ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এ বছর কত টাকা থাকলে কুরবানি দেওয়া ওয়াজিব?

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কুরবানি শুধু পশু জবাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, আত্মত্যাগ এবং তাকওয়ার এক অনন্য প্রকাশ। প্রতি বছর জিলহজ মাস ঘনিয়ে এলে মুসলমানদের মনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে— কতটুকু সম্পদ থাকলে কুরবানি দেওয়া আবশ্যক হয়?

অনেকেই মনে করেন, শুধু ধনী ব্যক্তিদের জন্যই কুরবানি ওয়াজিব। আবার কেউ কেউ নিজের সম্পদের সঠিক হিসাব না জানার কারণে দ্বিধায় পড়ে যান। অথচ ইসলাম অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে কুরবানির সামর্থ্যের মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছে।

পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে কুরবানির নেসাব, কার ওপর কুরবানি ওয়াজিব এবং এ বছর আনুমানিক কত টাকা থাকলে কুরবানি করতে হবে—তা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—

কুরবানি কার ওপর ওয়াজিব?

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ফজর থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জুমার নামাজ ফরজ হওয়ার শর্তাবলি যার মধ্যে পাওয়া যাবে, তার যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে। অর্থাৎ—

> ব্যক্তিকে মুসলিম হতে হবে।

> সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ও প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে।

> ১০ থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

‘অতএব তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় কর এবং কুরবানি কর।’ (সুরা আল-কাউসার: আয়াত ২)

এই আয়াত কুরবানির গুরুত্ব ও তা আদায়ের নির্দেশনা বহন করে।

কুরবানির নেসাব ও সম্পদের হিসাব

কুরবানির নেসাব হলো—

> স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি

অথবা

> রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি

বর্তমান সময়ে রুপার দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় অধিকাংশ ফকিহ রুপার নেসাবকেই মানদণ্ড হিসেবে ধরেছেন।

তাই কারও কাছে যদি—

> সাড়ে ৫২ ভরি রুপা অথবা এর সমমূল্যের নগদ টাকা

> সোনা

> অলংকার

> ব্যবসায়িক পণ্য

> প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ (যেমন—অতিরিক্ত জমি, বাড়ি, গাড়ি বা আসবাব) থাকে, তবে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে।

এ বছর কত টাকা থাকলে কোরবানি দিতে হবে?

নেসাবের পরিমাণ টাকা মূলত রুপার বাজারদরের ওপর নির্ভর করে। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী, সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা প্রায় ৩ হাজার ৫৬৮ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। সে হিসাবে সাড়ে ৫২ ভরি রুপার মূল্য আনুমানিক ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৫ টাকার আশপাশে।

অর্থাৎ— ১০ থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে সব প্রয়োজনীয় খরচ ও ঋণ বাদ দেওয়ার পর যদি কারও কাছে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৫ টাকা অথবা সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তবে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে।

তবে মনে রাখতে হবে, কুরবানির দিনগুলোতে রুপার দাম কিছুটা কমবেশি হতে পারে। তাই ওই সময়কার বাজারদর অনুযায়ী নেসাবের হিসাব নির্ধারণ করতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৯৬)

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যানোটেকনোলজি ছাড়া টেকসই টেক্সটাইল শিল্প গড়া কঠিন: প্রতিমন্ত্রী হাবিব

এ বছর কত টাকা থাকলে কুরবানি দেওয়া ওয়াজিব?

আপডেট সময় ০৮:২৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কুরবানি শুধু পশু জবাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, আত্মত্যাগ এবং তাকওয়ার এক অনন্য প্রকাশ। প্রতি বছর জিলহজ মাস ঘনিয়ে এলে মুসলমানদের মনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে— কতটুকু সম্পদ থাকলে কুরবানি দেওয়া আবশ্যক হয়?

অনেকেই মনে করেন, শুধু ধনী ব্যক্তিদের জন্যই কুরবানি ওয়াজিব। আবার কেউ কেউ নিজের সম্পদের সঠিক হিসাব না জানার কারণে দ্বিধায় পড়ে যান। অথচ ইসলাম অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে কুরবানির সামর্থ্যের মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছে।

পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে কুরবানির নেসাব, কার ওপর কুরবানি ওয়াজিব এবং এ বছর আনুমানিক কত টাকা থাকলে কুরবানি করতে হবে—তা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—

কুরবানি কার ওপর ওয়াজিব?

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ফজর থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জুমার নামাজ ফরজ হওয়ার শর্তাবলি যার মধ্যে পাওয়া যাবে, তার যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে। অর্থাৎ—

> ব্যক্তিকে মুসলিম হতে হবে।

> সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ও প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে।

> ১০ থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

‘অতএব তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় কর এবং কুরবানি কর।’ (সুরা আল-কাউসার: আয়াত ২)

এই আয়াত কুরবানির গুরুত্ব ও তা আদায়ের নির্দেশনা বহন করে।

কুরবানির নেসাব ও সম্পদের হিসাব

কুরবানির নেসাব হলো—

> স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি

অথবা

> রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি

বর্তমান সময়ে রুপার দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় অধিকাংশ ফকিহ রুপার নেসাবকেই মানদণ্ড হিসেবে ধরেছেন।

তাই কারও কাছে যদি—

> সাড়ে ৫২ ভরি রুপা অথবা এর সমমূল্যের নগদ টাকা

> সোনা

> অলংকার

> ব্যবসায়িক পণ্য

> প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ (যেমন—অতিরিক্ত জমি, বাড়ি, গাড়ি বা আসবাব) থাকে, তবে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে।

এ বছর কত টাকা থাকলে কোরবানি দিতে হবে?

নেসাবের পরিমাণ টাকা মূলত রুপার বাজারদরের ওপর নির্ভর করে। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী, সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা প্রায় ৩ হাজার ৫৬৮ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। সে হিসাবে সাড়ে ৫২ ভরি রুপার মূল্য আনুমানিক ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৫ টাকার আশপাশে।

অর্থাৎ— ১০ থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে সব প্রয়োজনীয় খরচ ও ঋণ বাদ দেওয়ার পর যদি কারও কাছে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৫ টাকা অথবা সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তবে তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে।

তবে মনে রাখতে হবে, কুরবানির দিনগুলোতে রুপার দাম কিছুটা কমবেশি হতে পারে। তাই ওই সময়কার বাজারদর অনুযায়ী নেসাবের হিসাব নির্ধারণ করতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৯৬)