তমান কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদনগুলো প্রশাসনকে হতাশ করেছে। গিলফয়েল আরও লিখেছেন, ‘রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমার দায়িত্ব হয়তো শেষ হতে যাচ্ছে, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আমেরিকা ফার্স্ট আন্দোলন এবং আমার প্রিয় দেশের প্রতি আমার অঙ্গীকার কখনো শেষ হবে না।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে গিলফয়েলের বিরুদ্ধে গ্রিস সরকারকে চাপে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব খাটানোর হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন ব্যবসায়ী এরিক ডিটার্স দাবি করেছেন, সান ফ্রান্সিসকোর সাবেক প্রসিকিউটর গিলফয়েল তাঁর কাছে অর্থ দাবি করেছিলেন এবং নিজের ক্রেডিট কার্ডের ১ লাখ ডলারের বিল পরিশোধের জন্য চাপ দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভ্যন্তরীণ তদারকি বিভাগ ইতিমধ্যে এথেন্সে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া অনুপযুক্ত আচরণের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনে গ্রিসের একটি জ্বালানি কোম্পানির লবিস্টের সঙ্গে গিলফয়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ওই কোম্পানির পক্ষে তাঁর প্রচারণার কথা তুলে ধরা হয়। আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের ছেলে এরিকের সম্মানে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আয়োজিত একটি নৈশভোজে আমন্ত্রণ পাওয়ার চেষ্টা করার সময় ধনী গ্রিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে বড়াই করেছিলেন গিলফয়েল।

অভিযোগ অস্বীকার করে এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া পোস্টে কিম্বারলি গিলফয়েল দাবি করেছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, নিজের সুনাম ও সততা রক্ষায় তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। যদিও তাঁর দায়িত্ব পালন নিয়ে ওঠা এসব সংবেদনশীল বিষয়ের ওপর গ্রিস সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি, তবে গ্রিসের বিরোধী দল পাসোকের পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র দিমিত্রিস মানৎসোস বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। আমরা তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করি।’।

মানৎসোস প্রশ্ন তুলেছেন যে, গ্রিস কি এসব ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করবে নাকি অন্য কোনো দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ‘নাট্যমঞ্চ’ হয়ে থাকা মেনে নেবে। এদিকে, ট্রাম্প মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছেন, গিলফয়েল ভালো কাজ করছিলেন ঠিকই, কিন্তু যে ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে, তা প্রশাসন গ্রহণ করতে পারছে না। প্রেসিডেন্ট বিষয়টি বরখাস্ত করার পর্যায়ে বিবেচনা করছিলেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সোমবার।

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে গ্রিসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কিম্বারলি গিলফয়েল বিভিন্ন সময় বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। পিরেয়ুস বন্দরে চীনের ৬৭ শতাংশ মালিকানা নিয়ে তাঁর কড়া মন্তব্যের জবাবে গ্রিসে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ফাং চিউ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আধিপত্যবাদী মনোভাবের অভিযোগ তুলেছিলেন। এছাড়া গ্রিসের স্থানীয় ম্যাগাজিন ‘ভোগ’-এর প্রচ্ছদে জায়গা করে নেওয়া এবং তারকাদের সঙ্গে পার্টিতে অংশ নেওয়া নিয়ে তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমে বেশ আলোচিত ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে একসময়ের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বাগ্‌দত্তা গিলফয়েল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এর মধ্যে এক্সনমবিলের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান চুক্তি এবং এলএনজি আমদানির মতো বড় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। যদিও তাঁর নিয়োগ নিয়ে ওঠা নতুন এই বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো মিত্র গ্রিসের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বন্দরটি বেইজিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

গ্রিস ভূমধ্যসাগরের নিরাপত্তা ও লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্ব দিচ্ছে। গত সপ্তাহে গ্রিস সফরে এসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে নতুন তথ্য বিনিময়ের উদ্যোগ ঘোষণা করেছিলেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগ ও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি বড় ধরনের কূটনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বা এথেন্সের মার্কিন দূতাবাস এ বিষয়ে কোনো বাড়তি তথ্য জানায়নি। এ বিষয়ে একটি অডিও রেকর্ডিংয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়। পূর্ব ভূমধ্যসাগরের নিরাপত্তা রক্ষায় দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেয়।