ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা না করে আমরা ফিরব না: এমপি হাসনাত যুব জামায়াত নেতার কাণ্ড; বিধবা নারীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাতের অভিযোগ:দল থেকে সদস্যপদ স্থগিত মানবতার মুক্তিতে ইসলামের আদর্শের বিজয়ের বিকল্প নেই: চরমোনাই পীর সব প্রকল্পের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য:জহির উদ্দিন স্বপন হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, কী বার্তা দিচ্ছে জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ সময়ের দাবি: গণপূর্ত মন্ত্রী ব্যক্তিগত আক্রমণ দেউলিয়া রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ: প্রিন্স নিজের মেয়েকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ, গ্রাম্য সালিশে বাবাকে ৩৩ বেত্রাঘাত সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মামুনুল হকের ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুত করা হচ্ছে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবী

ধর্মান্তরিত হয়ে প্রবাসীকে বিয়ে, ছয় মাস পর তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ময়মনসিংহের ভালুকায় বাণী দারু (১৯) নামে এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মহসিন (২২) নামে প্রবাসী এক যুবককে মোবাইলে বিয়ে করেন। কিন্তু ছেলের পরিবার প্রথমে বিয়ে মেনে না নেওয়ায় সে অন্যত্র বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিলো। বিয়ের ছয় মাস পর গত ৬ জুন ওই নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহত বাণী দারুর দাঁত ভাঙ্গা, মাথা, কপাল, চোখের নিচে,পা ও গলাসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরিবারের দাবি তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভালুকা উপজেলার আওলাতলী গ্রামের নলুয়াকুড়ি পাড়ার জগদীশ ওরফে রঙ্গিলার দ্বিতীয় মেয়ে হবিরবাড়ি সোনার বাংলা স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রী বাণী দারু গত বছরের ২০ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরদিন কোর্টে এফিডেফিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বাণী দারু তার নাম পরিবর্তন করে মারিয়া ইসলাম রাখেন। পরে আওলাতলী গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে সৌদি প্রবাসী মোহসিনের সঙ্গে তার টেলিফোনে বিয়ে হয়। বিয়ের পর ছেলের পরিবার নববধূকে প্রথমে মেনে না নেওয়ায় উপজেলার হাজির বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলো মারিয়া। পরে ছেলের অনুরোধে নববধূকে তার পরিবার মেনে নিলেও বাড়িতে তুলেননি। তবে প্রায় ছেলের মা তার পুত্রবধূকে দেখতে যেতেন। গত ৫ জুন নববধূ মারিয়া ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তার শ্বাশুরি প্রথমে ভালুকা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি না করায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভর্তির করা হলেও সামান্য চিকিৎসা দিয়ে মারিয়াকে চুরখাই কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ জুন মারা যান মারিয়া।

এ সময় খবর পেয়ে নিহত মারিয়ার মা শারতিসহ পরিবারের সদস্যরা প্রতিবেশি কয়েকজনকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান। পরিবারের সদস্যরা নিহতের দাঁত ভাঙ্গা, মাথা, কপাল, গলা ও পাসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। তখন মারিয়ার মা শারতি তার মেয়ের ময়নাতদন্তের দাবি জানালেও তড়িঘড়ি করে লাশ নিয়ে এসে ছেলের পরিবারের লোকজন তার পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করে।

নিহত মারিয়ার মা শারতি জানান, তার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। তিনি তার মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন। তিনি তার মেয়ে হত্যার বিচার দাবি করেন। এক প্রশ্নে শারতি জানান, তারা অন্য ধর্মের লোক এবং খুবই হতদরিদ্র। মামলায় গেলে তারা খরচ যোগান দিতে পারবে না, তাই থানায় অভিযোগ করেননি।

মহসিনের মা জানান, তার ছেলে সৌদি থাকে। মোবাইলে পাশের গ্রামের মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ার পর সে বিয়ে করে। যদিও বিয়ের আগে ওই মেয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। তাই তাদের বিয়ে মেনে নেয়নি তারা। পরে ছেলে বউ হাজির বাজার এলাকায় একটি বাসায় ভাড়ায় থাকতো। কিন্তু ছেলের অনুরোধে বিয়ে মেনে নিতে হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই তার ছেলের স্ত্রী ডায়াবেটিকসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভোগছিলো।অসুস্থাতার খবর পেয়ে তিনি তার পুত্রবধূকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। মারিয়ার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

মিশনারি সংগঠনের নেত্রী সুফলা চাম্বুগং বলেন, বাণি অসুস্থ হওয়ার পর আমরা হাসপাতালে গিয়ে দেখি বাণির লাশ হাসপাতালের বাইরে টলিতে পড়ে রয়েছে। বাণির মরদেহের মুখের দাঁত ভাঙ্গা, চোখের নিচে, কপাল গলা ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ভালুকা মডেল থানার ওসি মো: জাহিদুল ইসলাম জানান, মেয়েটি খ্রিষ্টান ছিল, কয়েক মাস পূর্বে পালিয়ে গিয়ে এক মুসলমান ছেলেকে বিয়ে করেছেন। শুনলাম অসুস্থ হয়ে তিনি হাসপাতালে মারা গেছেন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কিছু জানানো হয়নি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা না করে আমরা ফিরব না: এমপি হাসনাত

ধর্মান্তরিত হয়ে প্রবাসীকে বিয়ে, ছয় মাস পর তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেট সময় ১০:১৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ময়মনসিংহের ভালুকায় বাণী দারু (১৯) নামে এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মহসিন (২২) নামে প্রবাসী এক যুবককে মোবাইলে বিয়ে করেন। কিন্তু ছেলের পরিবার প্রথমে বিয়ে মেনে না নেওয়ায় সে অন্যত্র বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিলো। বিয়ের ছয় মাস পর গত ৬ জুন ওই নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহত বাণী দারুর দাঁত ভাঙ্গা, মাথা, কপাল, চোখের নিচে,পা ও গলাসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরিবারের দাবি তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভালুকা উপজেলার আওলাতলী গ্রামের নলুয়াকুড়ি পাড়ার জগদীশ ওরফে রঙ্গিলার দ্বিতীয় মেয়ে হবিরবাড়ি সোনার বাংলা স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রী বাণী দারু গত বছরের ২০ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরদিন কোর্টে এফিডেফিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বাণী দারু তার নাম পরিবর্তন করে মারিয়া ইসলাম রাখেন। পরে আওলাতলী গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে সৌদি প্রবাসী মোহসিনের সঙ্গে তার টেলিফোনে বিয়ে হয়। বিয়ের পর ছেলের পরিবার নববধূকে প্রথমে মেনে না নেওয়ায় উপজেলার হাজির বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলো মারিয়া। পরে ছেলের অনুরোধে নববধূকে তার পরিবার মেনে নিলেও বাড়িতে তুলেননি। তবে প্রায় ছেলের মা তার পুত্রবধূকে দেখতে যেতেন। গত ৫ জুন নববধূ মারিয়া ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তার শ্বাশুরি প্রথমে ভালুকা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি না করায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভর্তির করা হলেও সামান্য চিকিৎসা দিয়ে মারিয়াকে চুরখাই কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ জুন মারা যান মারিয়া।

এ সময় খবর পেয়ে নিহত মারিয়ার মা শারতিসহ পরিবারের সদস্যরা প্রতিবেশি কয়েকজনকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান। পরিবারের সদস্যরা নিহতের দাঁত ভাঙ্গা, মাথা, কপাল, গলা ও পাসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। তখন মারিয়ার মা শারতি তার মেয়ের ময়নাতদন্তের দাবি জানালেও তড়িঘড়ি করে লাশ নিয়ে এসে ছেলের পরিবারের লোকজন তার পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করে।

নিহত মারিয়ার মা শারতি জানান, তার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। তিনি তার মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন। তিনি তার মেয়ে হত্যার বিচার দাবি করেন। এক প্রশ্নে শারতি জানান, তারা অন্য ধর্মের লোক এবং খুবই হতদরিদ্র। মামলায় গেলে তারা খরচ যোগান দিতে পারবে না, তাই থানায় অভিযোগ করেননি।

মহসিনের মা জানান, তার ছেলে সৌদি থাকে। মোবাইলে পাশের গ্রামের মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ার পর সে বিয়ে করে। যদিও বিয়ের আগে ওই মেয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। তাই তাদের বিয়ে মেনে নেয়নি তারা। পরে ছেলে বউ হাজির বাজার এলাকায় একটি বাসায় ভাড়ায় থাকতো। কিন্তু ছেলের অনুরোধে বিয়ে মেনে নিতে হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই তার ছেলের স্ত্রী ডায়াবেটিকসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভোগছিলো।অসুস্থাতার খবর পেয়ে তিনি তার পুত্রবধূকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। মারিয়ার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

মিশনারি সংগঠনের নেত্রী সুফলা চাম্বুগং বলেন, বাণি অসুস্থ হওয়ার পর আমরা হাসপাতালে গিয়ে দেখি বাণির লাশ হাসপাতালের বাইরে টলিতে পড়ে রয়েছে। বাণির মরদেহের মুখের দাঁত ভাঙ্গা, চোখের নিচে, কপাল গলা ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ভালুকা মডেল থানার ওসি মো: জাহিদুল ইসলাম জানান, মেয়েটি খ্রিষ্টান ছিল, কয়েক মাস পূর্বে পালিয়ে গিয়ে এক মুসলমান ছেলেকে বিয়ে করেছেন। শুনলাম অসুস্থ হয়ে তিনি হাসপাতালে মারা গেছেন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কিছু জানানো হয়নি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।