ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলেমদের ওপর জুলুম বরদাশত করা হবে না: ধর্মমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, আলেম-ওলামাদের ওপর কোনো ধরনের অবিচার, নির্যাতন বা জুলুম মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতেও তিনি প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন।

আজ রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ‘কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে আলেম-ওলামাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসাগুলো যেন কোনোভাবে বঞ্চনার শিকার না হয় এবং আলেম সমাজের প্রতি যেন অবিচার না করা হয়— সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকার সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে সক্রিয় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘ওলামায়ে কেরামদের জন্যই ইসলাম টিকে আছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকবে। ইসলামের প্রচার ও মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য কারও সাহায্যের প্রয়োজন নেই; আল্লাহ তায়ালাই এগুলোকে হেফাজত করবেন।’

আলেম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, দেশের পীর-মাশায়েখ, কওমি আলেম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হলে জাতির জন্য অনেক কল্যাণকর কাজ সম্ভব।

চামড়া সংরক্ষণে সচেতনতার আহ্বান:
কোরবানির পশুর চামড়ার যথাযথ সংরক্ষণে আলেমদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অতীতে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক জায়গায় চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন পরিস্থিতি যেন আর না ঘটে, সে বিষয়ে আলেম সমাজকে সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

চামড়ার গুণগত মান ঠিক রাখতে সঠিকভাবে চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ধর্মমন্ত্রী। পাশাপাশি চামড়া সিন্ডিকেট ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান।

জিয়াউর রহমানের গণভোটে আলেমদের ভূমিকার স্মরণ:
বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী ১৯৭৯ সালের গণভোটে আলেম সমাজের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সে সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী না থাকলেও দেশের পীর-মাশায়েখ, কওমি আলেম ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর পক্ষে কাজ করেছিলেন এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে তাকে বিজয়ী করেছিলেন।

তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কওমি আলেম-ওলামাদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রসঙ্গ:
ধর্মমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় কোনো সরকারই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মরত ব্যক্তিদের এ ভাতার আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ইফা সচিব শেখ মুর্শিদুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. মুহাম্মদ হারুনুর রশীদ, মুহাদ্দিস ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান, জামিয়া ফোরকানিয়া লালবাগ মাদ্রাসার মুহাদ্দিস হাফেজ মুফতি যুবায়ের আহমদ এবং আজিমপুর ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন মাদ্রাসার মুহতামিম, শিক্ষক, খতিব, ইমাম ও ওলামা-মাশায়েখরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যানোটেকনোলজি ছাড়া টেকসই টেক্সটাইল শিল্প গড়া কঠিন: প্রতিমন্ত্রী হাবিব

আলেমদের ওপর জুলুম বরদাশত করা হবে না: ধর্মমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, আলেম-ওলামাদের ওপর কোনো ধরনের অবিচার, নির্যাতন বা জুলুম মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতেও তিনি প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন।

আজ রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ‘কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে আলেম-ওলামাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসাগুলো যেন কোনোভাবে বঞ্চনার শিকার না হয় এবং আলেম সমাজের প্রতি যেন অবিচার না করা হয়— সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকার সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে সক্রিয় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘ওলামায়ে কেরামদের জন্যই ইসলাম টিকে আছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকবে। ইসলামের প্রচার ও মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য কারও সাহায্যের প্রয়োজন নেই; আল্লাহ তায়ালাই এগুলোকে হেফাজত করবেন।’

আলেম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, দেশের পীর-মাশায়েখ, কওমি আলেম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হলে জাতির জন্য অনেক কল্যাণকর কাজ সম্ভব।

চামড়া সংরক্ষণে সচেতনতার আহ্বান:
কোরবানির পশুর চামড়ার যথাযথ সংরক্ষণে আলেমদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অতীতে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক জায়গায় চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন পরিস্থিতি যেন আর না ঘটে, সে বিষয়ে আলেম সমাজকে সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

চামড়ার গুণগত মান ঠিক রাখতে সঠিকভাবে চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ধর্মমন্ত্রী। পাশাপাশি চামড়া সিন্ডিকেট ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান।

জিয়াউর রহমানের গণভোটে আলেমদের ভূমিকার স্মরণ:
বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী ১৯৭৯ সালের গণভোটে আলেম সমাজের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সে সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী না থাকলেও দেশের পীর-মাশায়েখ, কওমি আলেম ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর পক্ষে কাজ করেছিলেন এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে তাকে বিজয়ী করেছিলেন।

তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কওমি আলেম-ওলামাদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রসঙ্গ:
ধর্মমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় কোনো সরকারই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মরত ব্যক্তিদের এ ভাতার আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ইফা সচিব শেখ মুর্শিদুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. মুহাম্মদ হারুনুর রশীদ, মুহাদ্দিস ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান, জামিয়া ফোরকানিয়া লালবাগ মাদ্রাসার মুহাদ্দিস হাফেজ মুফতি যুবায়ের আহমদ এবং আজিমপুর ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন মাদ্রাসার মুহতামিম, শিক্ষক, খতিব, ইমাম ও ওলামা-মাশায়েখরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।