ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বাহাত্তরের সংবিধান থেকেই ফ্যাসিবাদের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল: ড. দিলারা চৌধুরী দলীয় পদধারীদের নিয়োগ দিলে গণতন্ত্র অবশিষ্ট থাকে না: আখতার হোসেন তিন সীমান্তে ২২ জনকে পুশইন চেষ্টা নস্যাৎ বিজিবির ভালো কাজ না করলে সমর্থনের প্রয়োজন নেই: সারজিস দেশের প্রথম কমিউনিটিভিত্তিক এগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্পে ১০০০ ফাউন্ডারের হাতে জমির দলিল শাহজালাল বিমানবন্দর কার্গো ভিলেজের পাশে আগুন জুলাই সনদে ফাঁকফোকর ছিল: মান্না ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ থেকে কর্নেল অলির ‘হুংকার’ তৃণমূল সংগঠনের খোঁজ-খবর ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামে চায়ের দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। রবিবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা এ সংঘর্ষের কারণে নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, থলিয়ারা গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ি এলাকায় শিরু মিয়ার একটি চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকানে সারাক্ষণ টেলিভিশন চালু থাকায় সেখানে মানুষের জটলা লেগে থাকত এবং পথচারী নারী ও কিশোরীদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করা হতো। এ কারণে সম্প্রতি একটি গ্রাম্য সালিশে দোকানটি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে ওই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গ্রামের মিন্দান আলীর বাড়ির লোকজন এবং মইধ্যের বাড়ির হাজী জয়নাল আবেদীনের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। রবিবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন রামদা, বল্লম, টেঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

সংঘর্ষ গ্রামের ভেতর থেকে নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে ছড়িয়ে পড়লে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দুপুর ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

নাটাই উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াকুব আলী ভূঁইয়া বলেন, কয়েক দিন আগে অনুষ্ঠিত একটি সালিশে চায়ের দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একটি পক্ষ সেই সিদ্ধান্ত মেনে না নেওয়ায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০

আপডেট সময় ০৪:১০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামে চায়ের দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। রবিবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা এ সংঘর্ষের কারণে নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, থলিয়ারা গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ি এলাকায় শিরু মিয়ার একটি চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকানে সারাক্ষণ টেলিভিশন চালু থাকায় সেখানে মানুষের জটলা লেগে থাকত এবং পথচারী নারী ও কিশোরীদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করা হতো। এ কারণে সম্প্রতি একটি গ্রাম্য সালিশে দোকানটি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে ওই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গ্রামের মিন্দান আলীর বাড়ির লোকজন এবং মইধ্যের বাড়ির হাজী জয়নাল আবেদীনের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। রবিবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন রামদা, বল্লম, টেঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

সংঘর্ষ গ্রামের ভেতর থেকে নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে ছড়িয়ে পড়লে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দুপুর ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

নাটাই উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াকুব আলী ভূঁইয়া বলেন, কয়েক দিন আগে অনুষ্ঠিত একটি সালিশে চায়ের দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একটি পক্ষ সেই সিদ্ধান্ত মেনে না নেওয়ায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে।