ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর আরও ‘নিখুঁত’ হামলার আহ্বান ট্রাম্পের উচ্চশিক্ষাকে দক্ষতানির্ভর ও কর্মমুখী করতে নতুন শিক্ষাকাঠামোর উদ্যোগ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে: ড. হামিদুর দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণে নতুন উদ্যোগ, ফ্ল্যাট কেনা সহজ হবে মধ্যবিত্তদের পরমাণু অস্ত্র কখনোই ছাড়বে না উত্তর কোরিয়া, কিমের বোনের ঘোষণা গ্রামে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না: রুমিন ফারহানা সরকারে আসার ঝুঁকি এতটা ভয়াবহ হবে ভাবিনি: ফারুকী নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ চালু ইউনিয়ন লেভেলে এখন সাংবাদিক কার্ড পাওয়া যায়: জয়নুল আবেদীন ফারুক পুনর্বিন্যাসের জন্য ২ হাজার ৪০০ প্রকল্প পর্যালোচনা করছে সরকার: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামে চায়ের দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। রবিবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা এ সংঘর্ষের কারণে নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, থলিয়ারা গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ি এলাকায় শিরু মিয়ার একটি চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকানে সারাক্ষণ টেলিভিশন চালু থাকায় সেখানে মানুষের জটলা লেগে থাকত এবং পথচারী নারী ও কিশোরীদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করা হতো। এ কারণে সম্প্রতি একটি গ্রাম্য সালিশে দোকানটি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে ওই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গ্রামের মিন্দান আলীর বাড়ির লোকজন এবং মইধ্যের বাড়ির হাজী জয়নাল আবেদীনের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। রবিবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন রামদা, বল্লম, টেঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

সংঘর্ষ গ্রামের ভেতর থেকে নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে ছড়িয়ে পড়লে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দুপুর ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

নাটাই উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াকুব আলী ভূঁইয়া বলেন, কয়েক দিন আগে অনুষ্ঠিত একটি সালিশে চায়ের দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একটি পক্ষ সেই সিদ্ধান্ত মেনে না নেওয়ায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর আরও ‘নিখুঁত’ হামলার আহ্বান ট্রাম্পের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২০

আপডেট সময় ০৪:১০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামে চায়ের দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। রবিবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা এ সংঘর্ষের কারণে নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, থলিয়ারা গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ি এলাকায় শিরু মিয়ার একটি চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকানে সারাক্ষণ টেলিভিশন চালু থাকায় সেখানে মানুষের জটলা লেগে থাকত এবং পথচারী নারী ও কিশোরীদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করা হতো। এ কারণে সম্প্রতি একটি গ্রাম্য সালিশে দোকানটি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে ওই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গ্রামের মিন্দান আলীর বাড়ির লোকজন এবং মইধ্যের বাড়ির হাজী জয়নাল আবেদীনের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। রবিবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন রামদা, বল্লম, টেঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

সংঘর্ষ গ্রামের ভেতর থেকে নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে ছড়িয়ে পড়লে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দুপুর ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

নাটাই উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াকুব আলী ভূঁইয়া বলেন, কয়েক দিন আগে অনুষ্ঠিত একটি সালিশে চায়ের দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একটি পক্ষ সেই সিদ্ধান্ত মেনে না নেওয়ায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে।