ঢাকা ১১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

তারকার চেয়ে বড় দল: হেক্সা জয়ের স্বপ্নে ব্রাজিলের নতুন অস্ত্র আনচেলত্তি

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

২০০২ সালের পর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৪ বছর। বিশ্বকাপের ষষ্ঠ শিরোপা বা হেক্সার স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে ব্রাজিলের। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথ বেছে নিয়েছে সেলেসাওরা। ঐতিহ্যবাহী জোগো বোনিতোর বদলে দল এখন খেলছে বাস্তববাদী আনচেলত্তি বল। আর সেই দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

২০২৫ সালের মে মাসে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছেড়ে ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ হন আনচেলত্তি। ১৯২৫ সালের পর তিনিই প্রথম বিদেশি কোচ, যিনি ব্রাজিলের হয়ে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়িয়েছেন। শুরুতে তার নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা হলেও অল্প সময়েই তিনি দলকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রতিপক্ষভেদে কৌশল বদলাতে সক্ষম একটি ইউনিটে পরিণত করেছেন।

তারকার চেয়ে বড় দল:

ব্রাজিল দলে দীর্ঘদিন ধরেই তারকাদের বাড়তি প্রাধান্য ছিল। তবে আনচেলত্তি সেই সংস্কৃতি বদলে দিয়েছেন। চোট কাটিয়ে ফেরা নেইমারকে দলে রাখলেও তাকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দর্শকদের দাবির পরও পুরো ম্যাচ খেলাননি তিনি। জাপানের বিপক্ষেও নেইমারকে বেঞ্চেই রাখা হয়। সাবেক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার জে এলিয়াসের মতে, আনচেলত্তি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, দলের চেয়ে কোনো খেলোয়াড় বড় নয়।

অন্যদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন এই ইতালিয়ান কোচ। যার ফলও মিলেছে মাঠে। আগের ৩৯ ম্যাচে ৬ গোল করা ভিনিসিয়ুস আনচেলত্তির অধীনে মাত্র ১৩ ম্যাচেই করেছেন ৭ গোল।

চাপের মধ্যেও শান্ত ডাগআউট:

বিশ্বকাপের আগে এস্তায়াও, এদের মিলিতাও, রদ্রিগোর মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের হারিয়ে ধাক্কা খায় ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর জাপানের বিপক্ষেও প্রথমার্ধে পিছিয়ে ছিল তারা।

তবে কঠিন পরিস্থিতিতেও ডাগআউটে শান্ত ছিলেন আনচেলত্তি। অভিজ্ঞ কাসেমিরোর ভুলে গোল খেলেও তার প্রতি আস্থা হারাননি। পরে সেই কাসেমিরোই সমতা ফেরান। অতিরিক্ত সময়ে মার্তিনেল্লির গোলে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল।

সুন্দর ফুটবলের চেয়ে জয়ই আসল:

আনচেলত্তির দর্শন খুবই স্পষ্ট। তার কাছে নান্দনিক ফুটবলের চেয়ে জয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

স্কটল্যান্ড ম্যাচের পর তিনি বলেন, ভালো খেললে জেতা সহজ হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একজন কোচকে বিচার করা হয় তিনি জিতেছেন কি না, সুন্দর ফুটবল খেলেছেন কি না, সেটা দিয়ে নয়।

এই বাস্তববাদী দর্শনই এখন ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠছে।

বিশ্বকাপে এখনো সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল না খেললেও, আনচেলত্তির কৌশল সেলেসাওদের শিরোপার অন্যতম দাবিদারে পরিণত করেছে। তবে সেই স্বপ্নের পথে পরবর্তী বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের বিপক্ষে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরিত্রিয়া সীমান্তে ইথিওপীয় সেনার অগ্রগতি, বাড়ছে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা

তারকার চেয়ে বড় দল: হেক্সা জয়ের স্বপ্নে ব্রাজিলের নতুন অস্ত্র আনচেলত্তি

আপডেট সময় ০১:৩৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

২০০২ সালের পর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৪ বছর। বিশ্বকাপের ষষ্ঠ শিরোপা বা হেক্সার স্বপ্ন এখনো অধরাই রয়ে গেছে ব্রাজিলের। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথ বেছে নিয়েছে সেলেসাওরা। ঐতিহ্যবাহী জোগো বোনিতোর বদলে দল এখন খেলছে বাস্তববাদী আনচেলত্তি বল। আর সেই দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

২০২৫ সালের মে মাসে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছেড়ে ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ হন আনচেলত্তি। ১৯২৫ সালের পর তিনিই প্রথম বিদেশি কোচ, যিনি ব্রাজিলের হয়ে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়িয়েছেন। শুরুতে তার নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা হলেও অল্প সময়েই তিনি দলকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রতিপক্ষভেদে কৌশল বদলাতে সক্ষম একটি ইউনিটে পরিণত করেছেন।

তারকার চেয়ে বড় দল:

ব্রাজিল দলে দীর্ঘদিন ধরেই তারকাদের বাড়তি প্রাধান্য ছিল। তবে আনচেলত্তি সেই সংস্কৃতি বদলে দিয়েছেন। চোট কাটিয়ে ফেরা নেইমারকে দলে রাখলেও তাকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দর্শকদের দাবির পরও পুরো ম্যাচ খেলাননি তিনি। জাপানের বিপক্ষেও নেইমারকে বেঞ্চেই রাখা হয়। সাবেক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার জে এলিয়াসের মতে, আনচেলত্তি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, দলের চেয়ে কোনো খেলোয়াড় বড় নয়।

অন্যদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন এই ইতালিয়ান কোচ। যার ফলও মিলেছে মাঠে। আগের ৩৯ ম্যাচে ৬ গোল করা ভিনিসিয়ুস আনচেলত্তির অধীনে মাত্র ১৩ ম্যাচেই করেছেন ৭ গোল।

চাপের মধ্যেও শান্ত ডাগআউট:

বিশ্বকাপের আগে এস্তায়াও, এদের মিলিতাও, রদ্রিগোর মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের হারিয়ে ধাক্কা খায় ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর জাপানের বিপক্ষেও প্রথমার্ধে পিছিয়ে ছিল তারা।

তবে কঠিন পরিস্থিতিতেও ডাগআউটে শান্ত ছিলেন আনচেলত্তি। অভিজ্ঞ কাসেমিরোর ভুলে গোল খেলেও তার প্রতি আস্থা হারাননি। পরে সেই কাসেমিরোই সমতা ফেরান। অতিরিক্ত সময়ে মার্তিনেল্লির গোলে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল।

সুন্দর ফুটবলের চেয়ে জয়ই আসল:

আনচেলত্তির দর্শন খুবই স্পষ্ট। তার কাছে নান্দনিক ফুটবলের চেয়ে জয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

স্কটল্যান্ড ম্যাচের পর তিনি বলেন, ভালো খেললে জেতা সহজ হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একজন কোচকে বিচার করা হয় তিনি জিতেছেন কি না, সুন্দর ফুটবল খেলেছেন কি না, সেটা দিয়ে নয়।

এই বাস্তববাদী দর্শনই এখন ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠছে।

বিশ্বকাপে এখনো সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল না খেললেও, আনচেলত্তির কৌশল সেলেসাওদের শিরোপার অন্যতম দাবিদারে পরিণত করেছে। তবে সেই স্বপ্নের পথে পরবর্তী বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের বিপক্ষে।