সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ গভীর নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) ঘটা এই প্রাণঘাতী হামলায় মোট ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই হামলার নিন্দা জানায় এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে। একই সাথে, আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে। হতাহত বাংলাদেশি নাগরিকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংগ্রহ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে এই হামলার জন্য দায়ী করা হচ্ছে। নিরাপত্তার খাতিরে হামলার পরপরই কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়, যার ফলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সূচিতে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকেও সৌদি আরবগামী আকাশপথে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তাদের ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের বিজি-৩৩৯ এবং বিজি-৩৪০ ফ্লাইটগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় যাত্রীদের পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিমানবন্দরে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক যাত্রী এই স্থগিতাদেশের বার্তা সময়মতো না পাওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
রিয়াদ বিমানবন্দরের অচলাবস্থায় সৌদিগামী হাজারো যাত্রী, বিশেষ করে ওমরাহ যাত্রী ও প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ায় অনেক প্রবাসী কর্মক্ষেত্রে ফেরা নিয়ে চিন্তিত। বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় কবে স্বাভাবিক হবে এবং ফ্লাইটগুলো পুনরায় সচল হবে, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

















