আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হয়নি বলে মন্তব্য করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জুলাই, সেই আকাঙ্ক্ষার ধারে কাছেও যেতে পারিনি আমরা। তবে দুই বছর পরও মানুষের মধ্যে এখনও জুলাই চেতনা রয়ে গেছে। এখনও মানুষ জুলাইকে মনেপ্রাণে ধারণ করে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় মাহমুদুর রহমান মান্না এসব কথা বলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
মান্না বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি চলছে। মানুষ বলছে- এই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে না। তবে সংসদে একপক্ষ বলছে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। অন্য পক্ষ বলছে, এটি নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে না, জুলাই সনদ কবে বাস্তবায়ন হবে।
মাহমুদুর রহমান বলেন, মানুষের জীবন বদলের যেসব প্রস্তাব জুলাই সনদে রয়েছে, তার একটাও বাস্তবায়ন হয়নি। বরং অনেকগুলোই বাদ দেওয়া হয়েছে। জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের অনেক কিছুও এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। যেসব অধ্যাদেশ পাস হওয়ার কথা ছিল, সেগুলোও হয়নি। জুলাইয়ের চেতনার বাস্তবায়ন চাই। তবে সেটি কী পদ্ধতিতে হবে, সেটিও স্পষ্ট হওয়া দরকার।
জুলাই চেতনার বাস্তবায়নে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, সামগ্রিক পরিবর্তন প্রয়োজন উল্লেখ করে মান্না বলেন, সত্যকে আগলে রাখতে হবে, সৎ পথে চলতে হবে। হতাশ হবেন কেন? হতাশার মধ্যে আশার চাষ করবেন, এটাই রাজনীতি।
সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বলা হচ্ছে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। তিনি ফিরতে পারবেন না। কারণ, তার হাতে রক্তের দাগ, মানুষ খুন আর টাকা পাচারের কলঙ্ক নিয়ে তিনি পালিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি না-কি ভারত নয়, গোপালগঞ্জে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু গোপালগঞ্জে যেতে ২৮টি সুটকেস, ডলার আর স্বর্ণালংকারে প্রয়োজন হয় না। তিনি মিথ্যা কথা বলছেন, তিনি জানতেন; ভারতেই যেতে হচ্ছে তাকে। বিশ্বের কোনো দেশই তাকে নিতে চায়নি।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনাও কখনো অনুতপ্ত হবেন না। দেশের মানুষও তাকে আর কখনো রাজনীতিতে মেনে নেবে না। তবে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। ফ্যাসিবাদ যাতে আর ফিরতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সজাগ ও সক্রিয় থাকতে হবে।
আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়। ১৭ বছর ধরে গড়ে ওঠা ফ্যাসিবাদী কাঠামো চার মাসে পরিবর্তন করা যায় না। তবে পরিবর্তন হচ্ছে এবং তা ধীরে ধীরে হবে। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একজন জামায়াত নেতা বলেছেন, নির্বাচনে তাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের চার মাস পর এ ধরনের বক্তব্য ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাকেই খুশি করবে। এটি তো আওয়ামী লীগের বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যায়। অথচ সারাবিশ্ব বলছে, নির্বাচন ভালো হয়েছে। এটি একটি আত্মঘাতী মন্তব্য। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার প্রশ্নে, গণতন্ত্র ও দেশের প্রশ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই আমাদের প্রবল আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। সেই আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে ন্যায় প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের পরিবর্তে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং একটি ঐক্যবদ্ধ, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তোলা। জুলাই আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিয়েছে। তরুণরা যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন তাদের থামিয়ে রাখা যায় না।
তিনি আরও বলেন, সংস্কারের মাধ্যমে আগামীর নিরাপদ ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে আকাঙ্ক্ষা- সেটিও জুলাই সৃষ্টি করেছে। আমাদের অঙ্গীকার, প্রতিশ্রুতি ও শপথ- জুলাইকে মুছে ফেলা যাবে না।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। জুলাই সনদ ও সংস্কার বাস্তবায়ন করতেই হবে। সংসদে সমাধান না করলে রাজপথেই এর সুষ্ঠু সমাধান খুঁজতে হবে। জনতার আদালতেই এর বাস্তবায়ন হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, জুলাই আমাদের কাছে শুধু শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন ছিল না; বরং আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা থেকে মুক্তির আন্দোলনও ছিল। আজ হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটের যে রায় দিয়েছে, জনগণ সেই রায় ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটেই দিয়ে দিয়েছিল। এখন সেই জনরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আদালতের মুখাপেক্ষী করার চেষ্টা হলে আমরা মেনে নেবো না।
সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, নানা শক্তি জুলাইকে অপমান ও অপদস্থ করার চেষ্টা করছে। অবশ্যই আমরা জুলাইকে ধারণ করে যাবো। সবসময় জুলাই জুলাই করবো, জুলাই জুলাই করে আমরা মরবো, ইনশাআল্লাহ। আমাদের পালানোর জায়গা নাই, আমরা এ দেশেই লড়াই চালিয়ে যাবো।
সভায় আরও বক্তব্য দেন জুলাই অভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব ও ডেইলি ওয়াদা পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল আলম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবদুল ওহাব মিনার, সাংবাদিক সালাউদ্দীন বাবলু প্রমুখ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















