ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

এক মাসে চার হত্যা, অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা-আগুন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

গাইবান্ধায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা বাড়ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূল অভিযুক্ত দ্রুত গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন। এতে জেলায় আতঙ্কের পাশাপাশি প্রতিশোধের সংস্কৃতি গড়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত ৭ জুন সদর উপজেলার পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামে জমির সীমানা প্রাচীর নিয়ে বিরোধের জেরে গাইবান্ধা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফাহমিদ রুমন (১৮) ছুরিকাঘাতে নিহত হন। আহত হন তাঁর বড় ভাই ফারদিন রুহিত (২০)।

ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত রাকিব পালিয়ে গেলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর মা ও স্ত্রীকে আটক করে। পরদিন বিকেলে রাকিবের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বাড়ির আসবাব ও দুটি মোটরসাইকেলে। এতে ঘণ্টাব্যাপী গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।

১৬ জুন সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিণসিংহা গ্রামে গোসল করতে যায় জবান আলীর ছেলে সাকিব (১৬), সাইদুল মিয়ার ছেলে রিফাত (১৭) ও মকবুল হোসেনের ছেলে রাহাত। তাদের মধ্যে তর্কের জেরে রাহাত (১৬) নামে এক কিশোর নিহত হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দুই কিশোর পলাতক। পরদিন সকালে তাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা। তবে স্থানীয়দের বাধায় আগুন দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, হত্যা মামলার দুই আসামি আকিব ও তার বাবা রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর যেভাবে অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা হচ্ছে, তাতে আসামিরা নিরাপদ দূরত্বে চলে যাচ্ছে।

এর মধ্যেই ১৭ জুন রাতে গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার মাগুরা গ্রামে মোটরসাইকেলের মালিকানা নিয়ে বিরোধে ছোট ভাই রাকিব (১৮)-এর ছুরিকাঘাতে বড় ভাই সাকিব হোসেন (২২) নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ছোট ছেলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘ভাইয়ের হাতে ভাই নিহত হওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এটি পরিকল্পিত নয়, দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে মনে হলেও আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

২১ জুন সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া বাজারে একটি বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নেতা মুকুল ও তাঁর সহযোগীদের হামলায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী নিহত হন। আহত হন সালাউদ্দিন। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হলেও প্রধান অভিযুক্ত মুকুল পালিয়ে যান। পরদিন রাতে তাঁর বাড়িতে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

সাঘাটা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব আলম বলেন, হত্যা মামলার ‘প্রধান অভিযুক্ত মুকুলকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের প্রতি আস্থা কমে যাওয়া ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই স্বজন হারানোর পর মানুষ ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। ফলে হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হচ্ছে।

সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির তনু বলেন, ‘প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত না হলে মানুষের মধ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়বে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর পাল্টা হামলার ঘটনাও ঘটছে, যা উদ্বেগজনক। পুলিশ দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি ফ্লাইট বাতিলে চরম আর্থিক সংকটে এভিয়েশন খাত

এক মাসে চার হত্যা, অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা-আগুন

আপডেট সময় ১২:৪৫:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

গাইবান্ধায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা বাড়ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মূল অভিযুক্ত দ্রুত গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন। এতে জেলায় আতঙ্কের পাশাপাশি প্রতিশোধের সংস্কৃতি গড়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত ৭ জুন সদর উপজেলার পূর্ব পিয়ারাপুর গ্রামে জমির সীমানা প্রাচীর নিয়ে বিরোধের জেরে গাইবান্ধা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফাহমিদ রুমন (১৮) ছুরিকাঘাতে নিহত হন। আহত হন তাঁর বড় ভাই ফারদিন রুহিত (২০)।

ঘটনার পর প্রধান অভিযুক্ত রাকিব পালিয়ে গেলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর মা ও স্ত্রীকে আটক করে। পরদিন বিকেলে রাকিবের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বাড়ির আসবাব ও দুটি মোটরসাইকেলে। এতে ঘণ্টাব্যাপী গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।

১৬ জুন সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিণসিংহা গ্রামে গোসল করতে যায় জবান আলীর ছেলে সাকিব (১৬), সাইদুল মিয়ার ছেলে রিফাত (১৭) ও মকবুল হোসেনের ছেলে রাহাত। তাদের মধ্যে তর্কের জেরে রাহাত (১৬) নামে এক কিশোর নিহত হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দুই কিশোর পলাতক। পরদিন সকালে তাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা। তবে স্থানীয়দের বাধায় আগুন দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, হত্যা মামলার দুই আসামি আকিব ও তার বাবা রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর যেভাবে অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা হচ্ছে, তাতে আসামিরা নিরাপদ দূরত্বে চলে যাচ্ছে।

এর মধ্যেই ১৭ জুন রাতে গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার মাগুরা গ্রামে মোটরসাইকেলের মালিকানা নিয়ে বিরোধে ছোট ভাই রাকিব (১৮)-এর ছুরিকাঘাতে বড় ভাই সাকিব হোসেন (২২) নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ছোট ছেলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘ভাইয়ের হাতে ভাই নিহত হওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এটি পরিকল্পিত নয়, দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে মনে হলেও আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

২১ জুন সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া বাজারে একটি বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নেতা মুকুল ও তাঁর সহযোগীদের হামলায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী নিহত হন। আহত হন সালাউদ্দিন। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হলেও প্রধান অভিযুক্ত মুকুল পালিয়ে যান। পরদিন রাতে তাঁর বাড়িতে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

সাঘাটা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব আলম বলেন, হত্যা মামলার ‘প্রধান অভিযুক্ত মুকুলকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের প্রতি আস্থা কমে যাওয়া ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই স্বজন হারানোর পর মানুষ ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। ফলে হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হচ্ছে।

সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির তনু বলেন, ‘প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত না হলে মানুষের মধ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়বে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর পাল্টা হামলার ঘটনাও ঘটছে, যা উদ্বেগজনক। পুলিশ দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে।’