ঢাকা ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

আমাকে ছেড়ে দাও..আমি কষ্ট পাচ্ছি..আমি মায়ের কাছে যাবো : ধর্ষিতা শিশু

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

‘আমাকে ছেড়ে দাও। আমি কষ্ট পাচ্ছি। আমি মরে যাচ্ছি। আমি মায়ের কাছে যাবো…..’ রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের অস্পষ্ট স্বরে এসব কথা বলছিলেন ধর্ষণের শিকার হওয়া পাঁচ বছরের এক শিশু।শনিবার রমেক হাসপাতালের ‘ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে’ ওই ধর্ষিতা শিশুটিকে ভর্তি করা হয়। তার বাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নে।

শিশুটি এখনও স্কুলের গণ্ডিতে পা রাখেনি। পুরুষ আর নারী এই দু’য়ের পার্থক্যও বুঝে ওঠেনি। এরইমধ্যে তাকে ভয়ংকর বিকৃত রুচির শিকার হতে হয়েছে একজন বাবার বয়সি পুরুষের কাছে। অভিযুক্ত ধর্ষক শরিফুল ইসলাম (৪০) পেশায় চায়ের দোকানদার। তিনি প্রতিবেশী সৈয়দ আলীর ছেলে।ঘটনাটি ঘটে গত ১০ জুলাই। শিশুটির বাড়ির পাশেই শরিফুলের চায়ের দোকান। দুপুরে চায়ের দোকানের পাশে খেলছিল শিশুটি। এসময় তাকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে শরিফুল ইসলাম।

প্রজননতন্ত্রে আঘাতে রক্তক্ষরণ হতে থাকে শিশুটির। সে কান্নাকাটি করলেও অনেক সময় তাকে আটকে রাখে ধর্ষক শরিফুল।ছাড়ার পর যন্ত্রনাকাতর শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে। পরে সে তার পরিবারকে সব জানায়। এ খবর জানতে পেরে শরিফুলের পরিবার ও কয়েকজন প্রতিবেশী এ নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি না করতে বলে ধর্ষিতা শিশুটির পরিবারকে। এভাবে শিশুটিতে বাড়িতে রেখে ধর্ষণের ঘটনা গোপন করার চেষ্টা হয়। এভাবে শিশুটি ক্রমাগত গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে শনিবার দুপুরে রমেক হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করেন তার বাবা-মা। পরে সেখান থেকে তাকে ‘ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে’ স্থানান্তর করা হয়।

ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক আবু শফি মাহমুদ বলেন, শিশুটির প্রজননতন্ত্রে ক্ষত হওয়ায় সেখানে সংক্রমণ হয়েছে। তাছাড়া তার মনোজগতে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। তার ভেতর এখনও প্রচণ্ড ভীতি কাজ করছে। তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা প্রয়োজন।

গঙ্গাচড়া থানার ওসি মো. জিন্নাত আলী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত আকারে মামলা দায়ের করা প্রস্তুতি চলছে। মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

আমাকে ছেড়ে দাও..আমি কষ্ট পাচ্ছি..আমি মায়ের কাছে যাবো : ধর্ষিতা শিশু

আপডেট সময় ১২:১১:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুলাই ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

‘আমাকে ছেড়ে দাও। আমি কষ্ট পাচ্ছি। আমি মরে যাচ্ছি। আমি মায়ের কাছে যাবো…..’ রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের অস্পষ্ট স্বরে এসব কথা বলছিলেন ধর্ষণের শিকার হওয়া পাঁচ বছরের এক শিশু।শনিবার রমেক হাসপাতালের ‘ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে’ ওই ধর্ষিতা শিশুটিকে ভর্তি করা হয়। তার বাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নে।

শিশুটি এখনও স্কুলের গণ্ডিতে পা রাখেনি। পুরুষ আর নারী এই দু’য়ের পার্থক্যও বুঝে ওঠেনি। এরইমধ্যে তাকে ভয়ংকর বিকৃত রুচির শিকার হতে হয়েছে একজন বাবার বয়সি পুরুষের কাছে। অভিযুক্ত ধর্ষক শরিফুল ইসলাম (৪০) পেশায় চায়ের দোকানদার। তিনি প্রতিবেশী সৈয়দ আলীর ছেলে।ঘটনাটি ঘটে গত ১০ জুলাই। শিশুটির বাড়ির পাশেই শরিফুলের চায়ের দোকান। দুপুরে চায়ের দোকানের পাশে খেলছিল শিশুটি। এসময় তাকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে শরিফুল ইসলাম।

প্রজননতন্ত্রে আঘাতে রক্তক্ষরণ হতে থাকে শিশুটির। সে কান্নাকাটি করলেও অনেক সময় তাকে আটকে রাখে ধর্ষক শরিফুল।ছাড়ার পর যন্ত্রনাকাতর শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে। পরে সে তার পরিবারকে সব জানায়। এ খবর জানতে পেরে শরিফুলের পরিবার ও কয়েকজন প্রতিবেশী এ নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি না করতে বলে ধর্ষিতা শিশুটির পরিবারকে। এভাবে শিশুটিতে বাড়িতে রেখে ধর্ষণের ঘটনা গোপন করার চেষ্টা হয়। এভাবে শিশুটি ক্রমাগত গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে শনিবার দুপুরে রমেক হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করেন তার বাবা-মা। পরে সেখান থেকে তাকে ‘ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে’ স্থানান্তর করা হয়।

ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক আবু শফি মাহমুদ বলেন, শিশুটির প্রজননতন্ত্রে ক্ষত হওয়ায় সেখানে সংক্রমণ হয়েছে। তাছাড়া তার মনোজগতে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। তার ভেতর এখনও প্রচণ্ড ভীতি কাজ করছে। তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা প্রয়োজন।

গঙ্গাচড়া থানার ওসি মো. জিন্নাত আলী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত আকারে মামলা দায়ের করা প্রস্তুতি চলছে। মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।