ঢাকা ০২:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বেতন বৃদ্ধির সমান্তরালে দুর্নীতি দমনেও কঠোর হতে হবে: মুনীর চৌধুরী আছিয়া-রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি চাইলেন অ্যাটর্নি জেনারেল দুর্ভিক্ষপীড়িত রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন জিয়াউর রহমান: মির্জা ফখরুল মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সোহেল-স্বপ্নার জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ খুলনায় নামাজের সময় মসজিদে ঢুকে গুলি, দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ শিক্ষা ব্যয় তলানিতে, দারিদ্র্যে নতুন রেকর্ড পাকিস্তানের বাড়িতে মিলল মা-মেয়ের লাশ, আহত ৫ বছরের শিশু আজই চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা ট্রাম্পের, ভিন্ন সুর ইরানের ভারতে একই পরিবারের ৪ সদস্যের আত্মহত্যা শিক্ষকদের অবসর সুবিধা দিতে শিক্ষামন্ত্রীর নতুন উদ্যোগ

বিরল রোগাক্রান্ত সখীপুরের এই পিতাপুত্র

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপুর গ্রামের বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন পিতা বিল্লাল হোসেন (৫০) ও পুত্র মাসুদ রানা (১৮)। অর্থাভাবে সু-চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত তারা। পরিবার পরিজন নিয়ে নিদারুণ কষ্টে জীবন কাটাচ্ছেন বিল্লাল হোসেন।

বিল্লালের ডান চোখের ব্রু থেকে মুখমণ্ডল ও গালজুড়ে পুরো অংশ ছেপে গেছে বড় আকারের টিউমারের মত হয়ে। বাম চোখেও এরকম হওয়ার পথে। কপাল, মুখ, গলদেশসহ শরীরে বিভিন্ন অংশে অসংখ্য টিউমার জাতীয় গুটি রয়েছে। কোনোমতে চোখে দেখতে পান তিনি। বিল্লাল হোসেন পেশায় একজন কৃষক। মা, স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তান নিয়ে তার পরিবার।

তার বড় ছেলে মাসুদ রানারও জন্ম থেকেই তার মতো এ রোগটি হয়েছে। ছেলের বাম চোখের ওপরে টিউমার জাতীয় এ রোগটিও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় হচ্ছে। ছেলেরও চোখের ব্রু থেকে মুখের গালজুড়ে ছেপে থাকায় চোখে কম দেখছেন। ছেলে মাসুদের শরীরে বিভিন্ন অংশে ছোট ছোট টিউমারের মতো গুটি রয়েছে। অনেক আগে নিজে ময়মনসিংহে আর ছেলেকে ঢাকায় ডাক্তার দেখালেও কি রোগ বা চিকিত্সা সংক্রান্ত বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেনি বিল্লাল হোসেন। নিয়তি ভেবেই দিনাতিপাত চলছে পিতাপুত্রের।

কৃষক বিল্লাল হোসেনের জানান, জন্ম থেকেই তার এ রোগ। তখন ছোট ছোট মসুর দানার মতো লক্ষণ দেখা যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় হতে থাকে। আগুন বা রোদের তাপ বাপ-বেটা কেউ সহ্য করতে পারেন না। মাথা ও মুখ ভারী ভারী লাগে। আমি খুব খারাপ বোধ করি। চিন্তা করি আমার এ রোগ হয়েছে। কিন্তু আমার ছেলেকে কেনো এমন কঠিন রোগে ভুগতে হচ্ছে; ওর ভবিষ্যত্ নষ্ট হয়ে গেল। এ রোগের কারণে লেখাপড়া করতে পারল না। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে আর সে স্কুলে গেল না। স্কুলে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে পারে না; মুখ দেখতে বিশ্রী এসব কিছুতে মাসুদকে ভাবিয়ে তুলতো। আর এসব কারণে তার পড়ালেখা ভাল লাগেনি। এদিক ওদিক গেলে বাচ্চারা যখন দেখে তারা ভয় পায়।

বিল্লালের বৃদ্ধা মা সুরুত জান বেগম বলেন, তাদের পূর্ব পুরুষের বংশে এ ধরনের রোগের লক্ষণ ছিল না। তার ছেলে বিল্লালের জন্মকালে চোখের ব্রু’র ওপরে একটু ফুলা ও একটি কালো জন্ম দাগ দেখা যায়। নাতিরও একই অবস্থা দেখা যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছেলে ও নাতির এ রোগটি টিউমারের মতো হয়ে বড় হতে থাকে। তিনি ছেলে বিল্লাল ও নাতী মাসুদের উন্নত চিকিত্সার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের কাছে আকুল আবেদন জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বেতন বৃদ্ধির সমান্তরালে দুর্নীতি দমনেও কঠোর হতে হবে: মুনীর চৌধুরী

বিরল রোগাক্রান্ত সখীপুরের এই পিতাপুত্র

আপডেট সময় ০৪:১০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপুর গ্রামের বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন পিতা বিল্লাল হোসেন (৫০) ও পুত্র মাসুদ রানা (১৮)। অর্থাভাবে সু-চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত তারা। পরিবার পরিজন নিয়ে নিদারুণ কষ্টে জীবন কাটাচ্ছেন বিল্লাল হোসেন।

বিল্লালের ডান চোখের ব্রু থেকে মুখমণ্ডল ও গালজুড়ে পুরো অংশ ছেপে গেছে বড় আকারের টিউমারের মত হয়ে। বাম চোখেও এরকম হওয়ার পথে। কপাল, মুখ, গলদেশসহ শরীরে বিভিন্ন অংশে অসংখ্য টিউমার জাতীয় গুটি রয়েছে। কোনোমতে চোখে দেখতে পান তিনি। বিল্লাল হোসেন পেশায় একজন কৃষক। মা, স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তান নিয়ে তার পরিবার।

তার বড় ছেলে মাসুদ রানারও জন্ম থেকেই তার মতো এ রোগটি হয়েছে। ছেলের বাম চোখের ওপরে টিউমার জাতীয় এ রোগটিও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় হচ্ছে। ছেলেরও চোখের ব্রু থেকে মুখের গালজুড়ে ছেপে থাকায় চোখে কম দেখছেন। ছেলে মাসুদের শরীরে বিভিন্ন অংশে ছোট ছোট টিউমারের মতো গুটি রয়েছে। অনেক আগে নিজে ময়মনসিংহে আর ছেলেকে ঢাকায় ডাক্তার দেখালেও কি রোগ বা চিকিত্সা সংক্রান্ত বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেনি বিল্লাল হোসেন। নিয়তি ভেবেই দিনাতিপাত চলছে পিতাপুত্রের।

কৃষক বিল্লাল হোসেনের জানান, জন্ম থেকেই তার এ রোগ। তখন ছোট ছোট মসুর দানার মতো লক্ষণ দেখা যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় হতে থাকে। আগুন বা রোদের তাপ বাপ-বেটা কেউ সহ্য করতে পারেন না। মাথা ও মুখ ভারী ভারী লাগে। আমি খুব খারাপ বোধ করি। চিন্তা করি আমার এ রোগ হয়েছে। কিন্তু আমার ছেলেকে কেনো এমন কঠিন রোগে ভুগতে হচ্ছে; ওর ভবিষ্যত্ নষ্ট হয়ে গেল। এ রোগের কারণে লেখাপড়া করতে পারল না। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে আর সে স্কুলে গেল না। স্কুলে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে পারে না; মুখ দেখতে বিশ্রী এসব কিছুতে মাসুদকে ভাবিয়ে তুলতো। আর এসব কারণে তার পড়ালেখা ভাল লাগেনি। এদিক ওদিক গেলে বাচ্চারা যখন দেখে তারা ভয় পায়।

বিল্লালের বৃদ্ধা মা সুরুত জান বেগম বলেন, তাদের পূর্ব পুরুষের বংশে এ ধরনের রোগের লক্ষণ ছিল না। তার ছেলে বিল্লালের জন্মকালে চোখের ব্রু’র ওপরে একটু ফুলা ও একটি কালো জন্ম দাগ দেখা যায়। নাতিরও একই অবস্থা দেখা যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছেলে ও নাতির এ রোগটি টিউমারের মতো হয়ে বড় হতে থাকে। তিনি ছেলে বিল্লাল ও নাতী মাসুদের উন্নত চিকিত্সার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের কাছে আকুল আবেদন জানান।