ঢাকা ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার পেছনে কর্মকর্তারা কিনা, খতিয়ে দেখা হবে: মন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গরমে বিদুৎ বিল বেশি আসার পেছনে অসাধু কর্মকর্তারা দায়ী কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন বিদুৎমন্ত্রী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্যাব) আয়োজিত ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র শীর্ষক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দেশে জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা থেকে বের হয়ে আসতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। তবে কৃষি জমি নষ্ট হবে, এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে না।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এখন বেসরকারি খাতের হাতে থাকায় পিডিবিকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। বিগত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক অপচয় হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে। এই দায় বর্তমান সরকারের ঘাড়ে চেপে বসেছে। এসব দেনা মেটানোই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

মন্ত্রী বলেন, সব মিলিয়ে যে আর্থিক অব্যস্থা করে গেছে বিগত সরকার তার জন্য আমাদের অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। এখন প্রাইভেট বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকেও জ্বালানি আমদানি করতে হয়, আমরা বকেয়া পরিশোধ না করলে তারা জ্বালানি কিনতে পারে না, জ্বালানি কিনতে না পারলে কেন্দ্র বন্ধ থাকে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিছু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার হাতে নিয়েছে। এগুলোতে প্রচুর টাকা খরচ হয়৷ আমরা চিন্তা করেছি লোন (ঋণ) থেকে বের হয়ে আসতে পারি কিনা। আমাদের এসব বিষয়ে সমন্বয় করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন,আমরা খুব একটা ডিফিকাল্ট সিচুয়েশনের মধ্যে আছি। এজন্য আমরা চিন্তা করলাম আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যেতে হবে, যাতে জ্বালানি আমদানির চাপ কমে।

ইকবাল হাসান বলেন,ফার্স্ট ইনিংস অনেক আগে খেলে গেছি এখন সেকেন্ড ইনিংস। আমি কয়েকদিন আগে মিটিং করে ডিসিশন নিয়েছি মিনিস্ট্রির একটা টেকনিক্যাল টিম থাকা উচিত। এজন্য পিডিবির একজন এক্স চেয়ারম্যানকে নিয়ে একটা টিম গঠন করেছি যাতে তারা পাওয়ার স্টেশনগুলো ভিজিট করতে পারে।

তিনি বলেন, মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারও বাড়িতে এসি লাগায়। নানান কারণে বিদ্যুৎ বিল বাড়তে পারে৷ আমি বলছি না আমাদের লোকজন সব সৎ৷ প্রধানমন্ত্রী এমন কোন দিন নেই যে আমাকে এসব নিয়ে তৈরি করা কন্টেন্ট পাঠায় না। তবে এসব কনটেন্ট বা নিউজ তৈরিতে সাংবাদিকদের আরও সচেতন হওয়ার অহ্বান জানান তিনি৷

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম। এছাড়া বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, ফোরাম ফর এনার্জি রিপোটার্স বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম সেরাজ, উন্নয়ন ও পরিবেশকর্মী বিশেষজ্ঞ আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আরিফ খান প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিরাইয়ে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ বন্ধের প্রতিবাদে সোচ্চার মহিলা ক্রীড়া

বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার পেছনে কর্মকর্তারা কিনা, খতিয়ে দেখা হবে: মন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:৪৫:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গরমে বিদুৎ বিল বেশি আসার পেছনে অসাধু কর্মকর্তারা দায়ী কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন বিদুৎমন্ত্রী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্যাব) আয়োজিত ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র শীর্ষক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দেশে জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা থেকে বের হয়ে আসতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। তবে কৃষি জমি নষ্ট হবে, এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে না।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশে ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এখন বেসরকারি খাতের হাতে থাকায় পিডিবিকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। বিগত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক অপচয় হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে। এই দায় বর্তমান সরকারের ঘাড়ে চেপে বসেছে। এসব দেনা মেটানোই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

মন্ত্রী বলেন, সব মিলিয়ে যে আর্থিক অব্যস্থা করে গেছে বিগত সরকার তার জন্য আমাদের অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। এখন প্রাইভেট বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকেও জ্বালানি আমদানি করতে হয়, আমরা বকেয়া পরিশোধ না করলে তারা জ্বালানি কিনতে পারে না, জ্বালানি কিনতে না পারলে কেন্দ্র বন্ধ থাকে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিছু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার হাতে নিয়েছে। এগুলোতে প্রচুর টাকা খরচ হয়৷ আমরা চিন্তা করেছি লোন (ঋণ) থেকে বের হয়ে আসতে পারি কিনা। আমাদের এসব বিষয়ে সমন্বয় করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন,আমরা খুব একটা ডিফিকাল্ট সিচুয়েশনের মধ্যে আছি। এজন্য আমরা চিন্তা করলাম আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যেতে হবে, যাতে জ্বালানি আমদানির চাপ কমে।

ইকবাল হাসান বলেন,ফার্স্ট ইনিংস অনেক আগে খেলে গেছি এখন সেকেন্ড ইনিংস। আমি কয়েকদিন আগে মিটিং করে ডিসিশন নিয়েছি মিনিস্ট্রির একটা টেকনিক্যাল টিম থাকা উচিত। এজন্য পিডিবির একজন এক্স চেয়ারম্যানকে নিয়ে একটা টিম গঠন করেছি যাতে তারা পাওয়ার স্টেশনগুলো ভিজিট করতে পারে।

তিনি বলেন, মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারও বাড়িতে এসি লাগায়। নানান কারণে বিদ্যুৎ বিল বাড়তে পারে৷ আমি বলছি না আমাদের লোকজন সব সৎ৷ প্রধানমন্ত্রী এমন কোন দিন নেই যে আমাকে এসব নিয়ে তৈরি করা কন্টেন্ট পাঠায় না। তবে এসব কনটেন্ট বা নিউজ তৈরিতে সাংবাদিকদের আরও সচেতন হওয়ার অহ্বান জানান তিনি৷

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম। এছাড়া বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, ফোরাম ফর এনার্জি রিপোটার্স বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম সেরাজ, উন্নয়ন ও পরিবেশকর্মী বিশেষজ্ঞ আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আরিফ খান প্রমুখ।