ঢাকা ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মেসিদের দুর্দান্ত কামব্যাকে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত আধুনিক নগর গড়তে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ব্যবস্থার বিকল্প নেই : ডিএসসিসি প্রশাসক নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল মাসুদ ইকবালকে বাধ্যতামূলক অবসর ‘সো বিজি?’– স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মনোযোগ চাইলেন স্পিকার বিএনপি সরকার সংস্কারের দাবিকে অস্বীকৃতি জানিয়েছে: নাহিদ ইসলাম পরিবেশ রক্ষায় এখনই ব্যবস্থা না নিলে বিপদে পড়তে হবে: রিজভী সিলেটে দুইদিন পর সুরমায় ভেসে উঠল মরদেহ সংসদ অধিবেশন চলাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহার, সতর্ক করলেন স্পিকার সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল হামলা, দুই যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

যে ক্ষমা জান্নাতে যাওয়ার এক মহৎ আমল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মানুষ মাত্রই ভুল করে। তাই সম্পর্ক, সমাজ ও মানবতার সৌন্দর্য টিকে থাকে ক্ষমা, সহানুভূতি ও উদারতার মাধ্যমে। ইসলাম প্রতিশোধের চেয়ে ক্ষমাকে অধিক মর্যাদা দিয়েছে। বিশেষ করে অসহায়, ঋণগ্রস্ত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় আমল। যে মানুষ অন্যের জন্য সহজ করে দেয়, আল্লাহ তাআলা তার জন্য দুনিয়া ও আখিরাত সহজ করে দেন। আজকের এই হাদিসটি আমাদের সেই মহান শিক্ষাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

ক্ষমাশীলতার প্রতিদান ক্ষমা:

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

‘তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মধ্যে একজন ব্যক্তি ছিল, যার বিশেষ কোনো নেক আমল ছিল না। তবে সে মানুষকে ঋণ দিত। আর তার কর্মচারীদের বলত, ‘যদি কোনো অভাবগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাকে পাও, তবে তাকে সময় দাও। আর যদি সে পরিশোধে অক্ষম হয়, তবে তাকে ক্ষমা করে দাও। হয়তো আল্লাহও আমাদের ক্ষমা করবেন।’ এরপর যখন সে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হলো, আল্লাহ তাআলা বললেন, ‘ক্ষমা করার ব্যাপারে আমি তোমার চেয়ে অধিক হকদার।’ অতঃপর আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন।’ বুখারি ২০৭৮, মুসলিম ১৫৬২)

কুরআনের আলোকে-

১. ঋণগ্রস্তকে অবকাশ দেওয়ার নির্দেশ

وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَىٰ مَيْسَرَةٍ ۚ وَأَنْ تَصَدَّقُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ

‘যদি ঋণগ্রহীতা অভাবগ্রস্ত হয়, তবে তার স্বচ্ছলতা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দাও। আর যদি তোমরা ঋণ মওকুফ করে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম—যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২৮০)

২. ক্ষমা ও উদারতার মর্যাদা

وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا ۗ أَلَا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ

‘তারা যেন ক্ষমা করে এবং উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন?’ (সুরা আন-নূর: আয়াত ২২)

এ বিষয়ে আরও একটি হাদিস

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ يَسَّرَ عَلَى مُعْسِرٍ يَسَّرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ

‘যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্ত মানুষের জন্য সহজ করে দেয়, আল্লাহ তার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে সহজ করে দেন।’ (মুসলিম ২৬৯৯)

শিক্ষণীয় বিষয়:

#অন্যের প্রতি দয়া ও ক্ষমাশীলতা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।
#ঋণগ্রস্ত মানুষকে সময় দেওয়া ইসলামের একটি মহান শিক্ষা।
#সামর্থ্য থাকলে ঋণ মওকুফ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
#আমরা যেমন অন্যের ভুল ক্ষমা করি, তেমনি আল্লাহর কাছেও নিজের ক্ষমা লাভের আশা রাখতে পারি।
#মানুষের প্রতি দয়া করলে আল্লাহ বান্দার প্রতি দয়া করেন।
#ক্ষমাশীলতা শুধু একটি উত্তম চরিত্র নয়; এটি জান্নাতের পথে নিয়ে যাওয়ার এক মহৎ আমল। মানুষের প্রতি দয়া, ঋণগ্রস্তকে অবকাশ দেওয়া এবং সামর্থ্য থাকলে ঋণ মওকুফ করে দেওয়া— এসব কাজ আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের অন্যতম কারণ। #আসুন, আমরা প্রতিশোধ নয়, ক্ষমাকে বেছে নিই; কঠোরতা নয়, দয়া ও সহমর্মিতাকে আপন করি। কারণ যে মানুষ অন্যকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য তার অশেষ ক্ষমার দরজা উন্মুক্ত করে দেন।

হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে ক্ষমাশীল করুন, মানুষের প্রতি দয়ালু করুন এবং আপনার অসীম ক্ষমা ও রহমতের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসিদের দুর্দান্ত কামব্যাকে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

যে ক্ষমা জান্নাতে যাওয়ার এক মহৎ আমল

আপডেট সময় ০৮:৫০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মানুষ মাত্রই ভুল করে। তাই সম্পর্ক, সমাজ ও মানবতার সৌন্দর্য টিকে থাকে ক্ষমা, সহানুভূতি ও উদারতার মাধ্যমে। ইসলাম প্রতিশোধের চেয়ে ক্ষমাকে অধিক মর্যাদা দিয়েছে। বিশেষ করে অসহায়, ঋণগ্রস্ত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শন আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় আমল। যে মানুষ অন্যের জন্য সহজ করে দেয়, আল্লাহ তাআলা তার জন্য দুনিয়া ও আখিরাত সহজ করে দেন। আজকের এই হাদিসটি আমাদের সেই মহান শিক্ষাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

ক্ষমাশীলতার প্রতিদান ক্ষমা:

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

‘তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মধ্যে একজন ব্যক্তি ছিল, যার বিশেষ কোনো নেক আমল ছিল না। তবে সে মানুষকে ঋণ দিত। আর তার কর্মচারীদের বলত, ‘যদি কোনো অভাবগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাকে পাও, তবে তাকে সময় দাও। আর যদি সে পরিশোধে অক্ষম হয়, তবে তাকে ক্ষমা করে দাও। হয়তো আল্লাহও আমাদের ক্ষমা করবেন।’ এরপর যখন সে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হলো, আল্লাহ তাআলা বললেন, ‘ক্ষমা করার ব্যাপারে আমি তোমার চেয়ে অধিক হকদার।’ অতঃপর আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন।’ বুখারি ২০৭৮, মুসলিম ১৫৬২)

কুরআনের আলোকে-

১. ঋণগ্রস্তকে অবকাশ দেওয়ার নির্দেশ

وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَىٰ مَيْسَرَةٍ ۚ وَأَنْ تَصَدَّقُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ

‘যদি ঋণগ্রহীতা অভাবগ্রস্ত হয়, তবে তার স্বচ্ছলতা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দাও। আর যদি তোমরা ঋণ মওকুফ করে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম—যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২৮০)

২. ক্ষমা ও উদারতার মর্যাদা

وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا ۗ أَلَا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ

‘তারা যেন ক্ষমা করে এবং উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন?’ (সুরা আন-নূর: আয়াত ২২)

এ বিষয়ে আরও একটি হাদিস

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ يَسَّرَ عَلَى مُعْسِرٍ يَسَّرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ

‘যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্ত মানুষের জন্য সহজ করে দেয়, আল্লাহ তার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে সহজ করে দেন।’ (মুসলিম ২৬৯৯)

শিক্ষণীয় বিষয়:

#অন্যের প্রতি দয়া ও ক্ষমাশীলতা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।
#ঋণগ্রস্ত মানুষকে সময় দেওয়া ইসলামের একটি মহান শিক্ষা।
#সামর্থ্য থাকলে ঋণ মওকুফ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
#আমরা যেমন অন্যের ভুল ক্ষমা করি, তেমনি আল্লাহর কাছেও নিজের ক্ষমা লাভের আশা রাখতে পারি।
#মানুষের প্রতি দয়া করলে আল্লাহ বান্দার প্রতি দয়া করেন।
#ক্ষমাশীলতা শুধু একটি উত্তম চরিত্র নয়; এটি জান্নাতের পথে নিয়ে যাওয়ার এক মহৎ আমল। মানুষের প্রতি দয়া, ঋণগ্রস্তকে অবকাশ দেওয়া এবং সামর্থ্য থাকলে ঋণ মওকুফ করে দেওয়া— এসব কাজ আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের অন্যতম কারণ। #আসুন, আমরা প্রতিশোধ নয়, ক্ষমাকে বেছে নিই; কঠোরতা নয়, দয়া ও সহমর্মিতাকে আপন করি। কারণ যে মানুষ অন্যকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য তার অশেষ ক্ষমার দরজা উন্মুক্ত করে দেন।

হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে ক্ষমাশীল করুন, মানুষের প্রতি দয়ালু করুন এবং আপনার অসীম ক্ষমা ও রহমতের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।