ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এনসিপিকে বলব, দ্রুত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ডোপ টেস্ট করুন: রাশেদ খাঁন একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প ২৭তম বিসিএসের আরও ৯৬ জনকে নিয়োগ দিল সরকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে ‌‘সোলার প্ল্যান্ট’ বসানো হবে: শিক্ষামন্ত্রী ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা বহন করছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী সোনিয়া গান্ধী হাসপাতালে ভর্তি, করা হবে অস্ত্রোপচার শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিচার শুরুর আদেশ আবু হত্যা মামলায় আ.লীগ নেতাসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, ছয়জনের যাবজ্জীবন ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত মরদেহ:‘হত‍্যা’ না ‘আত্মহত্যা’ জানতে ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষা ট্রাম্পের চীন সফরের আগ মুহূর্তে ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার খবর দিল রাশিয়া

প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় যুক্ত হচ্ছে নারীরা

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

পবিত্র কুরআনের খেদমতে নতুন এক ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে সৌদি আরব। দেশটির ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বজুড়ে সম্মানিত ‘বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন হিফজ, তেলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতা’-য় এবার প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয়েছে নারী বিভাগ। ফলে আসন্ন ৪৬তম আসরে নারী প্রতিযোগীরাও আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ সম্প্রতি এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছেন। রোববার (১০ মে) সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)-এর বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে আরব নিউজ।

প্রতিবছর মক্কার পবিত্র মসজিদ আল-হারামে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা মুসলিম বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কুরআনিক আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

এসপিএ জানায়, সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রী শায়খ ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজের একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই অনুমোদন দিয়েছেন বাদশাহ সালমান। ১৯৭৯ সালে প্রতিযোগিতাটি চালুর পর এবারই প্রথম নারী হাফেজদের জন্য সরকারিভাবে অংশগ্রহণের দ্বার খুলে দেওয়া হলো।

সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগকে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে ‘একটি বড় মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, এর মাধ্যমে বিশ্বের নারী ও পুরুষ— উভয় শ্রেণির কুরআনের খাদেমদের জন্য সমানভাবে এই আন্তর্জাতিক মঞ্চ উন্মুক্ত হলো।

জানা গেছে, এ বছরের প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট।

মন্ত্রী ড. আবদুল লতিফ আল-শেখ এই সিদ্ধান্তের জন্য বাদশাহ সালমান এবং ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ পবিত্র কুরআনের প্রচার ও প্রসারে সৌদি নেতৃত্বের আন্তরিকতার প্রতিফলন। পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের মেধা, যোগ্যতা ও অবদানের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিরও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, আসন্ন প্রতিযোগিতাকে ঘিরে ইতোমধ্যে সব ধরনের সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এবারের আয়োজনকে আরও নিখুঁত, সুশৃঙ্খল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য সৌদি আরবের মক্কায় আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রতি বছর বিশ্বের শতাধিক দেশ থেকে নির্বাচিত হাফেজরা অংশগ্রহণ করেন। নারী বিভাগ চালুর ফলে এবারের আসরটি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বৈচিত্র্যময়, অংশগ্রহণমূলক ও ঐতিহাসিক হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় যুক্ত হচ্ছে নারীরা

আপডেট সময় ০৩:৪০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

পবিত্র কুরআনের খেদমতে নতুন এক ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে সৌদি আরব। দেশটির ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বজুড়ে সম্মানিত ‘বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন হিফজ, তেলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতা’-য় এবার প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয়েছে নারী বিভাগ। ফলে আসন্ন ৪৬তম আসরে নারী প্রতিযোগীরাও আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ সম্প্রতি এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছেন। রোববার (১০ মে) সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)-এর বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে আরব নিউজ।

প্রতিবছর মক্কার পবিত্র মসজিদ আল-হারামে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা মুসলিম বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কুরআনিক আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

এসপিএ জানায়, সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রী শায়খ ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজের একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই অনুমোদন দিয়েছেন বাদশাহ সালমান। ১৯৭৯ সালে প্রতিযোগিতাটি চালুর পর এবারই প্রথম নারী হাফেজদের জন্য সরকারিভাবে অংশগ্রহণের দ্বার খুলে দেওয়া হলো।

সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগকে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে ‘একটি বড় মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, এর মাধ্যমে বিশ্বের নারী ও পুরুষ— উভয় শ্রেণির কুরআনের খাদেমদের জন্য সমানভাবে এই আন্তর্জাতিক মঞ্চ উন্মুক্ত হলো।

জানা গেছে, এ বছরের প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট।

মন্ত্রী ড. আবদুল লতিফ আল-শেখ এই সিদ্ধান্তের জন্য বাদশাহ সালমান এবং ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ পবিত্র কুরআনের প্রচার ও প্রসারে সৌদি নেতৃত্বের আন্তরিকতার প্রতিফলন। পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের মেধা, যোগ্যতা ও অবদানের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিরও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, আসন্ন প্রতিযোগিতাকে ঘিরে ইতোমধ্যে সব ধরনের সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এবারের আয়োজনকে আরও নিখুঁত, সুশৃঙ্খল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য সৌদি আরবের মক্কায় আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রতি বছর বিশ্বের শতাধিক দেশ থেকে নির্বাচিত হাফেজরা অংশগ্রহণ করেন। নারী বিভাগ চালুর ফলে এবারের আসরটি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বৈচিত্র্যময়, অংশগ্রহণমূলক ও ঐতিহাসিক হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।