ঢাকা ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী ‘যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে’:মির্জা ফখরুল পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যেই গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ: আমিনুল হক বাধ্যতামূলক অবসরে অতিরিক্ত ডিআইজি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে রাশেদ খাঁনের শ্রদ্ধা নিবেদন মার্কিন সেনা হত্যার জন্য ইরানকে বহুগুণ বেশি মূল্য চোকাতে হবে: ট্রাম্প প্রতিটি কর্মঘণ্টা ও করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে:জনপ্রশাসন উপদেষ্টা জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন ‘জেন্টলম্যান ফর এক্সেলেন্স’: প্রধান বিচারপতি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিমসটেকের সক্রিয় ভূমিকা চায় ঢাকা কাপ্তাই হৃদে নিখোঁজ বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার

কেনিয়ায় স্কুলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ শিক্ষার্থীর প্রাণহানি, আহত ৭৯

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে একটি আবাসিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে আরো ৭৯ জন আহত হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ।

কেনিয়া রেড ক্রস ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোররাতে রাজধানী থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার পশ্চিমের গিলগিল এলাকায় উতুমিশি গার্লস স্কুলের একটি ডরমিটরিতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ছাত্রাবাসে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ডরমিটরিতে প্রায় ২২০ শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল। ঘটনাাস্থলে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, আহতদের দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানা গেছে। আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি এখনো।

তবে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে জরুরি সহায়তা দিতে কাজ করছেন কেনিয়া রেড ক্রসের সদস্যরা।

পুলিশ কমান্ডার মাসউদ মুইনি বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। পুরো স্কুল এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। বর্তমানে শুধু অভিভাবকদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলে আসা অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

ওয়াম্বুই নদেরিতু নামে এক নারী, যার ভাতিজি ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বলেন, আমরা স্কুলে পৌঁছানোর পর আমাদের সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়াতে বলা হয়। তখন সবাই আতঙ্কিত ছিল। কারণ শুনেছিলাম কিছু শিক্ষার্থী মারা গেছে এবং অনেকে হাসপাতালে ভর্তি। তিনি জানান, আগুন থেকে বাঁচতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ওপরতলা থেকে লাফ দেয়। এতে গুরুতর আহত হয় অনেকে। তার ভাতিজি আগুন থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও ভেঙে গেছে একটি পা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেনিয়ার আবাসিক বিদ্যালয়গুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা একাধিক ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাত্রাবাসে অতিরিক্ত ভিড় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণেই হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায় অগ্নিকাণ্ডে। ২০০১ সালে নাইরোবির অদূরে কিয়াঙ্গুলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিল, অগ্নিসংযোগের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল বলে দাবি করেছিল কর্তৃপক্ষ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী

কেনিয়ায় স্কুলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ শিক্ষার্থীর প্রাণহানি, আহত ৭৯

আপডেট সময় ০৩:২০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে একটি আবাসিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে আরো ৭৯ জন আহত হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ।

কেনিয়া রেড ক্রস ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোররাতে রাজধানী থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার পশ্চিমের গিলগিল এলাকায় উতুমিশি গার্লস স্কুলের একটি ডরমিটরিতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ছাত্রাবাসে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ডরমিটরিতে প্রায় ২২০ শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল। ঘটনাাস্থলে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, আহতদের দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানা গেছে। আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি এখনো।

তবে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে জরুরি সহায়তা দিতে কাজ করছেন কেনিয়া রেড ক্রসের সদস্যরা।

পুলিশ কমান্ডার মাসউদ মুইনি বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। পুরো স্কুল এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। বর্তমানে শুধু অভিভাবকদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলে আসা অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

ওয়াম্বুই নদেরিতু নামে এক নারী, যার ভাতিজি ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বলেন, আমরা স্কুলে পৌঁছানোর পর আমাদের সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়াতে বলা হয়। তখন সবাই আতঙ্কিত ছিল। কারণ শুনেছিলাম কিছু শিক্ষার্থী মারা গেছে এবং অনেকে হাসপাতালে ভর্তি। তিনি জানান, আগুন থেকে বাঁচতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ওপরতলা থেকে লাফ দেয়। এতে গুরুতর আহত হয় অনেকে। তার ভাতিজি আগুন থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও ভেঙে গেছে একটি পা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেনিয়ার আবাসিক বিদ্যালয়গুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা একাধিক ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাত্রাবাসে অতিরিক্ত ভিড় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণেই হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায় অগ্নিকাণ্ডে। ২০০১ সালে নাইরোবির অদূরে কিয়াঙ্গুলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিল, অগ্নিসংযোগের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল বলে দাবি করেছিল কর্তৃপক্ষ।