অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি।
প্রতিবেদনটির শিরোনাম ‘মাই ওয়ার্ল্ড ইজ ফিনিশড: রোহিঙ্গা টার্গেটেড ইন ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি ইন মিয়ানমার’। গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে ৩০টি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার জের ধরে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর কীভাবে পদ্ধতিগত, সংগঠিত, নিষ্ঠুর অভিযান চালিয়েছে তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে এই প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, রাখাইনে সেনাবাহিনীর ব্যাপক ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ে মাত্র কয়েক সপ্তাহে রাজ্যটি থেকে ৫ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে।
প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টির ক্রাইসিস রেসপন্সবিষয়ক পরিচালক তিরানা হাসান বলেন, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নিষ্ঠুর প্রতিশোধমূলক অভিযান চালিয়েছে। দৃশ্যত এটা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে স্থায়ীভাবে দেশছাড়া করার চেষ্টা। সেনাবাহিনীর এ নিষ্ঠুরতা গত কয়েক দশকের মধ্যে নিকৃষ্টতম শরণার্থী সংকট তৈরিতে অব্যাহত ভূমিকা রেখেছে। এসব জঘন্য অপরাধ প্রকাশ করাটা ন্যায়বিচারের দীর্ঘ পথযাত্রার প্রথম পদক্ষেপ। দায়ী ব্যক্তিদের অবশ্যই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংগৃহীত চিত্র ও উপাত্ত, অন্যান্য ছবি ও ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণে অ্যামনেস্টি এই উপসংহারে এসেছে। এতে দেখা গেছে, রাখাইনে লাখো রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু ব্যাপক এবং পরিকল্পিত সহিংসতার শিকার হয়েছে; যা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শামিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধিতে ১১ ধরনের কর্মকাণ্ড যখন এ রকম হামলার ক্ষেত্রে জেনেবুঝে করা হয়, তখন তা মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে বিবেচিত। এগুলোর মধ্যে অন্তত ছয় ধরনের অপরাধ রাখাইনে সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি ধারাবাহিকভাবে নথিভুক্ত করেছে অ্যামনেস্টি। এই ছয় ধরনের অপরাধ হলো হত্যা, নির্বাসন ও জোরপূর্বক স্থানচ্যুতি, নির্যাতন, ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন সহিংসতা, নিপীড়ন ও অন্য অমানবিক কর্মকাণ্ড যেমন: খাবার ও অন্যান্য জীবন রক্ষার উপকরণ সরবরাহে বাধাদান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইনে সেনাবাহিনীর অভিযানে শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু নিহত হয়েছে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর। ঘরে আগুনে পুড়ে মারা গেছে অক্ষম বয়স্ক, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষ। স্যাটেলাইটে ধারণকৃত ছবিতে দেখা গেছে, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামে বাড়িঘর পুড়ছে। কিন্তু মাত্র ১০০-২০০ গজ দূরে রোহিঙ্গাদের বসবাস নেই এমন এলাকা সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে।
সহিংসতা থামানোর আহ্বান
ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) পররাষ্ট্রবিষয়ক হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভ ফেডেরিকা মোঘারিনি গতকাল মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এ সময় মোঘারিনি তাঁকে বলেন, ১৬ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ফরেন অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছে। আলোচনায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করা, রাজ্যটিতে মানবিক সহায়তাকর্মীদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু এবং সহিংসতার মূল কারণ উদ্ঘাটনে আনান কমিশনের সুপারিশমালা বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকারের সমর্থনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























