ঢাকা ১০:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদাবাজির সাজা এখন মুচলেকা: সংসদে জামায়াতের টিপ্পনি ঢাকা-কুয়ালালামপুর কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় বদির অনুপস্থিতিতে মাদকের ‘দায়িত্বে’ কে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন গয়েশ্বর এবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল আফগানিস্তান যাকাত ডেটাবেইজ ও ‘ যাকাত টেলিভিশন’ চালুর প্রস্তাব পার্থর করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় চীনে পণ্য পৌঁছানো যাবে : বাণিজ্যমন্ত্রী ডাল-ভাতের বাজেট করে বিরিয়ানি খাওয়া যায় না : সংসদে তথ্য প্রতিমন্ত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিটি কক্ষে সিকিউরিটি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না, সংসদ সদস্যদের স্পিকার অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে মিলেমিশে দেশ গড়তে হবে: জয়নুল আবদিন

নেতানিয়াহুর কি রাজনৈতিক অধ্যায়ের তিক্ত সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে?

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন সম্ভবত দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিচালনা এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ক্রমাগত বাড়তে থাকা চাপের মুখে রয়েছেন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা নেতানিয়াহুকে দেশটির রাজনীতিতে টিকে থাকার সবচেয়ে বড় জাদুকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু আগামী অক্টোবরে সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি এখন তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। যা তাঁর প্রায় চার দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক তিক্ত সমাপ্তি ঘটাতে পারে।

তার রাজনৈতিক ইতি ঘটানোর পটভূমিতে রয়েছে একের পর এক নাটকীয় রাজনৈতিক ঘটনা। বিশেষ করে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে রাজি করিয়েছিলেন বলে খবর আসে। এর জের ধরে তেহরানও ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর পাল্টা হামলা শুরু করে।

একই সঙ্গে ইসরায়েল উত্তরের লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সাথে আরেকটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি নেতানিয়াহুকে এক উভয়সংকটে ফেলে দিয়েছে। একদিকে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করার জন্য মার্কিন চাপ, অন্যদিকে ইরান ও তার আঞ্চলিক প্রক্সিগুলোর (সহযোগী গোষ্ঠী) বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে ইসরায়েলি জনগণের জোরালো দাবি।

পাশাপাশি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার আগে ও পরে তাঁর সরকারের ব্যর্থতাগুলো খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন গণতদন্ত কমিটি গঠনে অস্বীকৃতি জানানোয় সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভের মুখেও রয়েছেন নেতানিয়াহু।

গাজায় একের পর এক চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধের কারণে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমাগত নজরদারি ও সমালোচনার মুখে পড়েছে। এর ফলে কিছু দেশের কাছে তারা প্রায় একঘরে রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। খোদ মার্কিন রাজনৈতিক মহলের ভেতরেও তাদের বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এসবের মধ্যেই নেতানিয়াহু ২০১৯ সাল থেকে চলে আসা একাধিক দুর্নীতির মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন। এই অভিযোগগুলোতে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর কপালে সম্ভাব্য কারাদণ্ডও জুটে যেতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, ইসরায়েলের এই নির্বাচন নেতানিয়াহু এবং পুরো দেশের জন্যই সবচেয়ে সংকটাপন্ন মুহূর্তগুলোর একটিতে সমাগত হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিমরোদ ফ্ল্যাচেনবার্গ কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, ‌‘মনে হচ্ছে (নেতানিয়াহু) এবার সত্যিই বড় বিপদে পড়তে যাচ্ছেন। ইরানের সঙ্গে মার্কিন চুক্তিটি (ইসরায়েলিদের মাঝে) ভালোভাবে গৃহীত হয়নি এবং সাধারণ জনগণের কাছে লেবাননে আসলে কী ঘটছে তাও স্পষ্ট নয়।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেতানিয়াহুর কি রাজনৈতিক অধ্যায়ের তিক্ত সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে?

আপডেট সময় ০৭:৪০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন সম্ভবত দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিচালনা এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ক্রমাগত বাড়তে থাকা চাপের মুখে রয়েছেন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা নেতানিয়াহুকে দেশটির রাজনীতিতে টিকে থাকার সবচেয়ে বড় জাদুকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু আগামী অক্টোবরে সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি এখন তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। যা তাঁর প্রায় চার দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক তিক্ত সমাপ্তি ঘটাতে পারে।

তার রাজনৈতিক ইতি ঘটানোর পটভূমিতে রয়েছে একের পর এক নাটকীয় রাজনৈতিক ঘটনা। বিশেষ করে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে রাজি করিয়েছিলেন বলে খবর আসে। এর জের ধরে তেহরানও ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর পাল্টা হামলা শুরু করে।

একই সঙ্গে ইসরায়েল উত্তরের লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সাথে আরেকটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি নেতানিয়াহুকে এক উভয়সংকটে ফেলে দিয়েছে। একদিকে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করার জন্য মার্কিন চাপ, অন্যদিকে ইরান ও তার আঞ্চলিক প্রক্সিগুলোর (সহযোগী গোষ্ঠী) বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে ইসরায়েলি জনগণের জোরালো দাবি।

পাশাপাশি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার আগে ও পরে তাঁর সরকারের ব্যর্থতাগুলো খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন গণতদন্ত কমিটি গঠনে অস্বীকৃতি জানানোয় সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভের মুখেও রয়েছেন নেতানিয়াহু।

গাজায় একের পর এক চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধের কারণে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমাগত নজরদারি ও সমালোচনার মুখে পড়েছে। এর ফলে কিছু দেশের কাছে তারা প্রায় একঘরে রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। খোদ মার্কিন রাজনৈতিক মহলের ভেতরেও তাদের বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এসবের মধ্যেই নেতানিয়াহু ২০১৯ সাল থেকে চলে আসা একাধিক দুর্নীতির মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন। এই অভিযোগগুলোতে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর কপালে সম্ভাব্য কারাদণ্ডও জুটে যেতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, ইসরায়েলের এই নির্বাচন নেতানিয়াহু এবং পুরো দেশের জন্যই সবচেয়ে সংকটাপন্ন মুহূর্তগুলোর একটিতে সমাগত হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিমরোদ ফ্ল্যাচেনবার্গ কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, ‌‘মনে হচ্ছে (নেতানিয়াহু) এবার সত্যিই বড় বিপদে পড়তে যাচ্ছেন। ইরানের সঙ্গে মার্কিন চুক্তিটি (ইসরায়েলিদের মাঝে) ভালোভাবে গৃহীত হয়নি এবং সাধারণ জনগণের কাছে লেবাননে আসলে কী ঘটছে তাও স্পষ্ট নয়।’