ঢাকা ০৮:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ভাঙা রাস্তা ও জমাট পানিতে দুর্ভোগে গোপালগঞ্জ পৌরবাসী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া অঝর ধারায় বৃষ্টি গোপালগঞ্জ শহরে বসবাসকারী লক্ষাধিক লোকের ভোগান্তিকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে। জেলা শহরের রাস্তাঘাট উন্নয়নের নামে গত ৬ মাস ধরে ভেঙে-চুরে তছনছ করা হয়েছে। এমনিতেই শহরের লোকজন পায়ে হেটে ছাড়া রিক্সায় করে ঘরে যেতে পারেন না। তার উপর বৃষ্টি আর কাঁদায় যেন সব একাকার হয়ে গেছে। এ অবস্থা থেকে কবে নাগাদ পৌরবাসী মুক্তি পাবেন তা কেউ জানেন না।

সমস্যার মধ্যে বসবাস করতে করতে যেন গোপালগঞ্জ পৌরবাসী এখন আর সমস্যার কথা কাউকে বলতে চান না। এই যে গত দু’দিন ধরে প্রবল বর্ষণ হচ্ছে তাতে শহরের অনেক রাস্তাঘাটে এক হাটু পানি জমে গেছে। আবার কাদায় কাদায় সয়লাব হয়েছে কোন কোন সড়ক। কারো কারো বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে গেছে। বাসায় বাজার করে রিক্সায় যাওয়াটা অনেক ভাগ্যের ব্যাপার কারো কারো।

গত ৬ মাস ধরে চলছে এমন অবস্থা। অথচ সবাই যেন নিশ্চুপ হয়ে গেছে। আর কত বলবে। কাকে বলবে। একাধিকবার জেলা প্রশাসনে এ সমস্যার সমাধানে উদ্যোগের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। গত মে মাসে শুরু হওয়া ড্রেন নির্মাণের কাজ এখনও শেষ হয়নি। অথচ তা শেষ হবার কথা ছিল আরো আগে। কিন্তু সঠিকভাবে কাজ করা হচ্ছে না এমন অভিযোগের পর চলতি কাজ আরো পিছিয়ে পড়ে। আর এতে ভোগান্তির দিন যেন বাড়তে থাকে পৌরবাসীর। শহরের প্রায় সব রাস্তায়ই এক যোগে খুড়ে বড় ড্রেন নির্মাণ শুরু হয়েছিল। পৌরবাসী আশার মুখ দেখেছিল। কিছুদিন কষ্ট হলেও পানি নিষ্কাশনের হয়তো একটা স্থায়ী সমাধান হবে এই ভেবে। কিন্তু, সব আশায় বালি দিয়ে ভোগান্তির পরিমান আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

ড্রেন নির্মাণ কাজ কবে শেষ হবে আর কবে জনগনের ভোগান্তি লাঘব হবে তা কেউই বলতে পারছেন না। জনগন শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছেন। আর ভোগান্তি নিরসনের আশায় বসে আছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানান, কয়েক মাস ধরে পাইপ লাইনের মাধ্যমে ড্রেন নির্মাণ করে রাস্থা খুঁড়ে রাখায় গোপালগঞ্জ পৌরবাসীর ভোগান্তি এখন চরমে। নির্মাণাধীন ড্রেনের মধ্য দিয়ে পানি নিষ্কাসন হচ্ছে না। ফলে ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। কোন কোন রাস্তায় দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস পর ড্রেন নির্মাণের পরও নির্মাণ করা হয়নি গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার রাস্তা এবং খোলা রাখা হয়েছে ড্রেনগুলোর ম্যানহোল। বিভিন্ন রাস্তায় ব্যাপক খোড়াখুড়ির কাজ চলায় রাস্তার মাঝে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার মাঝখানে এমন গর্তের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে পথচারী চলাচল। নতুন ভাবে রাস্তা নির্মাণ ও নির্মিত ড্রেনের ম্যানহোল ঢেকে না দিলে এবং পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা না করলে কমছে না জনদুর্ভোগ।

লক্ষাধিক জনগনের ভোগান্তি কমাতে পৌর কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসবেন বলে আশা করছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এ বিষয়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

ভাঙা রাস্তা ও জমাট পানিতে দুর্ভোগে গোপালগঞ্জ পৌরবাসী

আপডেট সময় ১০:৩১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া অঝর ধারায় বৃষ্টি গোপালগঞ্জ শহরে বসবাসকারী লক্ষাধিক লোকের ভোগান্তিকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে। জেলা শহরের রাস্তাঘাট উন্নয়নের নামে গত ৬ মাস ধরে ভেঙে-চুরে তছনছ করা হয়েছে। এমনিতেই শহরের লোকজন পায়ে হেটে ছাড়া রিক্সায় করে ঘরে যেতে পারেন না। তার উপর বৃষ্টি আর কাঁদায় যেন সব একাকার হয়ে গেছে। এ অবস্থা থেকে কবে নাগাদ পৌরবাসী মুক্তি পাবেন তা কেউ জানেন না।

সমস্যার মধ্যে বসবাস করতে করতে যেন গোপালগঞ্জ পৌরবাসী এখন আর সমস্যার কথা কাউকে বলতে চান না। এই যে গত দু’দিন ধরে প্রবল বর্ষণ হচ্ছে তাতে শহরের অনেক রাস্তাঘাটে এক হাটু পানি জমে গেছে। আবার কাদায় কাদায় সয়লাব হয়েছে কোন কোন সড়ক। কারো কারো বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে গেছে। বাসায় বাজার করে রিক্সায় যাওয়াটা অনেক ভাগ্যের ব্যাপার কারো কারো।

গত ৬ মাস ধরে চলছে এমন অবস্থা। অথচ সবাই যেন নিশ্চুপ হয়ে গেছে। আর কত বলবে। কাকে বলবে। একাধিকবার জেলা প্রশাসনে এ সমস্যার সমাধানে উদ্যোগের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। গত মে মাসে শুরু হওয়া ড্রেন নির্মাণের কাজ এখনও শেষ হয়নি। অথচ তা শেষ হবার কথা ছিল আরো আগে। কিন্তু সঠিকভাবে কাজ করা হচ্ছে না এমন অভিযোগের পর চলতি কাজ আরো পিছিয়ে পড়ে। আর এতে ভোগান্তির দিন যেন বাড়তে থাকে পৌরবাসীর। শহরের প্রায় সব রাস্তায়ই এক যোগে খুড়ে বড় ড্রেন নির্মাণ শুরু হয়েছিল। পৌরবাসী আশার মুখ দেখেছিল। কিছুদিন কষ্ট হলেও পানি নিষ্কাশনের হয়তো একটা স্থায়ী সমাধান হবে এই ভেবে। কিন্তু, সব আশায় বালি দিয়ে ভোগান্তির পরিমান আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

ড্রেন নির্মাণ কাজ কবে শেষ হবে আর কবে জনগনের ভোগান্তি লাঘব হবে তা কেউই বলতে পারছেন না। জনগন শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছেন। আর ভোগান্তি নিরসনের আশায় বসে আছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানান, কয়েক মাস ধরে পাইপ লাইনের মাধ্যমে ড্রেন নির্মাণ করে রাস্থা খুঁড়ে রাখায় গোপালগঞ্জ পৌরবাসীর ভোগান্তি এখন চরমে। নির্মাণাধীন ড্রেনের মধ্য দিয়ে পানি নিষ্কাসন হচ্ছে না। ফলে ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। কোন কোন রাস্তায় দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস পর ড্রেন নির্মাণের পরও নির্মাণ করা হয়নি গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার রাস্তা এবং খোলা রাখা হয়েছে ড্রেনগুলোর ম্যানহোল। বিভিন্ন রাস্তায় ব্যাপক খোড়াখুড়ির কাজ চলায় রাস্তার মাঝে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার মাঝখানে এমন গর্তের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে পথচারী চলাচল। নতুন ভাবে রাস্তা নির্মাণ ও নির্মিত ড্রেনের ম্যানহোল ঢেকে না দিলে এবং পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা না করলে কমছে না জনদুর্ভোগ।

লক্ষাধিক জনগনের ভোগান্তি কমাতে পৌর কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসবেন বলে আশা করছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এ বিষয়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।