ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের গণমাধ্যমকে অন্ধকার গলি থেকে মুক্ত আকাশে বের করেন শহীদ জিয়া: তথ্যমন্ত্রী আবু সাঈদ হত্যা মামলা: দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকা বিশেষ ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক বেতন বৃদ্ধির সমান্তরালে দুর্নীতি দমনেও কঠোর হতে হবে: মুনীর চৌধুরী ব্রাজিলের জার্সি গায়ে ‘পল্টি মারলেন’ সাকিব আছিয়া-রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি চাইলেন অ্যাটর্নি জেনারেল দুর্ভিক্ষপীড়িত রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন জিয়াউর রহমান: মির্জা ফখরুল মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সোহেল-স্বপ্নার জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ খুলনায় নামাজের সময় মসজিদে ঢুকে গুলি, দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ

ভাঙা রাস্তা ও জমাট পানিতে দুর্ভোগে গোপালগঞ্জ পৌরবাসী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া অঝর ধারায় বৃষ্টি গোপালগঞ্জ শহরে বসবাসকারী লক্ষাধিক লোকের ভোগান্তিকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে। জেলা শহরের রাস্তাঘাট উন্নয়নের নামে গত ৬ মাস ধরে ভেঙে-চুরে তছনছ করা হয়েছে। এমনিতেই শহরের লোকজন পায়ে হেটে ছাড়া রিক্সায় করে ঘরে যেতে পারেন না। তার উপর বৃষ্টি আর কাঁদায় যেন সব একাকার হয়ে গেছে। এ অবস্থা থেকে কবে নাগাদ পৌরবাসী মুক্তি পাবেন তা কেউ জানেন না।

সমস্যার মধ্যে বসবাস করতে করতে যেন গোপালগঞ্জ পৌরবাসী এখন আর সমস্যার কথা কাউকে বলতে চান না। এই যে গত দু’দিন ধরে প্রবল বর্ষণ হচ্ছে তাতে শহরের অনেক রাস্তাঘাটে এক হাটু পানি জমে গেছে। আবার কাদায় কাদায় সয়লাব হয়েছে কোন কোন সড়ক। কারো কারো বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে গেছে। বাসায় বাজার করে রিক্সায় যাওয়াটা অনেক ভাগ্যের ব্যাপার কারো কারো।

গত ৬ মাস ধরে চলছে এমন অবস্থা। অথচ সবাই যেন নিশ্চুপ হয়ে গেছে। আর কত বলবে। কাকে বলবে। একাধিকবার জেলা প্রশাসনে এ সমস্যার সমাধানে উদ্যোগের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। গত মে মাসে শুরু হওয়া ড্রেন নির্মাণের কাজ এখনও শেষ হয়নি। অথচ তা শেষ হবার কথা ছিল আরো আগে। কিন্তু সঠিকভাবে কাজ করা হচ্ছে না এমন অভিযোগের পর চলতি কাজ আরো পিছিয়ে পড়ে। আর এতে ভোগান্তির দিন যেন বাড়তে থাকে পৌরবাসীর। শহরের প্রায় সব রাস্তায়ই এক যোগে খুড়ে বড় ড্রেন নির্মাণ শুরু হয়েছিল। পৌরবাসী আশার মুখ দেখেছিল। কিছুদিন কষ্ট হলেও পানি নিষ্কাশনের হয়তো একটা স্থায়ী সমাধান হবে এই ভেবে। কিন্তু, সব আশায় বালি দিয়ে ভোগান্তির পরিমান আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

ড্রেন নির্মাণ কাজ কবে শেষ হবে আর কবে জনগনের ভোগান্তি লাঘব হবে তা কেউই বলতে পারছেন না। জনগন শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছেন। আর ভোগান্তি নিরসনের আশায় বসে আছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানান, কয়েক মাস ধরে পাইপ লাইনের মাধ্যমে ড্রেন নির্মাণ করে রাস্থা খুঁড়ে রাখায় গোপালগঞ্জ পৌরবাসীর ভোগান্তি এখন চরমে। নির্মাণাধীন ড্রেনের মধ্য দিয়ে পানি নিষ্কাসন হচ্ছে না। ফলে ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। কোন কোন রাস্তায় দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস পর ড্রেন নির্মাণের পরও নির্মাণ করা হয়নি গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার রাস্তা এবং খোলা রাখা হয়েছে ড্রেনগুলোর ম্যানহোল। বিভিন্ন রাস্তায় ব্যাপক খোড়াখুড়ির কাজ চলায় রাস্তার মাঝে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার মাঝখানে এমন গর্তের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে পথচারী চলাচল। নতুন ভাবে রাস্তা নির্মাণ ও নির্মিত ড্রেনের ম্যানহোল ঢেকে না দিলে এবং পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা না করলে কমছে না জনদুর্ভোগ।

লক্ষাধিক জনগনের ভোগান্তি কমাতে পৌর কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসবেন বলে আশা করছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এ বিষয়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের

ভাঙা রাস্তা ও জমাট পানিতে দুর্ভোগে গোপালগঞ্জ পৌরবাসী

আপডেট সময় ১০:৩১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া অঝর ধারায় বৃষ্টি গোপালগঞ্জ শহরে বসবাসকারী লক্ষাধিক লোকের ভোগান্তিকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে। জেলা শহরের রাস্তাঘাট উন্নয়নের নামে গত ৬ মাস ধরে ভেঙে-চুরে তছনছ করা হয়েছে। এমনিতেই শহরের লোকজন পায়ে হেটে ছাড়া রিক্সায় করে ঘরে যেতে পারেন না। তার উপর বৃষ্টি আর কাঁদায় যেন সব একাকার হয়ে গেছে। এ অবস্থা থেকে কবে নাগাদ পৌরবাসী মুক্তি পাবেন তা কেউ জানেন না।

সমস্যার মধ্যে বসবাস করতে করতে যেন গোপালগঞ্জ পৌরবাসী এখন আর সমস্যার কথা কাউকে বলতে চান না। এই যে গত দু’দিন ধরে প্রবল বর্ষণ হচ্ছে তাতে শহরের অনেক রাস্তাঘাটে এক হাটু পানি জমে গেছে। আবার কাদায় কাদায় সয়লাব হয়েছে কোন কোন সড়ক। কারো কারো বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে গেছে। বাসায় বাজার করে রিক্সায় যাওয়াটা অনেক ভাগ্যের ব্যাপার কারো কারো।

গত ৬ মাস ধরে চলছে এমন অবস্থা। অথচ সবাই যেন নিশ্চুপ হয়ে গেছে। আর কত বলবে। কাকে বলবে। একাধিকবার জেলা প্রশাসনে এ সমস্যার সমাধানে উদ্যোগের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। গত মে মাসে শুরু হওয়া ড্রেন নির্মাণের কাজ এখনও শেষ হয়নি। অথচ তা শেষ হবার কথা ছিল আরো আগে। কিন্তু সঠিকভাবে কাজ করা হচ্ছে না এমন অভিযোগের পর চলতি কাজ আরো পিছিয়ে পড়ে। আর এতে ভোগান্তির দিন যেন বাড়তে থাকে পৌরবাসীর। শহরের প্রায় সব রাস্তায়ই এক যোগে খুড়ে বড় ড্রেন নির্মাণ শুরু হয়েছিল। পৌরবাসী আশার মুখ দেখেছিল। কিছুদিন কষ্ট হলেও পানি নিষ্কাশনের হয়তো একটা স্থায়ী সমাধান হবে এই ভেবে। কিন্তু, সব আশায় বালি দিয়ে ভোগান্তির পরিমান আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

ড্রেন নির্মাণ কাজ কবে শেষ হবে আর কবে জনগনের ভোগান্তি লাঘব হবে তা কেউই বলতে পারছেন না। জনগন শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছেন। আর ভোগান্তি নিরসনের আশায় বসে আছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানান, কয়েক মাস ধরে পাইপ লাইনের মাধ্যমে ড্রেন নির্মাণ করে রাস্থা খুঁড়ে রাখায় গোপালগঞ্জ পৌরবাসীর ভোগান্তি এখন চরমে। নির্মাণাধীন ড্রেনের মধ্য দিয়ে পানি নিষ্কাসন হচ্ছে না। ফলে ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। কোন কোন রাস্তায় দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস পর ড্রেন নির্মাণের পরও নির্মাণ করা হয়নি গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার রাস্তা এবং খোলা রাখা হয়েছে ড্রেনগুলোর ম্যানহোল। বিভিন্ন রাস্তায় ব্যাপক খোড়াখুড়ির কাজ চলায় রাস্তার মাঝে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার মাঝখানে এমন গর্তের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে পথচারী চলাচল। নতুন ভাবে রাস্তা নির্মাণ ও নির্মিত ড্রেনের ম্যানহোল ঢেকে না দিলে এবং পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা না করলে কমছে না জনদুর্ভোগ।

লক্ষাধিক জনগনের ভোগান্তি কমাতে পৌর কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসবেন বলে আশা করছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এ বিষয়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।