ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মাঝ আকাশে আর্জেন্টাইন পাইলটের আত্মহত্যা

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

আর্জেন্টিনায় একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে ঘটে গেছে হৃদয়বিদারক এক ঘটনা। মাঝ আকাশে চলন্ত বিমান থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন একজন অভিজ্ঞ ফ্লাইট প্রশিক্ষক। এমন আকস্মিক পরিস্থিতিতে আতঙ্ক কাটিয়ে মাত্র ২২ বছর বয়সি এক শিক্ষানবিশ একাই বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করিয়ে বড় দুর্ঘটনা এড়ান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আর্জেন্টিনার পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় ঘটনাটির তথ্য প্রকাশ করে। যদিও ঘটনাটি ঘটেছিল গত শনিবার।

নিহত প্রশিক্ষকের নাম লিয়ান্দ্রো আন্দ্রেস বেরতাজ্জো (৪২)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফ্লাইট প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং বেশ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ছিলেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেসনা ১৫০ মডেলের একটি প্রশিক্ষণ বিমানে শিক্ষার্থী রোজারিওকে নিয়ে উড্ডয়নে ছিলেন বেরতাজ্জো। তদন্তকারীদের দেওয়া জবানবন্দিতে রোজারিও জানান, হঠাৎ করেই তার প্রশিক্ষক মাথা থেকে হেডসেট ও শরীরের সিটবেল্ট খুলে ফেলেন। এরপর বিমানের দরজা খোলার আগে তিনি শিক্ষার্থীকে বলেন, ‘তুমি জানো তোমাকে কী করতে হবে, চালিয়ে যাও।’ এরপরই তিনি চলন্ত বিমান থেকে নিচে ঝাঁপ দেন। পরে উদ্ধারকারীরা তল্লাশি চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

বেরতাজ্জো কর্মরত ছিলেন ‘ফ্লাইং প্যারট কর্ডোবা’ ফ্লাইং স্কুলে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক এদুয়ার্দো আলভারেজ জানান, তিনি অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। ঘটনার দিন সকালেও তিনি আরেকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে সফলভাবে একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট সম্পন্ন করেছিলেন। তাই তার এমন সিদ্ধান্তে সবাই বিস্মিত।

আলভারেজের ভাষায়, দ্রুতগতিতে ছুটে চলা গাড়ির দরজা খোলার মতো চলন্ত বিমানের দরজা খোলা অত্যন্ত কঠিন। একজন শিক্ষার্থীকে পাশে রেখেই তিনি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তার কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রশিক্ষকের এমন আচরণে রোজারিও প্রথমে হতভম্ব হয়ে পড়লেও পরে সাহসিকতার পরিচয় দেন। নিজের সীমিত অভিজ্ঞতা নিয়েই তিনি বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন।

উল্লেখ্য, লিয়ান্দ্রো শুধু আর্জেন্টিনায় নয়, প্রতিবেশী রাষ্ট্র চিলিতেও দীর্ঘ সময় ধরে ফ্লাইট প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং পেশাগত দক্ষতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মাঝ আকাশে আর্জেন্টাইন পাইলটের আত্মহত্যা

আপডেট সময় ০৭:২০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

আর্জেন্টিনায় একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে ঘটে গেছে হৃদয়বিদারক এক ঘটনা। মাঝ আকাশে চলন্ত বিমান থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন একজন অভিজ্ঞ ফ্লাইট প্রশিক্ষক। এমন আকস্মিক পরিস্থিতিতে আতঙ্ক কাটিয়ে মাত্র ২২ বছর বয়সি এক শিক্ষানবিশ একাই বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করিয়ে বড় দুর্ঘটনা এড়ান।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আর্জেন্টিনার পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় ঘটনাটির তথ্য প্রকাশ করে। যদিও ঘটনাটি ঘটেছিল গত শনিবার।

নিহত প্রশিক্ষকের নাম লিয়ান্দ্রো আন্দ্রেস বেরতাজ্জো (৪২)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফ্লাইট প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং বেশ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ছিলেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেসনা ১৫০ মডেলের একটি প্রশিক্ষণ বিমানে শিক্ষার্থী রোজারিওকে নিয়ে উড্ডয়নে ছিলেন বেরতাজ্জো। তদন্তকারীদের দেওয়া জবানবন্দিতে রোজারিও জানান, হঠাৎ করেই তার প্রশিক্ষক মাথা থেকে হেডসেট ও শরীরের সিটবেল্ট খুলে ফেলেন। এরপর বিমানের দরজা খোলার আগে তিনি শিক্ষার্থীকে বলেন, ‘তুমি জানো তোমাকে কী করতে হবে, চালিয়ে যাও।’ এরপরই তিনি চলন্ত বিমান থেকে নিচে ঝাঁপ দেন। পরে উদ্ধারকারীরা তল্লাশি চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

বেরতাজ্জো কর্মরত ছিলেন ‘ফ্লাইং প্যারট কর্ডোবা’ ফ্লাইং স্কুলে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক এদুয়ার্দো আলভারেজ জানান, তিনি অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। ঘটনার দিন সকালেও তিনি আরেকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে সফলভাবে একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট সম্পন্ন করেছিলেন। তাই তার এমন সিদ্ধান্তে সবাই বিস্মিত।

আলভারেজের ভাষায়, দ্রুতগতিতে ছুটে চলা গাড়ির দরজা খোলার মতো চলন্ত বিমানের দরজা খোলা অত্যন্ত কঠিন। একজন শিক্ষার্থীকে পাশে রেখেই তিনি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তার কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রশিক্ষকের এমন আচরণে রোজারিও প্রথমে হতভম্ব হয়ে পড়লেও পরে সাহসিকতার পরিচয় দেন। নিজের সীমিত অভিজ্ঞতা নিয়েই তিনি বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন।

উল্লেখ্য, লিয়ান্দ্রো শুধু আর্জেন্টিনায় নয়, প্রতিবেশী রাষ্ট্র চিলিতেও দীর্ঘ সময় ধরে ফ্লাইট প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং পেশাগত দক্ষতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন।