আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওলিউল্লার নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযানে ছয়জন মাদকসেবীকে আটক করে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের ঠেলাগাড়িতে বেঁধে এলাকায় প্রদক্ষিণ করিয়ে রামগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়।
মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইছাপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবন ও মাদক কেনাবেচার অভিযোগ ছিল। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতি ওলি উল্লাহর নেতৃত্বে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে রাসেল, সজিব, জামাই সেলিম, রোহিম, তাজু ও আরও একজনসহ মোট ছয়জনকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ৪২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
আটকদের প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের ঠেলাগাড়িতে বেঁধে ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করানো হয়। পরে তাদের রামগঞ্জ থানায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, গুচ্ছগ্রাম এলাকাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের আখড়া গড়ে উঠেছিল। সেখান থেকেই বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ করা হতো। এতে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান ওলি উল্লাহ।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান বাচ্চু বলেন, আমাদের ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আজকের অভিযানের মাধ্যমে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বার্তা দিয়েছি। ভবিষ্যতে যাকেই মাদকসেবন বা মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত অবস্থায় পাওয়া যাবে, তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ইসমাইল হোসেন বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশনায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না; সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান ওলি উল্লাহ বলেন, আমরা ইউনিয়নবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, ইছাপুর ইউনিয়নে মাদকের কোনো স্থান হবে না। সবাই মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। কোথাও মাদকসেবন বা মাদক বিক্রির খবর পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান এবং আইনগত ব্যবস্থায় সহযোগিতা করুন।
রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান ওলি উল্লাহর মাধ্যমে ছয়জনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে মোট ৪২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















