আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
নরসিংদীর সদর উপজেলার একটি এলাকায় ‘ধর্ষণের অভিযোগ’ নিয়ে বসা সালিশ চলাকালে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক তরুণী। শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই তরুণীর বিয়ে হয়েছিল পাশের শিবপুর উপজেলায়। পরে একই এলাকার এক যুবক তাকে বিয়ের আশ্বাস দেন। পরিবারের অভিযোগ, সেই আশ্বাসে তরুণী স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদে রাজি হন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই যুবক তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তবে পরে বিয়েতে অস্বীকৃতি জানান।
এ ঘটনায় তরুণীর পরিবার আইনি পদক্ষেপ নিতে চাইলে স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুক্রবার বিকেলে নরসিংদীর সদর উপজেলার একটি গ্রামে ওই সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, সেখানে একজন পুলিশ সদস্যও ছিলেন।
তরুণীর পরিবারের সদস্যদের দাবি, সালিশে বিয়ের পরিবর্তে ৫০ হাজার টাকায় সমঝোতার প্রস্তাব ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তরুণী। একপর্যায়ে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন।
তরুণীর মা বলেন, ‘আমার মেয়ের সংসার ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিয়ের কথা বলে তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আমরা বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো টাকার বিনিময়ে মীমাংসার কথা শুনেছি। ওই কথা শুনেই মেয়ে এমন কাজ করেছে।’
নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘সন্ধ্যায় অচেতন অবস্থায় এক তরুণীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
সালিশে উপস্থিত থাকার বিষয়ে জেলা বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক আউলাদ হোসেন মোল্লা বলেন, অল্প সময়ের জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। তার দাবি, ‘উভয় পক্ষের কথা শুনে পরে জানতে পারি, বেশির ভাগ লোক বিয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন।’
এদিকে ওই পুলিশ সদস্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি সালিশের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। কিন্তু সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম আর আল মামুন বলেন, ‘সালিশে পুলিশের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এ ঘটনায় আমরা একটি মৌখিক অভিযোগ পেয়েছিলাম, লিখিত অভিযোগ পাইনি।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















