ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঝালকাঠিতে হাত বাঁধা অবস্থায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, দুই ফ্ল্যাটে চুরি খেলাধুলা সীমান্ত পেরিয়ে শান্তি ও বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন গড়ে তোলে: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল পদত্যাগ করলেন জয়পুরহাট এনসিপির আহ্বায়ক এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর দেরি করে যাওয়ায় নিজ এলাকার বন্যার্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ: সড়ক প্রতিমন্ত্রী কানাডার ওপর ক্ষেপেছেন ট্রাম্প, নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি শাহজালাল (রহ.) মাজারে সিন্ডিকেট নিয়ে ভয়াবহ তথ্য দিলেন সাবেক ডিসি সারোয়ার আলম বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ, দুই দিন পর মরদেহ মিলল পাটখেতে টানা সপ্তম রাতেও ইরানে মার্কিন হামলা, পাল্টা আঘাত তেহরানের

দেরি করে যাওয়ায় নিজ এলাকার বন্যার্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরীর বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে দেরিতে পৌঁছানোর জন্য একাধিকবার ক্ষমা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আঞ্চলিক ভাষায় তিনি বলেন, ‘আঁই দেরি গরি আইস্সিদে, আঁরে মাফ গরি দিয়্য (আমি দেরি করে এসেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন)।’

শনি ও শুক্রবার চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী, কাকারা, লক্ষ্যারচর, বরইতলী, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষতি পর্যবেক্ষণকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বন্যার শুরুতে তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দেশের বাইরে থাকায় দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত আসতে পারেননি। দেশে ফিরে জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার কারণে আরও কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে এই সময় জুড়ে সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমি না থাকলেও আপনাদের জন্য সহযোগিতা থেমে ছিল না। কোথাও বিজিবি, কোথাও পুলিশ, কোথাও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, কোথাও বেসরকারি সংস্থা এবং আমাদের দলীয় উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। সবাই মিলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর এবং বরইতলী-পহরচাঁদা এলাকার মানুষের জন্য বন্যা নতুন কোনো ঘটনা নয়। এসব এলাকা মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী হওয়ায় প্রায় প্রতি বছরই বন্যার ঝুঁকি থাকে। তাই শুধু ত্রাণ নয়, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ সময় স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কাকারা এলাকার বাইশ্যাছড়া খাল পুনঃখননের আশ্বাসও দেন তিনি।

বানভাসি মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা জনগণের সরকার। যে কোনো দুর্যোগে আমরা জনগণের পাশে আছি এবং থাকব। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দলীয়ভাবেও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। এই দুর্যোগে কাউকে একা ফেলে রাখা হবে না।

দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রকৃত চিত্র তুলে আনতে সরকারিভাবে জরিপ পরিচালিত হচ্ছে। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি, গবাদিপশু ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের পর সেই অনুযায়ী পুনর্বাসন ও সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার ত্রাণের পরিবর্তে মাতামুহুরী নদীতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদী ও খাল সংস্কারের দাবি জানান। তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপনের আশ্বাস দেন।

এদিকে শনিবার সকালে শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পেকুয়া উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণ সহায়তা ও গৃহস্থালি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠিতে হাত বাঁধা অবস্থায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, দুই ফ্ল্যাটে চুরি

দেরি করে যাওয়ায় নিজ এলাকার বন্যার্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:৩০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরীর বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে দেরিতে পৌঁছানোর জন্য একাধিকবার ক্ষমা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আঞ্চলিক ভাষায় তিনি বলেন, ‘আঁই দেরি গরি আইস্সিদে, আঁরে মাফ গরি দিয়্য (আমি দেরি করে এসেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন)।’

শনি ও শুক্রবার চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী, কাকারা, লক্ষ্যারচর, বরইতলী, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষতি পর্যবেক্ষণকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বন্যার শুরুতে তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দেশের বাইরে থাকায় দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত আসতে পারেননি। দেশে ফিরে জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার কারণে আরও কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে এই সময় জুড়ে সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমি না থাকলেও আপনাদের জন্য সহযোগিতা থেমে ছিল না। কোথাও বিজিবি, কোথাও পুলিশ, কোথাও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, কোথাও বেসরকারি সংস্থা এবং আমাদের দলীয় উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। সবাই মিলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর এবং বরইতলী-পহরচাঁদা এলাকার মানুষের জন্য বন্যা নতুন কোনো ঘটনা নয়। এসব এলাকা মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী হওয়ায় প্রায় প্রতি বছরই বন্যার ঝুঁকি থাকে। তাই শুধু ত্রাণ নয়, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ সময় স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কাকারা এলাকার বাইশ্যাছড়া খাল পুনঃখননের আশ্বাসও দেন তিনি।

বানভাসি মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা জনগণের সরকার। যে কোনো দুর্যোগে আমরা জনগণের পাশে আছি এবং থাকব। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দলীয়ভাবেও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। এই দুর্যোগে কাউকে একা ফেলে রাখা হবে না।

দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রকৃত চিত্র তুলে আনতে সরকারিভাবে জরিপ পরিচালিত হচ্ছে। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি, গবাদিপশু ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের পর সেই অনুযায়ী পুনর্বাসন ও সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার ত্রাণের পরিবর্তে মাতামুহুরী নদীতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদী ও খাল সংস্কারের দাবি জানান। তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপনের আশ্বাস দেন।

এদিকে শনিবার সকালে শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পেকুয়া উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণ সহায়তা ও গৃহস্থালি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।